SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শিয়াবে আবি তালেবে মক্কার মুশরিকদের কর্তৃক মুসলমানদের বয়কটের ঘটনা

ইসলামে রূপান্তর ২১ ডিসে. ২০২০
ফিচার
মুসলমানদের বয়কট

ইসলামের শত্রুরা সর্বদাই উদ্দেশ্যের দিক থেকে অসৎ এবং যুক্তির দিক থেকে অসার হয়ে থাকে। ইসলামের দাওয়াত নিয়ে কেউ ময়দানে নামলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সর্বশক্তি দিয়ে তার প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ায়। তারা ইসলামের দাওয়াত প্রদানকারীর যুক্তি-প্রমাণ ও ইনসাফের জবাব দেয় সন্ত্রাসী ও বেইনসাফী দ্বারা।

ইসলামের শুরুর যুগে মক্কাতে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অহরহ কত রকমের যে জুলুম-নির্যাতন চালানো হতো তার বর্ণনা খুবই লোমহর্ষক। এরপর তাঁর সাহাবীদেরকে যে যন্ত্রণা দেওয়া হত তাও পরোক্ষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সংবেদনশীল মনকে দুমড়ে মুচড়ে দিতো। এই নির্যাতনেরই একটি অংশ ছিল মক্কার মুশরিকদের কর্তৃক শিয়াবে আবি তালেবে মুসলমানদের অবরোধের ঘটনা।

মক্কায় ইসলাম গ্রহণের পর এমন কেউ ছিল না যাকে ঈমান আনার কারণে কঠিন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়নি। এভাবে হাজারো জুলুম-নির্যাতনের পরেও যখন মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে বিরত রাখা তো গেলই না বরং দিন দিন মুসলমানদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে লাগলো তখন তারা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল।

মুসলমানদের বয়কটের সূচনা

নবুওয়াতের ৭ম বছরের মুহাররম মাসে মক্কার সব গোত্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে নবীজীর গোত্র বনু হাশেমকে বয়কট করার চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তিতে স্থির করা হলো যে, বনু হাশেম যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের হাতে অর্পিত না করবে এবং তাকে হত্যা করার অধিকার না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে কেউ আত্মীয়তা রাখবে না, বিয়ে-শাদীর সম্পর্ক স্থাপন করবে না, লেনদেন ও মেলামেশা করবে না, কোনো খাদ্যপানীয় তাদের কাছে পৌঁছতে দেবে না।

এই চুক্তির প্রতি যাতে সকলে সম্মান করে সেজন্য তারা চুক্তিটি একটি বাক্সে ঢুকিয়ে তা বাইতুল্লাহ শরীফের গায়ে ঝুলিয়ে দিল। সকল গোত্রের সম্মিলিতভাবে এ সিদ্ধান্তটা ছিল অত্যন্ত মারাত্মক ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ।

বয়কটের সময় মুসলমানদের দুর্বিষহ অবস্থা

এই চুক্তির পর সমগ্র বনু হাশেম গোত্র অসহায় অবস্থায় ‘শিয়াবে আবি তালেব’ নামক উপত্যকায় আটকা হয়ে পড়ল। এই আটক অবস্থার মেয়াদ প্রায় তিন বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছিল। এ সময় তাদের যে দুর্দশার মধ্য দিয়ে সময় কাটে তার বিবরণে পাষাণ হৃদয়ও গলে যায়।

কোনো আয়-উপার্জন করার সুযোগ কারো ছিল না। কেউ বাইরে গিয়ে কারো সঙ্গে কোনো লেনদেনও করতে পারত না। বাইরে থেকে কোনো সাহায্যও আসত না। এমতাবস্থায় খাদ্যাভাবে বনু হাশেমের লোকেরা শুকনা চামড়া সিদ্ধ করে আগুনে ভেজে খাওয়া শুরু করে। চামড়া ফুরিয়ে গেলে তাদের একমাত্র খাবার ছিল গাছের পাতা ও ছাল। অবস্থা এতদূর গড়ায় যে, নিষ্পাপ শিশুদের ক্ষুধার যন্ত্রণার চিৎকার বহুদূর থেকে শোনা যেতো। মক্কার কাফেররা এই কান্নার আওয়াজ শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠত। সমগ্র বনু হাশেম শুধুমাত্র ইসলাম মেনে নেওয়ার কারণে এ বন্দীদশায় নিক্ষিপ্ত হলো এবং তারা তা মেনেও নিল।

চুক্তি বাতিলের জন্য আন্দোলন

হিশাম বিন আমর নামক এক ব্যক্তি এই নিপীড়নমূলক চুক্তি বাতিলের জন্য প্রথম উদ্যোগ নেন। সে যুহাইর বিন উমাইয়ার কাছে গিয়ে তাকে বলল, “তুমি কি এতে আনন্দ পাও যে, তুমি খাবে, সুন্দর সুন্দর কাপড় পরবে, বিয়ে-শাদী করবে আর তোমার মামাদের এমন অবস্থা হবে যে তারা কেনাবেচাও করতে পারবে না, বিয়ে-শাদীও করতে পারবে না?” তখন সে বলল, “আমি একা কি করব?” তখন তারা দু’জন পরামর্শ করে লোক সংগ্রহ শুরু করল। তাদের চেষ্টায় আরও কিছু লোক একত্রিত হয়ে এই বয়কট চুক্তি বাতিলের জন্য আন্দোলন শুরু করে দিল।

মো’জেযার বহিঃপ্রকাশ

এরই মাঝে একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চাচা আবু তালেবকে বললেন, “চাচাজান, কুরাইশদের চুক্তিনামার কার্যকারিতা আর নেই। কেননা, ঐ চুক্তিনামায় আল্লাহর নাম ছাড়া বাকী সব কিছু পোকায় খেয়ে ফেলেছে।”

এই কথা শুনে আবু তালেব আবু জাহলের নিকট গিয়ে বলল, “আমার ভাতিজা একটি গায়েবী সংবাদ দিয়েছে। তোমাদের চুক্তিনামার সব শর্তাবলী পোকায় খেয়ে ফেলেছে। কেবলমাত্র আল্লাহর নামটুকুই সেখানে অক্ষত আছে। যদি তাঁর কথা সত্য না হয় তাহলে আমি নিজে তাঁকে তোমাদের হাতে সোপর্দ করে দেবো। আর যদি সত্য হয় তাহলে তাদেরকে এই বন্দীদশা থেকে মুক্তি দিতে হবে”

আবু তালেবের নিকট এই কথা শুনে আবু জাহেল মক্কার সকল সর্দারকে ডেকে এনে চুক্তিপত্রের বাক্সটি খুলে ফেললো। এরপর তারা দেখল নবীজীর কথা সম্পূর্ণ সত্য! এর ফলে ও পূর্ববর্তী আন্দোলনের ফলে তিন বছর পর নবুওয়াতের দশম বছরে সামাজিক বয়কট প্রত্যাহার করতে কুরাইশরা বাধ্য হলো।