শিশুর শরীরে মালিশ, আপনার স্পর্শের শক্তি তাকে করবে মজবুত

শিশুর শরীরে ম্যাসাজ
106438504 © Oksana Demchyna | Dreamstime.com

একটি শিশুর জন্মের পর তার জন্য মাতৃদুগ্ধ যেমনটা জরুরি, ঠিক তেমনটাই জরুরি তাকে নিয়মিত মালিশ বা ম্যাসাজ করা। চিকিৎসকরাও সদ্যোজাত শিশুর পরিবারকে শিশুকে মালিশ বা ম্যাসাজ করানোর জন্য পরামর্শ দেন।

শিশুদের মালিশ বা ম্যাসাজের উপকারিতা

শিশুদের জন্য মালিশ বা ম্যাসাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নিবন্ধে আমরা মোটামুটি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব যে, এই মালিশের ফলে শিশুরা কী কী উপকারিতা লাভ করে থাকে।

-ম্যাসাজের ফলে শিশুদের ঘুম ভালো হয়

শিশুদের ভালো ঘুম হওয়ার জন্য মালিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ঘুমের আগে শিশুর শরীরে ম্যাসাজ করা হলে তাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে মালাটোনিন হরমোন উৎপন্ন হয়। শিশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই হরমোন ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

-শিশুদের মাংসপেশীতে আরাম ও ক্লান্তি দূর হয়

সঠিক পদ্ধতিতে শিশুর শরীরে ম্যাসাজ করলে সহজেই শিশুদের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ম্যাসাজের ফলে শিশুদের শরীরে অক্সিটক্সিন হরমোন উৎপন্ন হয়। যার কারণে শিশুরা খুব সহজেই খুশি হয়। এর পাশাপাশি ম্যাসাজের ফলে তাদের শরীরে ক্লান্তি উদ্রেককারী হরমোন দূর হয়ে যায়। এছাড়া, সঠিক ম্যাসাজ শিশুদের মাংসপেশীকে আরাম দিতেও সাহায্য করে।

-মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বৃদ্ধি পায়

বিভিন্ন গবেষণায় এটা প্রমাণ হয়েছে যে, শিশুদের যেভাবে স্পর্শ করা হয়, তা তাদের মানসিক এবং শারীরিক বিকাশে প্রভাব ফেলে।

-স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে পেশী মজবুত হয়

শিশুদের শরীরে তেল মালিশ করলে সহজেই তাদের স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়। এর ফলে তাদের মাংসপেশী মজবুত হয় ও তাতে সমন্বয় বজায় থাকে।

-পাচন, রক্ত সঞ্চালন ও শ্বাস-প্রশ্বাস ত্বরান্বিত হয়

শিশুকে সঠিকভাবে ম্যাসাজ করলে অনেকসময় তারা কান্নাকাটি অনেক ক্ষেত্রেই কম করে। এর দরূন তাদের পাচন ও হজম ক্ষমতা বাড়ে এবং রক্ত সঞ্চালন খুব ভালো ভাবে হতে পারে। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও তাদের কোনো সমস্যা হয় না। পাশাপাশি ম্যাসাজ করলে তাদের পেটে গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের অসুবিধাও দূর হয়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অসুস্থ শিশদের যদি নিয়মিত ম্যাসাজ করা হয়, তারা অনেক দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। ফলে ম্যাসাজ না পাওয়া শিশুদের তুলনায় তাদের অনেক কম সময় হাসপাতালে থাকতে হয়। এছাড়াও ম্যাসাজ পাওয়া শিশুরা বিভিন্ন শারীরিক কিংবা মানসিক উন্নয়নমূলক পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল করেছে।

শিশুকে কোন বয়স থেকে মালিশ বা ম্যাসাজ করবেন?

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিশুর জন্মের চার সপ্তাহ পর থেকে তার শরীরে ম্যাসাজ বা মালিশ শুরু করা উচিত। অনেক চিকিৎসকরা আবার এটি বলেন যে, শিশুর বয়স ছয় সপ্তাহ না হওয়া অবধি তেল মালিশ করা উচিত না। তবে প্রত্যেক শিশুর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। তাই শিশুর ম্যাসাজ শুরু করার আগে অবশ্যই ভালো কোনো চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত । তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন শিশুদের নাভিমূল ভেঙে আলাদা হয়ে শুকিয়ে যাওয়ার পরই তাদের পেটে মালিশ করা হয়।

শিশুর ম্যাসাজ বা মালিশ নিয়ে কিছু জরুরি টিপস

  • শিশুর শরীরে সঠিকভাবে ম্যাসাজ করলে তার শারীরিক বিকাশ ভালো ভাবে হয়ে থাকে। তাই সঠিকভাবে ম্যাসাজের জন্য কিছু নিম্নে টিপস উল্লেখ করা হল।
  • বাচ্চার শরীরে ম্যাসাজ বা মালিশের জন্য কখনোই খুব ঠাণ্ডা তেল ব্যবহার করবেন না। আর যদি সময়টি শীতকাল হয় বা আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকে, তাহলে আপনি মালিশের তেল সহিষ্ণু পরিমাণ হালকা করে গরম করে নিতে পারেন।
  • আপনার শিশুকে তেল মালিশের সময় তার চোখের দিকে তাকান। এর ফলে আপনার ও শিশুর মধ্যে ‘দৃষ্টি সংযোগ’ তৈরি হবে; যা আপনাদের দুজনের সম্পর্ককে দৃঢ় করবে।
  • তেল মালিশ করার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই শিশুকে গোসল করিয়ে দিন বা খুব ঠান্ডা পড়লে শরীর মুছিয়ে দিন। এর থেকে বেশী সময় শিশুর গায়ে তেল লাগিয়ে ফেলে না রাখাটাই ভাল হবে।
  • তেল মালিশ করার সময় খুব সতর্ক থাকবেন, যাতে তেল শিশুর চোখে বা কানে ঢুকে না যায়। এর ফলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে।
  • শিশুকে খাওয়ানো এবং তেল মালিশ করার মধ্যে কমপক্ষে ৩০-৪৫ মিনিটের অন্তর রাখবেন। শিশুকে খাওয়ানোর পরপরই মালিশ করা শুরু করলে শিশুর বমি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা অনেকক্ষেত্রে বদহজম হয়ে থাকে।
  • নরম তোয়ালে পেতে তার উপর শিশুকে শুইয়ে মালিশ করতে পারেন।
  • শিশুর মালিশ শুরু করার পর যদি সে অস্বস্তি বোধ করে, তাহলে সেই মুহূর্তে আর শিশুকে মালিশ করবেন না।