শ্বাসের সমস্যায় কীভাবে পানপাতা ব্যবহার করবেন?

স্বাস্থ্যকর খাদ্য Tamalika Basu
সুস্বাদু
পানপাতা
© Vtt Studio | Dreamstime.com

নানারকম মশলা দিয়ে সুন্দর করে সাজানো একখিলি মিষ্টি পানই বলুন কিংবা এলাচ, লবঙ্গ, চুন দিয়ে সাজানো সাদা পান, দুপুরবেলা একপেট ভাত খাওয়ার পরে পান না হলে অনেকেরই চলে না। আবার অনেকেই আছেন, বিয়েবাড়িতে গেলে পেটপুরে খান বা না খান, শেষপাতে ভাল করে সাজা একখিলি পান তাঁদের চাইই চাই! কিন্তু পান তো খান, জানেন কি, পানপাতার উপকারিতার কথা? যারা শ্বাসের সমস্যায় ভোগেন, হাঁপানির সমস্যা রয়েছে বা সর্দিকাশিতে প্রায়শই ভোগেন যারা, তাঁরা কিন্তু পানপাতাকে ওষুধের মতো ব্যবহার করতে পারেন। শ্বাসজনিত ও সংশ্লিষ্ট নানা সমস্যায় পানপাতা কীভাবে কাজে দেয়, আজকে আমরা সেই নিয়ে আলোচনা করব।

পানপাতার উপকারিতা

পানপাতার পুষ্টিগুণ কিন্তু প্রচুর। এতে ভিটামিন সি, বি১, বি২, বি৩-র পাশাপাশি রয়েছে ক্যারোটিন। পানপাতাকে ক্যালসিয়ামের অন্যতম উপাদান হিসেবে হিসেবে বলা যেতে পারে। এছাড়া এতে রয়েছে আয়োডিন, পটাশিয়াম সহ বিভিন্ন অতি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। পানপাতার নানারকম ওষধি গুণের জন্য একে প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে আসছে। অনেকেই জানেন না, দুর্দান্ত মুখশুদ্ধির কাজ করার পাশাপাশি অন্যান্য নানা রোগেও পানপাতার ব্যবহার বহুদিন থেকেই হয়ে আসছে।

শ্বাসের সমস্যায় পানপাতা

ঘনঘন শ্বাসকষ্টের সমস্যায় বা সেই সংক্রান্ত অসুখে ভোগেন যারা, তাঁরা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পানপাতা ব্যবহার করতে পারেন। আজকাল বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট, সর্দি, খুকখুকে কাশির সমস্যা ঘরে-ঘরে দেখা যায়। আর এই ধরনের সমস্যা একবার শুরু হলে শত ওষুধেও যেন সারতে চায় না। ঘনঘন সর্দিকাশি, ঠান্ডা লাগা, বুকে সর্দি বসার মতো সমস্যায় পড়লে পানপাতাকে কাজে লাগান। কারণ পানপাতা এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। এমনিতে সর্দিকাশি হলে ডাক্তারের কাছে গেলে তাঁরা সাধারণত কড়া মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধই দিয়ে থাকেন।

অনেকের ক্ষেত্রেই এই কড়া মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। ফলে অনেকেই সেগুলি এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে কিন্তু আপনারা অনায়াসে পানপাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। পানপাতা দামে সস্তা, তার উপর পানপাতার অ্যান্টিবায়োটিক গুণ বুকে জমে থাকা শ্লেষ্মা দূর করে এবং কাশির ফলে যে প্রদাহ হয়, সেটি কমায়। ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসে যারা ভুগছেন, তাঁরাও পানপাতা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। হাঁপানির সমস্যাতে দেখা যায় অনেকেই ইনহেলার ছাড়া এক পা-ও চলতে পারেন না। এই হাঁপানি কিন্তু শরীরে হিস্টামিনের কারণে হয়ে থাকে। পানপাতায় রয়েছে অ্যান্টি-হিস্টামিন উপাদান, যা হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং হাঁপানি প্রতিরোধ করে। এক্ষেত্রে পানের তেল ব্যবহার করতে পারেন।

কীভাবে ব্যবহার করবেন? 

বুকে সর্দি জমে থাকলে সর্ষের তেলের মালিশ ভাল কাজে দেয়। তবে এবার থেকে সর্ষের তেলের সঙ্গে পানপাতা ব্যবহার করেই দেখুন, চটজলদি উপকার পাবেন। পানপাতার উপর সর্ষের তেল লাগিয়ে পাতাটিকে গরম করে নিন।

এরপর সেটি বুকে ভাল করে মালিশ করুন। দেখবেন, বুকে বসা সর্দি তাড়াতাড়িই সেরে যাবে। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে পানপাতা এবং সর্ষের তেল একসঙ্গে পেস্ট করে সেটিও বুকে মালিশ করতে পারেন।

এছাড়া, কয়েকটা পানপাতা, এলাচ, লবঙ্গ ও দারচিনি নিয়ে সেটাকে ভাল করে দু’কাপ জলের সঙ্গে নিয়ে ফোটান। দু’কাপ জল ফুটতে-ফুটতে কমে এককাপ হয়ে এলে ছেঁকে নিয়ে মিশ্রণটিকে খেয়ে নিন। এটি দিনে দু’-তিনবার করে খান, দেখবেন বুকে বসা সর্দি এবং শ্বাসের সমস্যা থেকে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দ্রুত মুক্তি পাচ্ছেন। মনে রাখবেন, সর্দিকাশির সমস্যায় এটাই কিন্তু হয়ে উঠতে পারে আপনার প্রাকৃতিক কাফ সিরাপ!

তবে শুধু শ্বাসের সমস্যাতেই নয়, পানপাতা কিন্তু আরও নানা উপকারে লাগে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায়, হজম ক্ষমতা বাড়াতে, ব্যথাবেদনা উপশমে পানপাতা দারুণ কার্যকরী। এছাড়া পানপাতার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট নানাধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূর করতেও দারুণভাবে সহায়তা করে। এছাড়া মুখে দুর্গন্ধের সমস্যায়, দাঁতের ক্ষয় রোধে বা গাঁটে-গাঁটে ব্যথা, বিশেষ করে আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি দূর করতেও পানপাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, পানপাতাটি যেন বেশি পেকে না যায়। কচি পাতা ব্যবহার করাই এক্ষেত্রে শ্রেয়।