SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সন্তানদের সম্পর্কে পিতামাতার কিছু ভুল ধারণা

শিশু ০৯ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
dreamstime_s_184647376
© Anchalee Yates | Dreamstime.com

প্রত্যেক পিতামাতা সবসময় সন্তানদের ভালোটাই চায়। সকলেই চিন্তা ও প্রচেষ্টা ব্যয় করে সন্তানদের জন্য ভালো কিছু করার জন্য। তবে সন্তানকে প্রতিপালন করে বড় করার ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকই পুরাতন কিছু ধারণাকে সত্য বলে মনে করে থাকেন, যেগুলি আধুনিক গবেষণায় নানাভাবে ভুল প্রমানিত হয়েছে। এরকম কয়েকটি ভুল ধারণা-কে অপনোদন করার জন্যই আজকের নিবন্ধের আলোচনা।

ভুল ধারণা-১)

শিশুকে শাস্তি দিলে বা ভয় দেখালে সে সত্য বলবে

পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে সাধারণত অল্প বয়স থেকেই শিশুরা মিথ্যা বলতে শিখে যায়। সাধারণত শিশুরা মিথ্যা বলে কাউকে খুশি করার জন্য অথবা শাস্তি এড়ানোর জন্য। উদাহরণত, শিশুকে কাচের কোনো জিনিস ভেঙ্গে ফেলার জন্য যদি আপনি শাস্তি দেন, তাহলে পরবর্তীতে সেই শাস্তি এড়ানোর জন্য সে মিথ্যা বলবে।

অনেক পিতামাতাই মনে করেন যে, শিশুদেরকে শাস্তি দিলে বা ভয় দেখালে সে সত্যি কথা বলবে। কিন্তু এ ধারণাটি নিতান্তই ভুল। এক্ষেত্রে আরও হিতে বিপরীত হতে পারে। শিশু যদি কোনো ভুল করেই ফেলে তবে শান্তভাবে তাকে বলুন যে, আপনি বেশি খুশি হবেন যদি সে সত্যি কথাটি বলে। মিথ্যা বলা অনেক সময় অন্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেটি তাকে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।

ভুল ধারণা-২)

প্রতিভাধর শিশুদেরকে ৫ বছর বয়সের মধ্যেই চিহ্নিত করা যায়

পিতামাতার মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার মত আছে নিজের সন্তানকে প্রতিভাধর হিসেবে সকলের সামনে জাহির করা। এজন্য বাসায় কেউ বেড়াতে এলে তাঁদের সামনে সন্তানকে ডেকে সুরা, কবিতা বা তাঁর কোনো প্রতিভা দেখাতে বলা হয়। স্কুলে ভর্তি করার পর থেকে প্রথম এক দুই ক্লাসে উপরের দিকে রোল থাকলেই মনে করা হয় সন্তান অত্যধিক প্রতিভাধর হবে। পরবর্তীতে যখন কয়েক বছর পর সেই শিশুরই ক্লাসে রোলের পজিশন নিচের দিকে নামতে থাকে তখন পিতামাতার কষ্ট আর দেখে কে?

কিন্তু বাস্তব হল ছোট বয়সে প্রতিভা অনেক সময়ই প্রকাশ পায় না। অনেক শিশুর প্রতিভা তো উচ্চমাধ্যমিক পার করে কলেজের সময়ও দেখা দেয়। তাই ছোট বয়সে শিশুদের উপর অত্যধিক মানসিক চাপ সৃষ্টি না করে তাদেরকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে পড়ালেখার প্রতি আকৃষ্ট করুন। সকল বিষয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করুন। আর নিজে হতাশ না হয়ে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাকে প্রতিভাবান হিসেবে গড়ার মেহনত অব্যহত রাখুন।

ভুল ধারণা-৩)

শিক্ষামূলক কার্টুন বা ভিডিও শিশুদেরকে স্মার্ট বানায়

কথাটি মোটেও সত্য নয়। বরং, বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। ৩ বছর বয়সের পূর্বে কখনই কোনো শিশুকে স্মার্টফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস হাতে দেওয়া উচিত নয়। শিক্ষামূলক কার্টুন বা ভিডিওগুলো শিশুদেরকে কেবল একমুখী শিক্ষার দিকে ধাবিত করে। এ বয়সে কেবল তারা শুধু চোখেই দেখে। বাস্তবে কিছুই তারা অনুধাবন করতে পারে না। কার্টুন বা ভিডিওর বিভিন্ন রঙ ও ক্যারেক্টরের নাড়াচাড়া এসব আসলে শিশুদেরকে শুধু আকৃষ্টই করে। শিক্ষামূলক কোনোকিছু তারা এখান থেকে পায় না। শিশুদের মস্তিষ্কের প্রসেসর বয়স্কদের তুলনায় অনেক ধীরগতির হওয়ায় ভিডিওতে দ্রুত পরিবর্তন হওয়া কোনোকিছু শিশুদের পক্ষে বিশ্লেষণ করে বুঝে উঠা সম্ভব হয় না।

ভুল ধারণা-৪)

সম্মুখে প্রশংসা করলে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে

আপনার সন্তান গণিত বা কোনো কঠিন বিষয় নিজে সমাধান করে ফেললে বা দ্রুত একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে যখন আপনি তার সামনেই তার বুদ্ধির প্রশংসা করবেন, তখন এটি আপনার সন্তানকে এই সংকেত দিচ্ছে যে, নিজেকে বুদ্ধিমান প্রমাণ করার জন্য যেকোনো মূল্যে ভুল পরিহার করতে হবে। এই চিন্তা তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গেলে এর চেয়ে কিছুটা কঠিন জিনিসও সে আর করার চেষ্টা করবে না। সে নিজে যেগুলো সহজে করতে পারে সেগুলোই সে করতে চাইবে।

সম্মুখে এরকম প্রশংসা শিশুকে পরিশ্রম করে কোনোকিছু সমাধানে নিরুৎসাহিত করে। সম্মুখে প্রশংসা করার চেয়ে আপনি তাকে বলুন যে, আপনি খুশি হয়েছেন বা তার কাজ আপনার কাছে ভালো লেগেছে। এরপর তাকে আরও ভালো কিছু করার জন্য উৎসাহিত করুন। এতে তার চেষ্টা বাড়বে আর পাশাপাশি মেধাও বিকশিত হবে।

শিশুরাও অনেক সময় ভুল করবে। কারণ সকল বিষয়েই তাদের অভিজ্ঞতা অনেক কম। ভুল করলে তাকে অনুৎসাহিত না করে তার প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করুন এবং সামনে আরও ভাল করার জন্য অনুপ্রাণিত করুন। এতে করে তার মনোবলও ভাঙ্গবে না এবং যেকোনো সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ নিজ থেকে সমাধানের চেষ্টা করবে। কোনো সমস্যা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পাশ কাটানোর মনোভাব তার মধ্যে আর থাকবে না।