সদকার মাধ্যমে জান্নাতে নিজের স্থান সংরক্ষণ করুন

ID 158304412 © Imran Kadir | Dreamstime.com

মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমলের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, শুধু তিনটি আমল চালু থাকেঃ সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যার দ্বারা মানুষের উপকার হয় এবং নেকসন্তান, যে পিতামাতার জন্য দু’আ করে।” (মুসলিম)

রমজান হল বিভিন্ন খাতে সদকার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে যাত্রার উপযুক্ত সময়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে, এই মাসে আমরা যে কোন নেক কাজ করি তা বহুগুণে পুরষ্কারের যোগ্য; এবং সদকা, রমজানের বরকতময় দিনগুলিতে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার আন্তরিক অভিপ্রায় সহকারে এমন নেক আমল যা কখনও ব্যর্থ হয় না।

এটি মোটেও অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয়, কারণ নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানকে দানশীলতার মাস হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর সাহাবীরা আমাদেরকে এটি জানিয়েছেন যে, তাদের জানামতে যদিও তিনি সবচেয়ে উদার ব্যক্তি ছিলেন, রমজান মাসে তাঁর উদারতা আরও বেড়ে যেত; নির্দ্বিধায় বয়ে যাওয়া বাতাসের চেয়েও তিনি উদার হয়ে যেতেন।

ঈমানের প্রমাণ

ইসলামের বিভিন্ন স্তম্ভের তাত্পর্য বর্ণনা করার সময়, নবীজী সালাতকে খুটির সাথে এবং সদকাকে ঈমানের চিহ্ন বা প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সাদাকাহ শব্দটি সিদক থেকে এসেছে যার অর্থ সত্যতা। সুতরাং, সদকা ঈমানের আন্তরিকতার সাক্ষ্য দেয়।

সদকার উপকারিতে কেউ অল্প কথায় প্রকাশ করতে পারবে না। কুরআন এটিকে গুনাহমুক্তির মাধ্যম হিসাবে উল্লেখ করেছে; এটি হৃদয়কে লোভ থেকে পরিষ্কার করার সর্বোত্তম একটি উপায়। মানুষের সম্পদ যে তার জন্য অশেষ নিয়ামত তা নিশ্চিত করার একটি উপায়ও হচ্ছে সদকা।

সদকা বিপদকে প্রতিরোধ করে, গুনাহ মুছে দেয়, জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে এবং জীবনকে নিয়ামতে পরিপূর্ণ করে।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তা’আলার ওয়াদা উল্লেখ করেছেনঃ “সদকা কখনও কারও সম্পদ হ্রাস করে না।” বরং এটি সম্পদ ও নিয়ামত বৃদ্ধি করে।

সদকা সম্পর্কিত কিছু ঘটনা

ইমাম হিসাবে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা করছি। এ সময়কালে আমি এমন লোকদের অভিজ্ঞতা পেয়েছি যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদকার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন এবং পরে নবীজীর এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন স্বচক্ষে দেখেছেন।

এখানে দু’একটি উল্লেখ করছি: এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর অজান্তে মাসিক বেতনের কিছু টাকা আলাদা করে সদকা করার নিয়ত করেছিলেন। মাসিক বাজেটের সংকুলান না হওয়ায় তাঁর স্ত্রী পরে এটি জানতে পেরে খুব কষ্ট পান। যাইহোক, পরে একদিন তিনি যখন কাজের জন্য উপস্থিত হলেন, তখন তাঁর বস হঠাৎ তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁর বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাঁকে জানালেন!

অন্য একটি ঘটনায়, একজন মহিলা সদকার জন্য তার ছুটির তহবিলের টাকা আলাদা করে রেখে দেন। তিন সপ্তাহও অতিবাহিত হয়নি, এর মধ্যেই তিনি একটি কর ফেরত পান যা তার প্রত্যাশার চেয়েও দ্বিগুণ ছিল!

সদকা করতে দেরি করবেন না

কুরআনে আমদের সদকায় বিলম্ব করা বা সদকা না দেওয়া সম্পর্কে সতর্কস্বরূপ বলা হয়েছেঃ

“আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম” (সূরা মুনাফিকুন-৬৩:১০)

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের একটি ঘটনাও বর্ণনা করেছেন যার মধ্যে একটি সুন্দর উদাহরণ রয়েছে যা দানশীলতার প্রভাব চিত্রিত করেঃ

হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম একবার বনী ইসরাইলের লোকদেরকে সম্বোধন করে বলেছিলেনঃ

“[আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন] যাতে আমি তোমাদেরকে দান করার বিষয়ে আদেশ করি। যে ব্যক্তি সদকা করে তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মত যাকে শত্রুরা বন্দী করেছে এবং তাঁর হাত বেঁধে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার জন্য তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে তার কাছে যা কিছু আছে তা ত্যাগ করে নিজেকে মুক্তির জন্য তারা প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে, তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়!” (তিরিমিযী)

এই হাদিস থেকে আমাদেরকে বোঝানো হয়েছে যে, যে সদকা করে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা হয়।

ভাগ্যক্রমে সদকা করার জন্য আমাদের সামনে কোনো অপ্রতুলতা নেই, কারণ দুনিয়াব্যপি বহু দরিদ্র মানুষ আছে যারা আমাদের সদকার মুখাপেক্ষী।

কিন্তু একই সময়ে এমন অনেক মানুষ আছে যাদের প্রচুর অর্থসম্পদ থাকা সত্ত্বেও তারা দান সদকার জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করে না। তাই আসুন নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার জন্য আমরা সদকা করি।