SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শীতে শিশুদের রোগমুক্ত রাখতে পাতে কী কী খাবার রাখবেন?

স্বাস্থ্য ২৫ জানু. ২০২১
জানা-অজানা
শীতে শিশুদের
© Boarding1now | Dreamstime.com

শীতকাল মানেই সর্দিকাশি, জ্বর বাচ্চাদের লেগেই থাকে। তার উপর এবারের শীতটা অন্যান্য শীতের চেয়ে একেবারে আলাদা। করোনার কারণে শীতের শুরুতেই বৈজ্ঞানিকরা আগাম সতর্কতাবার্তা জারি করেছিলেন। এমনিতে শীতে শিশুদের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে, ফলে করোনার প্রকোপ নতুন করে বাড়তে পারে, এমন সম্ভাবনা থেকেই যায়। তার উপর সেই আশঙ্কাকে সত্যি করে করোনার সংক্রমণ বাড়ার কারণে ব্রিটেনসহ ইউরোপের একাধিক দেশে শুরু হয়েছে কড়া লকডাউন।

শীতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান

করোনা ছাড়াও শীতে শিশুদের ঠান্ডা লাগার প্রবণতা এমনিতেই থাকে। কখনও কান বা নাকটা হয়তো ঢাকা থাকল না, কিংবা আম্মা-আব্বুকে এড়িয়ে লোভ করে সে আইসক্রিম খেয়ে ফেলল, ব্যস, সঙ্গে-সঙ্গে টনসিল ফুলে গলাব্যথা, সর্দিকাশি, নাক দিয়ে পানি, হাঁচি পড়া শুরু হয়ে যায়! শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো হয় না, আর কী করলে তাদের ঠান্ডা লাগবে আর কী করলে লাগবে না, সেটাও তারা বুঝতে পারে না। ইনফ্লুয়েঞ্জা, ভাইরাল ফিভার যেহেতু খুব ছোঁয়াচে, ফলে সামান্য অসাবধান হলেই শিশুদের মধ্যে সেটি সংক্রমিত হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া শীতে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া, হাঁপানি, অ্যালার্জিজনিত শ্বাসকষ্ট ইত্যাদিও হতে পারে। ফলে শীতে শিশুদের সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে তাদের খাওয়াদাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, এমন খাবার তাদের পাতে বেশি করে রাখা উচিত।

পাতে রাখুন ভিটামিন সি

সর্দিকাশি বা ঠান্ডা লাগা থেকে দূরে থাকতে ভিটামিন সি-র কার্যকারিতা অপরিহার্য। শীতের মরশুমে এমন অনেক টাটকা মরশুমি ফল পাওয়া যায়, যাতে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে। শীতে শিশুদের খাবারের তালিকায় তাই কমলালেবু, আমলা ও পাতিলেবু, বেরির মতো ফল রাখুন। অনেকসময়ে বাচ্চারা কমলালেবু খেতে চায় না। তাদের রস করে লেবু দিতে পারেন। এসময় আমলা পাওয়া যায়। কাঁচা আমলা না পেলে বা শিশু কাঁচা আমলা না খেতে চাইলে আগে থেকে শুকিয়ে নুন দিয়ে জারানো আমলাও তাদের দিতে পারেন। ঠান্ডা বা সর্দিকাশি দূরে রাখতে এটা অব্যর্থ টোটকা। এটি কিন্তু সারাবছরই আপনার বাচ্চাকে দিতে পারেন। এছাড়া ভাতের সঙ্গে মেখে পাতিলেবু খাওয়াতে পারেন। শরীর গরম রাখতে ও ফ্লুকে দূরে রাখতে বেদানাও ভাল কাজ দেয়। ফলে তালিকায় রাখতে পারেন এটি।

শীতে শিশুদের সবুজ শাকসবজি খাওয়ান

শিশুকে শীতের মরশুমি সবজি খাওয়াতে পারেন। এসময় অজস্র সবুজ সবজি বাজারে ওঠে। মেথিশাক, পালংশাক, কড়াইশুঁটি, ধনেপাতা, বিনস, ফুলকপি, ব্রকোলি খাওয়ান। এগুলিতে ভিটামিন এ, সি-র পাশাপাশি থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দিকাশির হাত থেকে তাকে রক্ষা করে। শীতে শিশুদের পালংশাক, ব্রকোলি ইত্যাদি দিয়ে মুখরোচক সুপ বানিয়ে দিতে পারেন। বাচ্চারা সবজি এমনি খেতে না চাইলে শীতের দিনে তাকে গোলমরিচ দিয়ে গরম সুপের লোভ দেখালে সে খাবেই। মনে রাখবেন, গোলমরিচ অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া গরম সুপ গলাব্যথা, সর্দিকাশি থেকেও আরাম দেবে।

