শুয়াইব আ’লাইহিস সালামের জীবনী থেকে ব্যবসায়িক নীতি সম্পর্কে ৫টি শিক্ষা

dreamstime_s_172982930

হযরত শুয়াইব আলাইহিস সালামকে মাদায়েনের লোকদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। মাদায়েন ছিল একটি উপজাতি এবং তাদের বসবাসকৃত একটি শহরেরও নাম।

শহরটি উত্তর-পশ্চিম আরব উপদ্বীপে দক্ষিণে হিজাজ এবং উত্তরে শামের অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত ছিল। মাদায়েনের লোকেরা ‘বনের অধিসাবী’ হিসেবেও পরিচিত ছিল। যেমনটি সূরা শু’আরার ১৭৬ নং আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে।

মাদায়েনবাসীরা ছিল হযরত ইবরাহিম আ’লাইহিস সালামের তৃতীয় স্ত্রী কাতুরাহর গর্ভস্থ এক পুত্র সন্তানের বংশধর। যদিও মাদায়েনবাসীর প্রত্যেকেই সরাসরি ইবারাহীম আ’লাইহিস সালামের বংশধর ছিল না, তবুও তারা সকলেই গর্বের সাথে এটি দাবি করত। সুতরাং, কোনো দিক থেকেই তারা ইসলাম, নবী হুদ আ’লাইহিস সালাম এবং তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ধারণার সাথে অপরিচিত ছিল না।

মাদায়েনবাসীরা মহান ব্যবসায়ী হিসাবে খ্যাতিমান ছিল। তারা অনেক সমৃদ্ধিশীলতার সাথে বসবাস করত। তাদের নগর পার্থিব সাফল্য ও প্রসন্নতার আভা উপভোগ করে সু-উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়েছিল।

তাদের শহরটি বেশ কয়েকটি বড় বাণিজ্য পথের চৌমাথায় অবস্থিত ছিল। যা তৎকালীন যুগের বিশ্বের কিছু প্রধান বাণিজ্যিক পয়েন্ট যেমন ইয়েমেন, মক্কা, সিরিয়া, ইরাক এবং মিশরের সাথে সংযুক্ত ছিল।

যাইহোক, খুব শীঘ্রই তারা তাদের এই সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অবস্থাকে হারিয়ে ফেলে। খুব বেশিদিন তারা এটিকে ধরে রাখতে পারেনি। তারা সত্য অনুসরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এবং মিথ্যা ও শিরককে আকড়ে ধরেছিল। আল্লাহর একত্ববাদ ও ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে তারা গোমরাহীতে লিপ্ত হয়েছিল। এবং ব্যবসায়ের সাথে তারা লোভ, হিংসা, প্রতারণা এবং চুরির আশ্রয় নিয়েছিল। যা তৎকালীন সময়ে পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ ছিল।

ব্যবসায়িক নীতিশাস্ত্র শেখানো

শুয়াইব আলাইহিস সালামের সময়কালে শিরকের পর তাঁর জাতির সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি ছিল মাপে কম দেওয়া। আল্লাহ তা’আলা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আর মাদায়েনের (অধিবাসীদের) প্রতি তাদের ভাই শুয়াইবকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পুরোপুরি দিও এবং লোকদেরকে তাদের জিনিসপত্র কম দিও না। আর পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর সেখানে (আবার) অশান্তি সৃষ্টি করো না। এটিই তোমাদের জন্য ভালো, যদি তোমরা ঈমানদার হও। (আল কুরআন-৭:৮৫)

আল্লাহর হক ও বান্দার হকের মধ্যে কি চমৎকার মেলবন্ধন। আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদাত করে মাদায়েনবাসী আল্লাহর হক নষ্ট করছিল। আর মাপে কম দিয়ে তারা বান্দার হক নষ্ট করছিল। এটি মদায়েনবাসীর মৌলিক একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর নবীদের কাজই ছিল উম্মাহর মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করা। তাই শুয়াইব আলাইহিস সালাম এ নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন। অবশ্য তাঁর জাতি তাঁর দাওয়াতের যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, তা আজকের সেক্যুলার সমাজ থেকে খুব বেশি ভিন্ন নয়।

তারা বলল, “হে শুয়াইব, তোমার সালাত কি তোমাকে এই আদেশ দেয় যে, আমাদের বাপ-দাদারা যাদের ইবাদাত করতো আমরা তাদের বর্জন করি? অথবা আমাদের ধন-সম্পদের ব্যাপারে আমরা যা করতে চাই তা করা ছেড়ে দেই? তুমি তো দেখছি খুব সহনশীল আর নীতিবান লোক। ” (আল কুরআন-১১:৮৭)

ঠিক যেন আজকের সমাজের সেক্যুলারদের মতো “আরে ভাই সবখানে ধর্ম টেনে আনবেন না তো”। তারা না চেয়েছিল বাপ-দাদার মিথ্যা ধর্ম ছেড়ে আল্লাহর তাওহীদের পথে আসতে, আর না চেয়েছিল ধর্মকে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে প্রবেশাধিকার দিতে। কিন্তু শুয়াইব আলাইহিস সালাম যেহেতু জীবনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়েই আগমন করেছিলেন, তাই এই দ্বন্দ্বটি প্রকট হয়ে উঠেছিল।

নিম্নে শুয়াইব আ’লাইহিস সালামের জীবনী থেকে ব্যবসায়িক নীতি সম্পর্কে ৫টি শিক্ষা উল্লেখ করা হলঃ

-আল্লাহর একত্ববাদকে স্বীকার করে তাঁর ইবাদত করা

-সমস্ত মন্দ কাজের উত্স হল আল্লাহকে অস্বীকার করা

-ব্যবসা এবং ন্যায়বিচার কল্যাণ বয়ে আনে

-ব্যবসা এবং অপকর্ম অকল্যাণ বয়ে আনে

-উদার পুঁজিবাদের উত্স