সন্তানের প্রথম স্কুলে যাওয়ার সময় কী কী খেয়াল রাখবেন?

সন্তানরূপে ছোট্ট প্রাণ পৃথিবীতে এলে বাবা মায়ের আনন্দের সীমা থাকে না, সন্তানকে বড় করে তোলা, প্রথম কথা বলতে শেখানো, হাঁটতে শেখানো, প্রথম তার মুখে মা ও বাবা ডাক শোনার আনন্দের সঙ্গে সঙ্গেই এসে পড়ে সেই বিশেষ দিনটি। সন্তানে প্রথম স্কুল যাওয়ার দিন। 

প্রত্যেক বাবা মায়ের কাছে এই দিনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, এই দিনই তাদের আদরের ছেলে বা মেয়ে বাড়ির নিরাপদ ঘেরাটোপ ছেড়ে পৃথিবীর বুকে পা রাখে। বাবা মা ও পরিবারের বাইরে নতুন মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় হবে। সন্তানের এই বিশেষ দিনটির জন্য ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা আপনাকে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই করতে হবে। সন্তানকে তৈরি করতে হবে যাতে সে বাড়ির বাইরে নতুন পরিবেশে ঘাবড়ে না যায়। এর জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি নিতে হবে,

স্কুলে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে

উদ্বগে ভুগবেন না। মনে রাখবেন আপনার সন্তান অচেনা পৃথিবীর সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, এই সময় আপনার শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব তাকে সাহস যোগাবে। আপনি যদি উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সেও অস্থির হয়ে উঠবে। উলটে তাকে বোঝান যে প্রথম স্কুলে যাওয়া আসলে কতখানি মজাদার ও আনন্দের। এর ফলে তারও স্কুলে যাওয়ার প্রতি ভীতি কেটে আনন্দ ও উৎসাহ আসবে।

অনেক সময় বাবা মায়েরা এই সময়টা একটু বেশি ব্যতিব্যস্ত থাকেন। স্কুলের বই খাতা ইউনিফর্ম ইত্যাদি গোছানোর দিকে তাদের বেশি নজর থাকে। এটার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ছেলে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানো। তাদের বই খাতা গুছিয়ে রাখতে শেখানো। ইউনিফর্ম পরতে শেখানো। যদি সম্ভব হয় তবে তাঁর সমবয়সী যে সমস্ত ছেলে মেয়ে তার সঙ্গে স্কুলে যাবেন তাদের বাবা মা সহ তাদের  আমন্ত্রণ জানান আপনার বাড়িতে। আসল ব্যাপার হল সন্তানকে স্কুলের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলা। 

স্কুলে যাওয়ার একদিন আগে

পরের দিন স্কুলে কী কী মজা হবে সেই বিষয়ে সন্তানের সঙ্গে হালকা চালে কথা বলুন। তার যে অনেক নতুন বন্ধু হবে সেই বিষয়ে তাকে ভরসা দিন। স্কুল যে একটা আনন্দময় অভিজ্ঞতা এই বিশ্বাস তাকে আপনিই দিতে পারেন।
ঘুমোতে যাওয়ার আগে সন্তানকে বলুন তার স্কুলের ইউনিফর্ম ও বইখাতা সে যেন গুছিয়ে রাখে। প্রয়োজন তার প্রিয় দুটো সফট টয় তার ব্যাগে দিয়ে দিন। তাহলে স্কুলে গিয়ে যদি কখনও একা লাগে সে পরিচিত খেলনা দুটিতে নিরাপদ বোধ করবে। গল্প বলে আদর করে ঘুমোতে পাঠান। পরের দিনের কথা ভেবে সে যেন ভয় না পেইয়ে যায়। 

স্কুলের প্রথম দিন

শান্ত ভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হোন। ভাল করে নাস্তা করিয়ে তবেই স্কুলের জন্য নিয়ে যাবেন। প্রথম দিন বাবা ও মা দুজনেই যদি সন্তানের সঙ্গে যায় তাহলে সন্তান বিশেষ ভরসা পায়। প্রথম দিনে সেপারেশন অ্যাংজাইটি খুবই প্রকট থাকে, বিশেষ করে বাবা ও মা যখন বিদায় জানিয়ে চলে যায় তখন। সেই সময় সন্তান কাঁদলেও পিছু ফিরে তাকাবেন না। বরং তাকে এই ভরসা দিয়ে যাবেন যে স্কুল ছুটি হলেই আপনি আসবেন।

স্কুল ছুটির পর আর এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। ফেরার পথে জিজ্ঞাসা করবেন যে তার দিন কেমন গিয়েছে, স্কুলে সে কী কী শিখল। ছোট ছোট প্রশংসা করবেন। সে আনন্দ করে কিছু বললে মন দিয়ে শুনবেন। এইভাবেই আপনার সন্তান স্কুলকে ভালবাসতে শিখবে। 

সন্তানের স্কুল শুরু হলে আপনার ও তার একটা রুটিন শুরু হবে। সেই রুটিন যাতে একঘেয়ে হয়ে না যায় সে বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। এছাড়াও সন্তান যাতে স্কুলে বাইরের লোকের থেকে কিছু গ্রহণ না করে বা অচেনা লোকের সঙ্গে কোথাও না যায় সে বিষয়ে শিক্ষা দেবেন। গুড টাচ ও ব্যাড টাচ নিয়ে গভীরভাবে শিক্ষা দেবেন। 

স্কুল যাওয়া নিয়ে সমস্যা

অনেক সময় শিশু একেবারেই স্কুলে যেতে চায় না, সহপাঠীদের সঙ্গে সমস্যা হয় বা স্কুলের কোনও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে সমস্যা হয়। শিশু একা ও ভীত অনুভব করে। এই সমস্ত বিষয়ে সোজাসুজি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। বুলিইং বা র‍্যাগিং এর বিরুদ্ধে সবসমউ গর্জে উঠবেন। 

এই পদ্ধতিগুলি পালন করলে তবেই আপনার সন্তানের স্কুলের যাওয়ার অভিজ্ঞা মধুর হয়ে উঠবে। আল্লাহর কৃপায় আপনার সন্তান হয়ে উঠবে বিচক্ষণ ও শিক্ষিত।