সন্দেহ এবং মন্দ চিন্তা কীভাবে দূর করবেন?

ID 31604614 © Tijanap | Dreamstime.com

যাদের মনে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয় তারা এই হাদিসটি মনোযোগ সহকারে শুনুনঃ

এক সাহাবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, “আল্লাহর রাসূল! অনেক সময় আমার মনে এমন সব কথা আসে, যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়াও আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। আমি কী করতে পারি?” নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জওয়াব দিলেন-“এটা তো খাঁটি ঈমানের আলামত” (সহীহ মুসলিম)

এটা জেনে রাখুন যে, আপনি যা অনুভব করেন, তার জন্য আল্লাহ আপনাকে পুরস্কৃত করবেন, এমনকি আপনার মনে যে অনাহূত চিন্তা আসে যেগুলির কারণে আপনি অপরাধবোধ করেন তার জন্যও আপনি পুরষ্কৃত হবেন। আর এমন সন্দেহ আসলে অপরাধবোধ জাগা মূলত ঈমানেরই একটি আলামত।

কারণ শয়তান সর্বদা মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে, কিন্তু আপনি যে এই সন্দেহকে কর্মে পরিণত করছেন না এটাই আপনার ঈমানের সুস্পষ্ট চিহ্ন।

মু’আয রাযিঃ থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে এসেছে, কিছু লোক নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ

“আমাদের মনে এমনসব চিন্তা আসে যার থেকে মরে যাওয়াও আমাদের নিকট ভাল মনে হয়, আমরা এ সকল বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে ঘৃণা করি, কিন্তু এরপরও এরকম চিন্তা আমাদের মনে কেন আসে? কিভাবে আমরা এ থেকে রেহাই পেতে পারি?”

নবীজী জবাবে বললেনঃ

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি শয়তানের পক্ষ থেকে আসা এ সকল চিন্তা বাস্তবায়িত হতে দেন না।” 

হাসান বাসরী (রহঃ) বলেছেনঃ

“শয়তান সবসময় তোমাদেরকে বিপথগামী করার চেষ্টা করে। আর এরই একটা প্রকার হল দ্বীন সম্পর্কে মনে সংশয় সৃষ্টি করা। তাই তোমাদের মনে যখন কোনো অনাহূত চিন্তা আসে আর তোমরা তা কার্যে পরিণত না কর, তখন এ কারণে আল্লাহ কখনই তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন না।”

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“পরাক্রমশালী আল্লাহ আমার উম্মাহকে তাদের মনে যা উদ্ভব হয় তার জন্য ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা এ বিষয়ে কথা বলে বা তা কাজে রূপান্তর করে।”

সন্দেহ এবং অনাহূত চিন্তা উদ্ভব হওয়া কোনো সমস্যা নয়। তাই এজন্য নিজেকে কখনও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবেন না।

এটি স্বাভাবিক এবং প্রত্যেককেই এ অবস্থার মধ্য দিয়ে একসময় যেতে হয়। আপনি কিভাবে এ অবস্থাটি অতিক্রম করছেন সেটিই হল মূল বিষয় । এ কারণে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শয়তান আপনার ইতিবাচক মুহূর্তগুলি গ্রহণ করবে এবং সেগুলি নষ্ট করার চেষ্টা করবে।

সুতরাং, আপনি যখন আপনার চারপাশে তাকিয়ে আল্লাহর সৃষ্টিকে দেখবেন তখন শয়তান এসে আপনার মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করবে, “এগুলি কে সৃষ্টি করেছে?” আপনি বলবেন, “আল্লাহ”, এবং তখন শয়তান আবার আপনার মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করবে, “তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?” নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“এই মুহূর্তে, শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর।”

তিনি অন্য হাদিসে বলেছেনঃ

“শয়তান যখন তোমাদের মনে বিভিন্ন চিন্তা অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা করবে, সেই মুহূর্তে বল, ‘আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখি’, এতে শয়তান দৌড়ে পালাবে।”

আপনার চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহ আপনাকে কখনও শাস্তি দিবেন না। বস্তুতঃ আপনি এই চিন্তাগুলির সাথে কিভাবে আচরণ করছেন, আল্লাহ আপনাকে সেটির প্রতিদান দিবেন এবং এটি ঈমানের নিদর্শন।

সুতরাং, শয়তান যখন আপনার মনে বিভিন্ন চিন্তা অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা করবে, তখন বলুন, ‘আমানতু বিল্লাহ’ (আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখি)। এর ফলে শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল হয়ে পড়বে এবং আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।