সদকা দান ও গ্রহণ: সদকা থেকে শিক্ষা

charity

আমাদেরকে মুসলমান হওয়ার কারণে এক উম্মাহ, এক জাতি ও এক সম্প্রদায় বলার পিছনে একটি কারণ রয়েছে।

মুসলিম হিসেবে আমাদের অধিকার রয়েছে আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার। অরপদিকে, মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আছে অপর মুসলিম ভাইবোনদেরকে তাদের বিশ্বাসে, তাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডে, এমনকি তাদেরকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার।

একে অপরকে সাহায্য করা আমাদের ঈমানের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না নিজের জন্য যা পছন্দ করো তা অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করবে” (বুখারী)

সুতরাং, আমরা নিজেকে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাসী হিসেবে বিবেচনা করতে পারব না, যতক্ষণ না আমরা অন্যের কথা চিন্তা করব এবং একে অপরের জন্য মঙ্গল কামনা করব।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, “এবং অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্য্যধারণকারীদের।” (আল কুরআন-২:১৫৫)

সুতরাং, সকল মুমিনকেই আল্লাহ পরীক্ষা করবেন। আর তার এ পরীক্ষার সময় অন্যান্য মুসলিম ভাইরা তাকে সাহায্য করবে ও সান্তনা দিবে। এতে তার জন্য ধৈর্য্যধারণ করাটাও সহজ হয়ে যাবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন কোনো বান্দার মঙ্গল কামনা করেন তখন তাকে কিছুটা কষ্ট দিয়ে পরীক্ষা করেন” (বুখারী)

সদকা প্রদান

মানুষ যখন বিপদের সম্মুখীন হয়, তখন সে সবচেয়ে বেশি হতাশা ও অসহায়ত্ব অনুভব করে। এ সময় সে আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করে কারও সাহায্যের।

ইসলামের দৃষ্টিতে মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক হলো একটি দেহের মত। দেহের একটি অঙ্গে যেকোনো ধরনের সমস্যা হলে অন্যান্য অঙ্গ যেমন সাহায্যের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে, মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্কও এমন হওয়া উচিত। এ কারণে কোনো মুসলিম যখন কোনো ধরনের বিপদের সম্মুখীন হয়, তখন অপর মুসলিমের কর্তব্য তাকে সহযোগিতা করা। কেননা যে মানুষকে বিপদে সাহায্য করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন।

এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব দুঃখ-কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো বিপদাপন্ন ব্যক্তির বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্য করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা নিজ ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে।” (মুসলিম, তিরমিযী)

কারও কঠিন বিপদের সময় যখন কেউ তাকে সাহায্য করে, তখন এই সাহায্যের কথা সে কখনও ভোলে না। যারা বিপদের মূহূর্তে সাহায্যকারী হয়, তারাই মূলত প্রকৃত বন্ধু।

এ কথা প্রতিটা মুমিনই বিশ্বাস করে যে, দুনিয়ার সকল সম্পদের প্রকৃত মালিক হলেন আল্লাহ। মানুষ যে সম্পদের অধিকারী, তা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই দানকৃত। তাই আল্লাহ যাকে অর্থ-সম্পদ দান করেছেন সে যদি ঐ সম্পদ থেকে কোনো বিপদগ্রস্ত বা অভাবী মানুষকে সাহায্য করে তবে আল্লাহ খুব খুশি হন। অপর ভাইয়ের প্রতি এরূপ মানবিক কর্তব্য পালন রাত জেগে অবিরাম নফল নামাজ ও অবিরত নফল রোজার সমতুল্য।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি বিধবা, গরিব, অভাবী ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্যের জন্য চেষ্টা করে, সে আল্লাহর রাস্তায় অবস্থানরত ব্যক্তির সমতুল্য। এমনকি সে ব্যক্তি রাত জেগে অবিরাম নফল নামাজ আদায়কারী এবং অবিরত নফল রোজা পালনকারীরও সমতুল্য।” (বুখারি, মুসলিম)

সদকা গ্রহণ করবে কারা?

সদকা দুই প্রকারের হয়। আবশ্যিক সদকা ও ঐচ্ছিক সদকা। আবশ্যিক বা বাধ্যতামূলক সদকা হল সাহেবে নেসাব সামর্থবান ব্যক্তির উপর ইসলামী আইন মোতাবেক প্রদেয় সম্পদ। যা আদায় ফরজ। যেমন-যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদি। আর ঐচ্ছিক সদকা হল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো গরীব, মিসকিন বা অসহায়কে প্রদান করা। এরূপ দান আবশ্যক নয়। তবে দান করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।

কুরআনে ফরজ সদকা সম্পর্কে নির্দিষ্ট ৮ শ্রেণীর কথা উল্লেখ আছে যাদের বাইরে কাউকে সদকা করলে যাকাত আদায় হবে না। আর ঐচ্ছিক সদকার ক্ষেত্রে এরকম কোনো রকম বিধিনিষেধ নেই। সদকার অধিক হকদার হল অভাবগ্রস্থ আত্মীয়স্বজন, এরপর অভাবী প্রতিবেশী। তারপর অভাবগ্রস্থ দূরের মানুষ। যদি পরিচিত কোনো নওমুসলিম থাকে তবে তারা সদকা গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য।