সন্তান লালন পালনে মেনে চলুন ১২টি নীতি

Enfant avec parents dans la forêt
© Narongrit Sritana | Dreamstime.com

সন্তানকে সঠিক পথে বড় করে তোলা ইমানদার মুসলমান পিতা মাতার একান্ত কর্তব্য। কিন্তু কোন উপায়ে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ হবে। কোন উপায়ে শিশু হয়ে উঠবে দৈহিক ভাবে সবল ও মানসিক ভাবে স্থিতধী তা নিয়ে অনেক বাবা মা-ই বেশ সংশয়ে ভোগেন। অতিরিক্ত শৃঙ্খলা, নাকি যুক্তিপূর্ণ প্রশ্রয়, কোন পথে গেলে শিশুর উপকার হবে এ বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই। 

শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা মাত্রাতিরিক্ত হলে শিশুর সহজাত আনন্দ ও বেড়ে ওঠায় বাধা আসে। 

আল্লাহ বলেইছেন, শিশুরা আসলে আমাদের জন্য তাঁর উপহার। এই উপহারের প্রতি যত্ন নেওয়া আমাদের মহান দায়িত্ব, কারণ শিশুর হাত ধরেই আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সংযোগ হয়। 

সঠিকভাবে সন্তানক বড় করার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো বিবেচনা করতে পারেন,

১। নিজেকে সঠিক উদাহরণ হিসাবে গড়ে তুলুন

মনে রাখবেন আপনি হলেন শিশুর আয়না। শিশু আপনাকে দেখেই প্রাথমিক আচার ব্যবহার শেখে। তাই নিজেকে সৎ, দায়িত্বমান মানুষ হিসাবে শিশুর সামনে তুলে ধরুন। রাগ, ক্ষোভ ইত্যাদির প্রকাশ তার সামনে না দেখানোই ভাল। আপনি যেরকম আচার আচরণ করবেন পরিবারের বাকিদের সঙ্গে, শিশুও ঠিক তাই শিখবে।

২। উৎসাহিত করুন

আমরা বেশি প্রশ্রয় পেয়ে যাবে এই ভয়ে শিশুকে খুব বেশি উৎসাহ দিই না। এটি একটি ভুল পদক্ষেপ। আপনার সন্তান যদি আপনার থেকে কিঞ্চিত উৎসাহও পায় তাহলে সে নানারকম সদর্থক কাজে আরও উৎসাহী হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমেই তার ব্যবহারিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে।

৩। সামাজিক বিধি শেখান

 সমাজে থাকার জন্য আমাদের সকলকেই কিছু বিশেষ বিধি ও নিয়ম মানতে হয়। আল্লাহর উপাসক হিসাবে আমাদের নিজস্ব কিছু উসুল রয়েছে। শিশুর বোঝার বয়স হলে তাকে আস্তে-আস্তে এই বিষয়ে শিক্ষা দিতে শুরু করুন।

৪। দায়িত্ব নিতে শেখান

সন্তানকে বলুন তার নিজের খেলনাগুলো যেন সে নিজেই গুছিয়ে রাখে। তার খেলনার ঘরটি সামলে রাখার দায়িত্ব তার। সপ্তাহে একদিন দুপুরে বাড়ির লোক কী খাবে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। এভাবে সে স্বাধীন চিন্তাভাবনায় সক্ষম হয়ে উঠবে, কনফিডেন্সও বাড়বে।

৫। অধিকার দিন

একটু বোঝার বয়স হলে তাকে অল্প অল্প করে নানা কাজে ও নানা জায়গায় অধিকার দিন। তার ভাই বোনের পোষাক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দিন। কিংবা, তার খেলনার বাক্স সে কোথায় রাখবে সে বিষয়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। এভাবে অধিকার ও অথোরিটি দিলে একসময় সে নিজেকে নিপুণ ভাবে সামলে চলতে পারবে।

৬। সন্তানের কথা শুনুন

আপনি যদি মনে করেন শিশুর অনুভূতি নেই তাহলে একান্তই ভুল করবেন। তাই তার কথা শুনুন, সে কী বলতে চাইছে, তার কী অসুবিধা এগুলো আপনি যদি শোনেন সেও আপনার কথা শুনবে। চেষ্টা করুন সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠতে।

৭। নিষেধের ভাষা পাল্টান

শিশুর প্রবণতা থাকে তাকে যা না করতে বলা হয় তা করার। তাই না বলার ভাষা পালটান। সে যদি ঘরে বল নিয়ে খেলে তাহলে ‘এখানে বল নিয়ে খেলো না’র পরিবর্তে ‘বাইরে গিয়ে খেললে তো আরও আনন্দ হবে’ বলুন, দেখুন শিশু বুঝবে ও সেস্থান থেকে সরে যাবে।

৮। লক্ষ্য স্থির করে দিন

না, এটা ভুল ধারণা যে লক্ষ্য স্থির করে দিলে শিশুর বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা আসবে। বরং সপ্তাহে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বেঁধে দিলে সে হয়ে উঠবে আরও শৃঙ্খলাপরায়ণ।

৯। শাস্তির নামে মারধোর অত্যাচার করবেন না

শাস্তি হবে বুদ্ধিদীপ্ত, যেন সেখান থেকে শিশু কিছু শিখতে পারে। মারধোর বা অত্যাচার করলে শিশু আরও জেদি হয়ে যায় বা ভয় পেতে শেখে। উভয়ই তার বেড়ে ওঠার পক্ষে ক্ষতিকর।

১০। আলোচনা করে মধ্যপন্থায় আসুন

শিশুর সমস্ত মতামতকে গায়ের জোরে বা ধমক দিয়ে থামিয়ে দেবেন না। আপনার আর আপনার সন্তানের যদি মতের অমিল হয় তাহলে আলোচনা করুন ও একটি মধ্যপন্থায় আসুন। এতে আপনার শিশুর মানসিক বৃদ্ধিও হবে।

১১। পুরস্কার দিন

অহোরহ উপহার দিলে শিশু লোভী হয়ে পড়ে। তাকে শেখান কোনও একটি কাজ করার পর পুরস্কারের মাহাত্ম্য। তাহল সে পরবর্তীতে নিজেকে সেইভাবেই মোটিভেট করতে পারবে।

১২। নীতিপূর্ণ হতে শিখুন

শিশুকে যা শেখাচ্ছেন তা নিজের জীবনেও মানতে শিখুন। অন্যথায় শিশু আপনাকে দেখে বিচলিত হয়ে পড়বে। কথা ও কাজের সামঞ্জস্য দেখলেই সে নিজেও সেটি অনুসরণ করতে চাইবে।

সন্তান একটি পরিবারে আল্লাহর আশীর্বাদস্বরূপ, একটি পরিবারর আনন্দের হেতু। সেই সন্তানকে মনের মতো করে মানুষ করার তৃপ্তি আপনার উপর বর্ষিত হোক।