সন্তানকে শেখান ডিজিটাল দুনিয়ায় নিয়ন্ত্রিত পদচারণা

ID 105124667 © Zts | Dreamstime.com

ফেসবুক ব্যবহার করে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেকের হাতেই আছে ফোন বা ট্যাব। অনেক মা বাবাই ছোট থেকেই বাচ্চাদের হাতে ফোন তুলে দেয় কিন্তু ব্যবহার নিয়মকানুন কিছুই শিখিয়ে দেয় না। তাই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বাবা মা চিন্তায় থাকে তাদের সুরক্ষা নিয়ে। ফেসবুকের প্রতি কোনোভাবে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে নাকি সেদিকে সজাগ দৃষ্টি থাকতে হবে। সোশাল মিডিয়ার প্রতি আকর্ষণ যেন অতিরিক্ত হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো না। কিশোর বয়সে ফেসবুকে সে সারাদিন কী করছে, কোন পোষ্টে কেমন রিঅ্যাক্ট করছে সেগুলি দেখতে হবে। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পার্থক্য হচ্ছে নাকি ফেসবুক ব্যবহার করলে সেটা আশেপাশের লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই।

তবে খেয়াল রাখা বা শৃঙ্খলা মানে শুধুমাত্র বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া নয়। ছেলে মেয়ে যাতে আপনার সাথে বন্ধুর মতো মিশে সমস্ত কথা শেয়ার করতে পারে, সেই ব্যবস্থা আপনাকেই করতে হবে। নিজের পছন্দের ভালোলাগা বিষয়গুলো বহিঃপ্রকাশের অন্যতম জায়গা হলো ফেসবুক। তাই পছন্দের সাথে সামাজিকতার একটা মেলবন্ধন রাখা জীবনে জরুরি। আর এই জরুরী বিষয় গুলো সম্পর্কে আপনার জানাটাই আপনার ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ।

ফেসবুক একটি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে আমরা আমাদের মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা পাই। এই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে ফেলি আমরা অনেক সময়। ফেসবুকে পোষ্ট করার আগে আমাদের একটু ভাবা উচিত যাতে আমাদের কোনো পোষ্ট বা কমেন্ট অন্যকে কষ্ট না দেয়। অন্যের ধর্মীয় ভাবাবেগ বা ব্যাক্তিগত মতামতকে আমরা খুব নোংরা ভাবে আক্রামণ করে ফেলি মাঝেমাঝে যা করা আমাদের একেবারেই উচিত নয়। আমরা নিজেরাও যে পোষ্ট করি তা যেন কোনোভাবেই বিদ্বেষ না ছড়ায় সেটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। কারোর মতামত আমাদের মনকে অনেক সময় গভীর ভাবে প্রভাবিত করে তাই এমন পোষ্ট না করাই ভালো যাতে আমাদের নিজেদেরই মন খারাপ হয়ে যায়। একটা পোস্ট যখন আপনি পাবলিকলি শেয়ার করছেন সেটা শুধু নিজের না সবার কথা ভেবেই করতে হবে। তাহলে কোনো বিদ্বেষ ও তৈরী হবে না। ফেসবুকে বন্ধু দের তালিকাটাও সেভাবেই করুন যাতে  বন্ধুরা পোষ্ট বোঝে আপনার মতোই। তাদের আর আপনার পছন্দ এক হলে তারা আপনাকে বুঝবে এতে উভয়েরই কোনো অসুবিধা হবে না।অজান্তেই একটা সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে।

ফেসবুকে বাচ্চা থেকে বয়স্ক সবাই পোস্ট করে, সেক্ষেত্রে কোনো পোস্ট পছন্দ না হলে কি করতে হয় সেগুলো শেখাতে হবে। পোস্টের পাশে তিনটি ডট থাকে সেখানে ক্লিক করে অপছন্দ বা যেটা দেখতে চাইছেন না সেটা করতে হবে। কোনো ভুল নিজে তো করবেনই না, অপর কাউকে করতে দেখলে তার পোস্টে ফিডব্যাক ও রিপোর্ট করার কথা তাকে জানিয়ে দিন। এভাবেই আপনার ছেলেমেয়েরা নিজেরাই নিজেদেরকে সুরক্ষিত করতে পারবে। এছাড়া কারোর পোস্টে বাজে মন্তব্য করছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। যে সাইট থেকে লগ ইন করছে সেটাও দেখবেন।

ফেসবুকে নিজের সমস্ত তথ্য দেওয়া ঠিক না, যতটুকু দরকার ততটুকুই দেবার কথা তাকে বলতে হবে। কেউ আপনার সন্তান এর আইডিতে ঢুকছে কিনা দেখতে হবে, সহজ পাসওয়ার্ড বদলে জটিল পাসওয়ার্ড দেওয়া শেখাতে হবে। কোনো ইনফরমেশন ভুল হয়ে গেলে বা ভুল পোস্ট করলে সেটা ডিলিট করা বা ফেসবুক থেকে কি করে মুছে দিতে হয় সেটাও শিখিয়ে দিন, দেখবেন আর কোনো অসুবিধা হবে না। ওরা কোনো ঝামেলার শিকার হবে না। তাছাড়া আপনাদের ভাবনা চিন্তা অনেকটা কমে যাবে।

ফেসবুকে সুন্দর কবিতা বা গল্প পোস্ট করা বা নানা রকমের সুন্দর ভিডিও শেয়ার করতে বলুন, দেখবেন তাদের অনেক উন্নতি হবে।

নিজে যখন কোনো বিষয় নিয়ে অন্যকে আমরা বলব তখন সেই বিষয়টি নিয়ে নিজেকে সবথকে বেশি সাবধানে থাকতে হবে। ফেসবুক ব্যবহারকারীর নিজেদের মতামতকে অন্যের মতামতের উপর চাপিয়ে দিলে শুরু হয় বিরোধ কমেন্ট বক্সেই। নিজেকে সাবধান করার পাশাপাশি অন্যকেও সাবধান করুন।