শৈশব মেতে থাকুক খেলাধুলায়

obert-collins-tvc5imO5pXk-unsplash.jpg
Fotoğraf: Robert Collins-Unsplash

শিশুরা খেলাধুলা- হৈ চৈ করবে না,  এটা ভাবা যায় ? সারাদিন ছোটোছুটি করবে, দুষ্টুমি করবে, সেই সঙ্গে মাতিয়ে রাখবে সবাইকে এটাই স্বাভাবিক। শিশুদের এক জায়গায় বই নিয়ে বসিয়ে রাখা মুশকিল। কিছুতেই পড়তে চায় না তারা। লেখা-পড়া করতে বললেই নানা বায়না জুড়ে দেয়। বরং সারাদিন খেলা নিয়ে মেতে থাকতেই পছন্দ বেশিরভাগ শিশুর। শিশুকে মনের বিরুদ্ধে জোর করে সারাক্ষণ বই নিয়ে বসিয়ে রাখলেই হবে না। এতে শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় আর পড়াশোনা শিশু আরও বেশি অপছন্দ করতে শুরু করে। তাই আমাদের জেনে নেওয়া ভালো যে, কীভাবে খেলাও শিশুর শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে কাজে লাগতে পারে। শিশুদের মেধার বিকাশের জন্য খেলাধুলা ও হাসি আনন্দের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হবে।

শিশুর বিকাশে প্রয়োজন আনন্দময় শৈশব। তাই শিশুকে সারাক্ষণ পড়াশোনার শেকলে বন্দি না রেখে খেলাধুলার সুযোগও দিতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের মানসিক উৎকর্ষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, মাতা-পিতা ও অভিভাবকের সঙ্গ প্রয়োজন। নিঃসঙ্গ ও নিরানন্দ জীবন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তাকে বিপথগামীও করে। গবেষকদের মতে, প্রথম জীবন থেকেই শিশুর শরীরের হয় বৃদ্ধি আর মনের হয় বিকাশ। শরীরের বৃদ্ধি মানে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তন ও আকৃতি বৃদ্ধি পাওয়া। অন্য দিকে মনের বিকাশ মানে শিশুর জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধা, আবেগ ও অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করার দক্ষতা অর্জিত হওয়া।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মাঝেমধ্যেই তাঁর শিশু নাতিদের সঙ্গে খেলাধুলায় লিপ্ত হতেন। তাঁদের সময় দিতেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী (সা.) দিনের এক অংশে বের হলেন, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সঙ্গে কথা বলিনি। অবশেষে তিনি বনু কাইনুকা বাজারে এলেন (সেখান থেকে ফিরে এসে) হজরত ফাতেমা (রা.)-এর ঘরের আঙিনায় বসলেন। অতঃপর বললেন, এখানে খোকা [হাসান (রা.)] আছে কি? এখানে খোকা আছে কি? ফাতেমা (রা.) তাঁকে কিছুক্ষণ সময় দিলেন। আমার ধারণা হলো, তিনি তাঁকে পুঁতির মালা—সোনা-রুপা ছাড়া যা বাচ্চাদের পরানো হতো, পরাচ্ছিলেন (সাজিয়ে দিচ্ছিলেন)। তারপর তিনি দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুমু খেলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি তাকে (হাসানকে) মহব্বত করো এবং তাকে যে ভালোবাসবে তাকেও মহব্বত করো।’ (বুখারি, হাদিস : ২১২২)

হজরত হাসান (রা.) ও হোসাইন (রা.)-ও খেলা করতেন। একদিন হোসাইন (রা.) গলির মধ্যে খেলছিলেন। প্রিয় নবী (সা.) সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি লোকদের অগ্রভাগে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে দিলেন। বালকটি এদিক-ওদিক পালাতে থাকল। কিন্তু নবী (সা.) তাকে হাসতে হাসতে ধরে ফেলেন। এরপর তিনি তাঁর এক হাত ছেলেটির চোয়ালের নিচে রাখলেন এবং অপর হাত তার মাথার তালুতে রাখলেন। তিনি তাকে চুমু দিলেন এবং বললেন, ‘হোসাইন আমার থেকে এবং আমি হোসাইন থেকে। যে ব্যক্তি হোসাইনকে ভালোবাসে, আল্লাহ তাআলা তাকে ভালোবাসেন। হোসাইন আমার নাতিদের একজন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৪)

নামাজে থাকা অবস্থায় কোনো শিশু কাঁদলে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজ সেরে শিশুর কাছে ছুটে যেতেন। তিনি চাইতেন, শিশুরা যেন না কাঁদে। তারা যেন কষ্ট না পায়। শিশুদের মনের চাহিদা মেটাতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল। শিশুদের শারীরিক নির্যাতন না করে তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষাদানের কথা বলতে গিয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা সন্তানদের স্নেহ করো, ভালো ব্যবহার করো তাদের সঙ্গে এবং ভালো ব্যবহার ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও। -তিরমিজি শরিফ