শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করুন

আকীদাহ Contributor
Dessin blanc et noir, homme vieux
@clemono2 Unsplash

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

“কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার শেষ মুহুর্তে কারও হাতে যদি একটি খেজুর বৃক্ষও থাকে যা সে রোপণ করছিল তবে সে যেন তা রোপণ করে দেয়।” (মুসনাদে আহমাদ)

এই রোপণ করা গাছটি থেকে কেউ কিন্তু কোনো ফল পাবে না কারণ কেয়ামতের শেষ মুহুর্তের কথা এখানে বলা হয়েছে, তবুও এটিকে রোপণ করার কথা কেন বলা হল? এই হাদিসটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকে প্রতিফলিত করে।

একটি সংযুক্ত পথ

দুনিয়ার জন্য এবং আখিরাতের জন্য ভিন্ন কোনো পথ নেই, দুটি পথ একই। আখিরাতের পথকে ‘ইবাদত’ বলা হয় এবং দুনিয়ার পথকে ‘কাজ’ বলে অভিহিত করা হয় বিষয়টি মোটেও এমন নয়।  

দুটির জন্য পথ একটিই আর একটি পথে এসেই দুটি বিষয় মিলিত হয়েছে। এই পথের সূচনা ঘটে এই দুনিয়াতে এবং এর পরিণতি বা শেষ অবস্থান হল আখিরাতে। এটি এমন একটি পথ যেখানে ইবাদত কাজ থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়; ইসলামের দৃষ্টিতে উভয়টি একই জিনিস এবং উভয়টির অবস্থান পাশাপাশি।

একবার মিলিত হয়ে গেলে উভয়ের গন্তব্য ও উদ্দেশ্য একই হয়ে যায়। মুমিনের জন্য দুনিয়ার সকল কাজই ইবাদত এবং ইবাদতের মাধ্যমে দুনিয়াবি কাজও সহজ ও প্রাণবন্ত হয়।

যেমনিভাবে দেহ ও প্রাণকে আলাদাভাবে কল্পনা করা যায় না তেমনিভবে ইবাদত ও কাজকেও আলাদা করা যায় না। ইবাদতের মত কাজের উদ্দেশ্যও যদি আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছা হয়ে যায়, তাহলে প্রতিটা কাজই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।

আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবি তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল!  বিত্তবান লোকেরা সওয়াবের কাজে এগিয়ে গেছে। আমরা নামাজ যেভাবে পড়ি তারাও আমাদের মতো নামাজ পড়ে। আমরা রোজা রাখি তারাও আমাদের মতো রোজা রাখে। তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ সদকা করে।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন জিনিস দান করেননি যা তোমরা সদকা করতে পারো? নিশ্চয়ই সব তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) সদকা, সব তাকবির (আল্লাহু আকবার) সদকা, সব তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) সদকা, সব তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) সদকা, প্রত্যেক ভালো কাজের আদেশ ও উপদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজে নিষেধ করা ও বাধা দেওয়া সদকা। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে অংশে সদকা রয়েছে।’ তাঁরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে কেউ কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করবে আর এতেও কি তার সওয়াব হবে?’ তিনি বললেন, ‘তোমরা বলো দেখি, যদি সে হারাম পদ্ধতিতে তা করত তা হলে কি সে গুনাহগার হতো না? অনুরূপভাবে যখন কেউ বৈধভাবে সে কাজ করবে, সে তার জন্য প্রতিফল ও সওয়াব পাবে।’” (সহিহ মুসলিম)

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত

কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পর হতাশার কোনো স্থান রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষায় নেই।

পদক্ষেপ নিন, কঠোর পরিশ্রম করুন, রোপণ করুন, শেষ মুহুর্তে বিশ্বাস রাখুন।

জীবনের শেষ মুহূর্তেও কঠোর পরিশ্রম করে যান, ফলাফল কি হবে সেটা নিয়ে হতাশার কারণে থেমে যাবেন না। সমস্ত বাধা, অসম্ভবতা বা ভয় হল ওজনহীন এবং এগুলি অবশ্যই কোনো কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

প্রচেষ্টা চালিয়ে যান এবং তার ফল কখন কীভাবে হবে তা আল্লাহর উপর ন্যস্ত করে দিন।

সম্পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে কাজ করে যান, কোনো কাজে বাধার সম্মুখীন হলে সে কাজ থেকে নিবৃত হয়ে যাবেন না।

এটিই হল নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ।

কিছুক্ষণ পরে কী হবে তা চিন্তা না করে তিনি সর্বদা কাজ করে গেছেন। যদিও তিনি জানতেন যে, কুরাইশরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা করে ফেলতে পারে।

তিনি এবং তাঁর মুমিন সাথিরা কুরাইশদের নির্মম অবরোধের মাঝে ক্ষুধায় মারা যেতে পারেন। 

গারে সাওরে কাফেরদের দুষ্ট হাতগুলি তাদের পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারত।

কিন্তু সমস্ত কষ্ট সত্ত্বেও, তিনি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কাজ করে গেছেন। যতক্ষণ না আল্লাহ তা’আলা কোনো ফয়সালা করেছেন তিনি অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

এটিই হল নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ।

আপনার কাজ শুধু চেষ্টা করে যাওয়া, ফলাফল কি হবে সে চিন্তায় মগ্ন হয়ে কারও কাছে বারবার জিজ্ঞাসা করা আপনার কাজ নয়। তাই সে পথেই চলুন যে পথে আমাদের নবী চলেছেন।