SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শ্বেতীর সমস্যা থাকলে উপকার পেতে পারেন জায়ফলে

স্বাস্থ্য ২৯ জানু. ২০২১
ফোকাস
জায়ফলে
© Axel Bueckert | Dreamstime.com

জায়ফলে-র পরিচিতি আমাদের কাছে প্রধানত মশলা হিসেবে। জায়ফল রান্নায় দিলে স্বাদ খোলে, রান্নায় বাড়তি গন্ধ যোগ করতেও জায়ফলের জুড়ি নেই। তবে এই সুন্দর মশলাটি রান্নার পাশাপাশি আরও অন্যান্য কাজে লাগে। প্রাচীনকাল থেকেই জায়ফল ও তার এসেনশিয়াল অয়েলকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। জায়ফলের একাধিক ঔষধিগুণের জন্য আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় জায়ফলের ব্যবহার বহুল জনপ্রিয়। এমনকী নানারকম দোষ বা রোগ নাশ করে বলে ‘ত্রিদোষনাশক’ হিসেবেও এর পরিচিতি। ত্বকের দাগছোপ, পিগমেন্টেশন দূর করতে, ত্বককে সুস্থ সতেজ রাখতে জায়ফলকে ব্যবহার করা হয়। তবে অনেকেই জানেন না, শ্বেতীর সমস্যা থাকলেও কিন্তু জায়ফলের ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। আপনার যদি শ্বেতী থেকে থাকে, তাহলে জায়ফলকে কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন, আজকে আমরা সেই নিয়ে আলোচনা করব।

শ্বেতী কী, কেন হয়?

ধবল রোগ বা শ্বেতীর রোগের ক্ষেত্রে শরীরের কোনও নির্দিষ্ট অংশের ত্বক বর্ণহীন হতে শুরু করে। চিকিৎসকমহলে শ্বেতী অটোইমিউন রোগ বলে পরিচিত। অটোইমিউন রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজে থেকেই শরীরের কলা, কোষকে ধ্বংস করতে শুরু করে। আমরা জানি, আমাদের ত্বকে থাকে রঞ্জক পদার্থ মেলানিন, যা আমাদের গায়ের রং নির্দিষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এই মেলানিনের কারণেই কারওর গায়ের রং হয় ফরসা, আবার কারওর গাত্রবর্ণ হয়ে ওঠে শ্যামলা। কোনও কারণে এই মেলানিন উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হলেই শ্বেতী রোগ দেখা দেয়। এক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা মেলানোসাইট কোষকে ধ্বংস করে, এবং ত্বকে রঞ্জক পদার্থ না থাকার কারণে ত্বক সাদা বর্ণ ধারণ করে। শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশ থেকেই শ্বেতী শুরু হয়। তারপর তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোনওরকম ব্যথা বা সমস্যা এই রোগে থাকে না।

শ্বেতী আটকাতে উপকার পাবেন জায়ফলে

যেহেতু শ্বেতী একধরনের অটোইমিউন রোগ, ফলে শ্বেতী হলে ডাক্তাররা প্রাথমিকভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। আর সে জন্য স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলতে বলেন। স্বাস্থ্যকর ডায়েট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ফলে তা শরীরের যে-কোনও অংশে শ্বেতীর দ্রুত ছড়িয়ে পড়াকে আটকায়। এই পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় যেমন ফল, সবজি থাকে, তেমনই মশলার মধ্যে থাকে জায়ফলও। জায়ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, বি১, বি২, বি৩, বি৬। এছাড়া এতে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের পাশাপাশি থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, জিঙ্ক ইত্যাদি। এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং ক্রিপ্টোজ্যানথিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে সামগ্রিকভাবে ভাল রাখে।

ত্বকের মেচেতা, দাগ-ছোপের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি তাই জায়ফলকে শ্বেতীর সমস্যাতেও কাজে লাগানো হয়। জায়ফলে-র নানা ঔষধি গুণ শ্বেতীকে দূর করতে বা শরীরের অন্যান্য অংশে শ্বেতীর দ্রুত ছড়িয়ে পড়াকে আটকায়। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ত্বককে সুন্দর রাখে এবং ত্বকের পুরনো রং ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। তাই আপনার শ্বেতী প্রতিরোধক বিশেষ খাদ্যতালিকায় নিয়ম করে জায়ফল রাখুন।

জায়ফলে-র ব্যবহার

সবজি রান্না করলে তাতে জায়ফলগুঁড়ো মিশিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে খাবারের স্বাদ খোলার পাশাপাশি আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত উপকারও পাবেন। তাছাড়া জায়ফলকে কিন্তু আপনি আপনার ত্বকের বর্ণ উজ্জ্বল করার কাজে বা কালো দাগ দূর করতেও ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য দই, লেবুর রস, জায়ফলের গুঁড়ো দিয়ে একটা ফেসমাস্ক বানিয়ে সপ্তাহে তিন দিন মুখে লাগান। জায়ফল ও দারচিনির গুঁড়ো লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে মুখের কালো দাগে লাগালেও উপকার পাবেন। এর ফলে আপনি শ্বেতীর পাশাপাশি সার্বিকভাবে আপনার ত্বককে সুন্দর করতে তুলতে পারবেন।

শ্বেতী নিয়ে ইউরোপ বা আমেরিকার দেশগুলিতে মানুষের মধ্যে কোনও সমস্যা না হলেও এশিয়া বা আফ্রিকার দেশগুলিতে শ্বেতী নিয়ে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এখানে সাধারণত কারওর শ্বেতী হলে তাকে নিয়ে ঠাট্টা-ইয়ার্কি করা বা তাকে ব্রাত্য করে রাখাই দস্তুর। তবে এবার সে চিন্তা দূর করুন এবং শ্বেতী দূর করতে কাজে লাগান জায়ফলকে।