সংযুক্ত আরব আমিরশাহী: বিশ্বের আনন্দময় মুসলমান দেশ

মধ্য প্রাচ্য Contributor
জানা-অজানা
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী
© Tampatra1 | Dreamstime.com

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে আনন্দময় মুসলমান দেশ হল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী । এখানকার মানুষেরা সতত আনন্দে থাকেন। কিন্তু কীভাবে জানা গেল এই তথ্য? প্রতি বছর প্রকাশিত হয় প্রসন্নতা বিবৃতি বা ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট। এই রিপোর্টে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এক একটি দেশের আনন্দ সূচক নির্ধারণ করা হয়। এই বিষয়গুলি হল,

১। জিডিপি পার ক্যাপিটা

২। সুস্থ ও সম্ভাব্য আয়ুকাল

৩। স্বাধীনতা

৪। দেশবাসীর উপর রাষ্ট্রের দূর্নীতির প্রভাব

সম্পূর্ণ সমীক্ষাটি একটি রিসার্চ অ্যানালিসিসের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এই সমীক্ষায় ১৪৯ টি দেশের মানুষদের তাঁদের নিজের আনন্দ ও খুশির সূচক পরিমাপ করতে বলা হয়। কিছু প্রশ্ন থাকে, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ভিত্তিতেই বেছে নেওয়া হয় আনন্দসূচক। এই বছরের হ্যাপিনেস রিপোর্টের মূল লক্ষ্য ছিল কোভিড-১৯-এর ফলে মানুষের জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে। তাই এ বছর আরেকটি বিষয় যোগ করা হয় সূচক নির্ধারণে। সেটি হল, মহামারীর সময় একে অপরের প্রতি ও রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও আনন্দসূচকে তার স্থান

২০২১-এর রিপোর্টে দেখা গিয়েছে ১৪৯টি দেশের মধ্যে আনন্দসূচকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর স্থান ২৫ নম্বরে। ঠিক ২৬ নম্বরেই রয়েছে সৌদি আরব। আর ৫০টি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে কোসোভো, উজবেকিস্তান, কাজাখাস্তান ও কুয়েত। অর্থাৎ বলা চলে, মুসলমান দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে আনন্দময় আরব আমিরশাহীর মানুষ।

দেশটির ইতিহাস

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর নামে সংযুক্ত রয়েছে কারণ দেশটি মূলত সাতটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত। খুব নির্বিঘ্নে ও নিঃশব্দে এই দেশ ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তেলের খনি আবিষ্কারের আগে, অর্থাৎ ১৯৫০ সালে দেশটির অর্থনীতি মূলত নির্ভরশীল ছিল মৎস্যশিল্প ও মুক্তোশিল্পর উপর। কিন্তু, ১৯৬২তে খনিজ তেল উত্তোলন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশটির অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা আমূল পরিবর্তিত হয়ে গেল।

আপাতভাবে ঐতিহ্যপরারণ ও সনাতন ইসলামে বিশ্বাসী হলেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী কিন্তু অন্য ধর্ম ও দেশের মানুষদের প্রতি সহনশীল। তাই বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উদারমনস্ক দেশ এটি। আর এই উদারমনস্কতার কারণেই ২০২০ সালে ইজরায়েলের সঙ্গে প্রথম কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এই দেশ।

অর্থনৈতিক ভাবে ছাড়াও, সাংস্কৃতিক ও জীবনযাত্রার দিক থেকেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী উল্লেখযোগ্য। এখানকার মানুষ জীবনের সূক্ষ্ম প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারেন। এর সঙ্গে অনুভব করে সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উপযোগিত। তাই জন্যই সংগ্রহশালা থেকে শুরু করে নানাবিধ স্থাপত্য এ দেশে দেখতে পাওয়া যায়।

বৈপরীত্য- আফগানিস্তান

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ঠিক বিপরীতেই যেন অবস্থান করছে আফগানিস্তান। আনন্দসূচকে এই দেশের ঠাঁই হয়েছে প্রায় নীচের দিকে। আধুনিক সময়ে যুদ্ধ ও সংঘর্ষের জন্য এ দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের মুখে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে এ দেশের মানুষের মুখে হাসি নেই। বিশেষ করে তালিবানদের শাসনে আফগানিস্তানের বিখ্যাত শিল্প ও সংস্কৃতি অনেকাংশেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তালিকার নীচের দিকে জায়গা হয়েছে টিউনিশিয়া, লেবানন, প্যালেস্টাইন, মিশর ও ইয়েমেনেরও।

আমাদের পবিত্রে ধর্মে বলা রয়েছে, সহজ ভাবে আল্লাহর পথে বিনা হিংসায় চললে তবেই মানসিক সুখ ও শান্তি পাওয়া যাবে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী আজ সেই বিষয়টিই যেন প্রমাণ করে দেখাচ্ছে।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.