সতর্কতা অবলম্বন মানেই আল্লাহর উপর ভরসা করা

Light in background against hands held together towards God
© Nasir1164 | Dreamstime.com

আজ বিশ্ব কাঁপছে কোভিড – ১৯ এর আতঙ্কে । কোভিড – ১৯ এই সম্পর্কিত সংবাদটি রোগের চেয়েও পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুততার সাথে । সেই সাথে এটি নিয়ে আসছে ভয়, আতঙ্ক, নানা ধরণের কাহিনী এবং এক অনিশ্চয়তার আগামী।

কিন্তু জনস্বাস্থ্য সচেতনতার এই প্রাক্কালে যেখানে মানুষ কোয়ারাইন্টাইন এ আটকে আছে, ঠিক এই  মুহূর্তে বিশেষত আমরা মুসলমানরা পড়েছি এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের সামনে । এই মহামারী ছুড়ে দিচ্ছে আমাদের দিকে ঈমান এবং বিশ্বাসের উপর টিকে থাকার  চ্যালেঞ্জ ।

আমরা অনেকেই হয়ত বুঝতে পারছি না এই ধরনের মহামারীতে ইসলাম এর অবস্থান আসলে কেমন হবে? এখানে ঠিক এই বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হচ্ছে । হাজার হাজার মানুষের এ মৃত্যুর কারণ এই ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় আমরা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বোকার মতো চুপচাপ বসে তামাশা দেখতে পারি না। ভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের উচিত যথাসম্ভব সতর্ক হওয়ার। আর সতর্ক হওয়ার অর্থ এ নয় যে, আল্লাহর ওপর ভরসা করা ছেড়ে দিয়ে আমরা জাগতিক উপায়ের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছি।

বরং আমরা যদি যথাযথ সতর্ক না হই, তাহলেই বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করা হবে না।

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,

তোমার উটকে আগে বাঁধো এবং পরে আল্লাহর ওপর (উট না হারানোর বিষয়ে) তাওয়াক্কুল করো। (তিরমিজি)
এ হাদীস আমাদের নির্দেশ করছে, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা মানে এই নয় সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে বেপরোয়াভাবে চলা। এটি আল্লাহর ওপর ভরসা করার অপব্যাখ্যা। বরং আল্লাহর ওপর সত্যিকারের ভরসা করার অর্থ, আল্লাহ মানুষের আয়ত্তে সতর্ক হওয়ার এবং কাজ করার যতটুকু অবকাশ রেখেছেন, তা পূরণ করে ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করা।

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,

তোমরা যদি যথার্থই আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে পারো, তবে তিনি তোমাদের সেভাবেই রিজিক দেবেন যেভাবে ওই পাখিদের মতোই রিজিক দেন, যারা সকালে খালিপেটে বের হয় এবং ভরাপেটে ফিরে আসে। (তিরমিযি)

এ হাদীস থেকে আমরা নির্দেশনা পাই, পাখি যেমন তার রিজিকের জন্য বের হয়, তেমনি রিজিকের জন্য মানুষকে চেষ্টা করতে হবে। এটিই হলো আল্লাহর ওপর যথার্থ তাওয়াক্কুল।

কোনো প্রকার চেষ্টা ছাড়া আমরা আল্লাহর ওপর ভরসায় বসে থেকে শুধুই নফল নামাজ পড়লাম, দোয়া-জিকির করলাম আর আমাদের রিজিক এসে যাবে, এটি কখনোই আল্লাহর ওপর ভরসা হয় না।

এই মহামারীর সময়ে আমরা অনেককেই বলতে শুনছি – “ আমরা যদি অসুস্থ হই তাহলে সেটা  আল্লাহর ইচ্ছায়।” এই যুক্তির ভিত্তিতে তারা বাইরে যাচ্ছেন সকল বাঁধা – নিষেধ উপেক্ষা করে ।অবশ্যই এটা সত্য, যেকোন রোগ বিপদ মূলত আল্লাহর তরফ থেকে একটি পরীক্ষা । কিন্তু এটি তাওয়াক্কুল এর একটি অংশ মাত্র । এটি সঠিক আমাদের তকদিরে যা আছে, আমরা সেদিকেই ধাবিত হবো। কিন্তু আমরা যদি আমাদের কাজের অবকাশকে পূর্ণভাবে ব্যবহার না করি, তবে আমরা আল্লাহর দৃষ্টিতে অপরাধী থাকবো।

তেমনিভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণে যদি আমাদের মৃত্যু তকদিরে লেখা থাকে, তবে আমাদের তাই হবে। তবে এ থেকে বাঁচতে যদি আমাদের হাতে থাকা আল্লাহর দেওয়া সুযোগের যথার্থ ব্যবহার না করি, আমরা আল্লাহর দৃষ্টিতে সুযোগের অপচয়ের অপরাধে দোষী থাকবো।

মূলত আল্লাহর দ্বীনকে আমরা আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে নিতে না পারার কারণেই আমাদের মধ্যে দ্বীন সম্পর্কে বিভিন্ন ভুল ধারণা বিস্তার লাভ করেছে।

আল্লাহর আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য যথাযথ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দান করুন।