কাজে দেবে রঙিন সবজি ও মূলজাতীয় সবজি

খাওয়াতে পারেন গাজর। গাজরে থাকে ভিটামিন এ, যা ইনফেকশন এবং অ্যালার্জির সমস্যা থেকে শীতে শিশুদের মুক্ত রাখে। এছাড়া মিষ্টি আলু, কুমড়োর মতো রঙিন সবজিও খাওয়ান। এইসবে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পেঁয়াজ, রসুন, বিট, মুলোও আপনার শিশুর পাতে রাখতে পারেন, কারণ এইসমস্ত মূলজাতীয় সবজি শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন খুব শক্তিশালী একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা সাধারণ সর্দিকাশি থেকে শিশুকে রক্ষা করে।

মধু-তুলসীপাতার প্রাচীন টোটকা

ছোটবেলায় আমরা ঠান্ডা লাগলে সকালে মধু-তুলসীপাতা খেতাম। আপনার শিশুর ঠান্ডা লেগে থাকলে এই প্রাচীন টোটকাটি নিশ্চিন্তে প্রয়োগ করতে পারেন। মধু শীতে শিশুদের শরীরকে গরম রাখে এবং তুলসীপাতার নানারকম ঔষধিগুণ রয়েছে। এছাড়া এটি যথেষ্ট সহজলভ্যও বটে। ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা কমাতে এই দাওয়াই বেশ কাজের। শরীর গরম রাখার জন্য বাচ্চাকে আদা, তুলসীপাতা দিয়ে চা খাওয়ান।

তালিকায় রাখুন ড্রাইফ্রুটস

বাদাম, ড্রাইফ্রুটস খেতে সব বাচ্চাই ভালবাসে। হাঁপানির সমস্যা, শীতে শ্বাসকষ্ট থাকলে আপনার বাচ্চাটিকে আমন্ড খাওয়ান। এটি সর্দিকাশি দূরে রাখে। এছাড়া আখরোট, কাজু ইত্যাদিও তার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন। বাদামে থাকে প্রোটিন। আর যে-কোনও বাদামই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে নিয়ম করে শীতে শিশুদের বাদাম খাওয়ালে দেখবেন তার ঠান্ডা লাগার ধাত কমছে। খেজুর কিন্তু এক্ষেত্রে খুব ভাল একটি খাবার হতে পারে। সাধারণ ফলের চেয়ে বাচ্চারা খেজুর খেতে বেশি ভালবাসে। খেজুরে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম থাকে। খেজুর শীতে শরীর গরম রাখে, ফলে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কমে।

গুড় দিয়ে কাঁচা হলুদ বা আদা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সর্দিকাশি দূরে রাখতে এটিও একটি অসাধারণ টোটকা। কাঁচা হলুদ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং গুড় কাশি কমাতে যাহায্য করে। শীতের সকালে আপনার শিশুকে ঘুম থেকে উঠিয়ে কাঁচা হলুদ ও গুড়ের এই ঘরোয়া টোটকাটি খাওয়ানো অভ্যেস করে ফেলুন। এছাড়া খাওয়াতে পারেন আদা বা আদার ক্যান্ডি। আদা অতি প্রাচীনকাল থেকেই ঠান্ডা লাগা, ফ্লু, কাশি, হাঁপানি প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সুষম খাবার ডিম

ডিম খেতে সব বাচ্চাই ভালবাসে। ডিমকে সুষম খাদ্য বলা হয়। শুধু শীতেই নয়, সারাবছরই কিন্তু বাচ্চাকে একটি করে ডিম খাওয়াতে পারেন। ডিমে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি ইত্যাদি। ডিমে থাকা পরিপোষক আপনার বাচ্চার রোজকার পুষ্টির জন্য যেমন উপকারী, তেমনই শরীর গরম রাখতেও এবং রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতেও ডিমের জুড়ি নেই।

শীতে শিশুদের কী খাওয়াবেন না?

তবে এর পাশাপাশি রয়েছে এমন কিছু খাবার যা শীতকালে আপনার শিশুকে না খাওয়ানোই ভাল। ভাজাভুজি, ফাস্টফুড, বাইরের খাবার খেতে সব বাচ্চাই খেতে ভালবাসে। কিন্তু এইসমস্ত খাবারে তেল, ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি থাকে যা মিউকাস এবং লালাকে ঘন করে, ফলে গলায় শ্লেষ্মা জমতে পারে। দুধের নানা প্রোডাক্ট এবং অনেকসময় মাংস, বিশেষ করে প্রক্রিয়া করা প্যাকেটজাত মাংসও বাচ্চাদের মধ্যে এই সমস্যা সৃষ্টি করে। ক্যান্ডি, লজেন্স, মিষ্টি জিনিস বাচ্চারা খেতে চাইলে শীতের সময় তাকে এসব থেকে দূরে রাখুন। কারণ বেশি মিষ্টি খেলে তা রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা হ্রাস করে। শ্বেত রক্তকণিকার অভাবে শরীর সহজেই রোগে কাবু হয়ে পড়ে। ঠান্ডা সোডা, কোল্ড ড্রিঙ্কস থেকেও বাচ্চাকে দূরে রাখুন।

তাহলে এবার শীতে আপনার শিশুর পাতে রাখুন পুষ্টিকর খাবার আর তাকে সমস্ত রোগ থেকে দূরে রাখুন।