সফল উদ্যোক্তা হতে চান? মেনে চলুন এই ৮টি ব্যবসায়িক শিক্ষা

Co working hot desk

ব্যবসার ক্ষেত্রে আমরা সকল মহিলা উদ্যোক্তাকে উত্সাহিত করতে চাই। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা এখানে একজন মহিলার ব্যবসায় সফলতার গল্প আপনাদেরকে শোনাতে চাই।

মহিলাটির নাম হাজেরা খান। তিনি নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে ব্যবসার দিকে মনোযোগ দেন। তিনি দুই সন্তানের জননী এবং এর পাশাপাশি অ্যামাজনে একজন সফল উদ্যোক্তা।

আসুন তাঁর মুখ থেকেই তাঁর অভিজ্ঞতাগুলো আমরা শুনে নিই।

হাজেরা খান বলেন, আমি যেসময় ব্যবসা শুরু করেছিলাম সে সময় আমার খুব একটা অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে দীর্ঘ ৩বছরে আমি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি যেগুলি আমাকে সফলতা অর্জনে সাহায্য করেছে।

নিম্নে আমার ৩বছরের অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হল। আশা করি এগুলি আপনাদের সফলতার জন্যও সহায়ক হবে।

-ধারাবাহিকতা

ব্যবসার মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন। রোজ অল্প হলেও আপনার ব্যবসায় সময় দিন। কোনোদিন হয়ত আপনি অনেক লাভবান হবেন আর কোনোদিন হয়ত লাভের পরিমাণটা কমে যাবে। তবে এতে হতাশ হয়ে কাজ ফেলে রাখবেন না। কোনোদিন খুব বেশি ব্যস্ততা থাকলেও অল্প হলেও সময় দিন। এটি আপনার সফলতাকে নিকটবর্তী করবে।

-রুটিন

রুটিনমাফিক কাজ করা আর রুটিনবিহীন যেকোনোভাবে কাজ করার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। কোনো বিষয়ে প্রকৃত সফলতা পেতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট একটি রুটিন অনুসরণ করতেই হবে।

এমন না যে, রুটিন প্রত্যেকদিনই ১০০% মানতে পারবেন। হয়ত কোনো ঘাটতি থেকেই যাবে। তবে রুটিন সামনে থাকলে আপনার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। প্রত্যেকটি কাজ আপনি সুন্দরভাবে গোছাতে পারবেন। আর রুটিনবিহীন কাজ হলে কাজ যেমন অগোছালো হবে, তেমনি অনর্থক কাজেও সময় বেশি ব্যয় হবে।

সুতরাং, রুটিন থাকার ফলে আপনি আরও পরিপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ দিন অতিবাহিত করতে পারবেন।

-পরিকল্পনা ও লক্ষ্য স্থির করা

আপনার পরিকল্পনায়, দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্প-মেয়াদী লক্ষ্যগুলির জন্য আলাদা আলাদা বিভাগ রাখুন। দীর্ঘমেয়েদী লক্ষ্যসমূহ কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন আর স্বল্প-মেয়াদী লক্ষ্যসমূহ কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন তার জন্য পৃথক পরিকল্পনা তৈরী করুন এবং সে মোতাবেক প্রতিদিনের পদক্ষেপ কেমন হবে সেটি নির্বাচন করুন।

-যথাযথভাবে লেনদেনের হিসাব রাখা

এটি আপনার ব্যবসার মেরুদন্ড। আপনি যদি যথাযথভাবে ব্যবসার পণ্য ক্রয় ও বিক্রয়ের হিসাব না রাখেন তবে এক্ষেত্রে আপনার ব্যবসায় লাভ করার সম্ভাবনা কমে যাবে। লেনদেনের হিসাব না রাখলে ব্যবসা চরম ঝুকির মুখে পড়ে যায়।

যথাযথ হিসাব না রাখলে ব্যবসায় আপনি কতটা লাভ করছেন এবং প্রতি মাসে/বছরে আপনি কত বিক্রয় করছেন বা অর্থ উপার্জন করছেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া খুবই সহজ।

আমি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দেব মাসিক একটি হিসাব রাখতে। বিগত মাসের লাভ-ক্ষতির হিসাব যদি আপনার সামনে থাকে, তবে আগামীতে ভাল করাটা খুবই সহজ।

আপনি নিজে যদি এ বিষয়টি সামলাতে হিমশিম খান তবে হিসাব ভাল বোঝে এমন কাউকে আপনার সাহায্যের জন্য নিয়োগ দিন। হিসাবে গরমিল হলে আপনার সমস্ত পরিকল্পনায় ভেস্তে যেতে পারে।

-সীমাবদ্ধতাগুলিকে সামনে রাখা

কোনো মানুষই স্বয়ংসম্পূর্ণ না। প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো বিষয়ে দুর্বলতা আছে। কোনো কাজে সফল হতে হলে আপনাকে আগে নিজের দুর্বলতাগুলিকে সামনে রাখতে হবে। নিজেকে যদি আপনি পারফেক্ট বা পরিপূর্ণ মনে করেন তবে এটির সম্ভাবনা খুব বেশি যে, সফলতার দেখা আপনার মিলবে না।

-ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য

উদ্দেশ্যবিহীন কোনো কাজ একমাত্র পাগলই করতে পারে। তাই যেকোনো কাজ শুরুর আগে নিজের উদ্দেশ্য স্থির করুন যে, কেন আপনি এই কাজটি করছেন।

হতে পারে ব্যবসার জন্য আপনার অনেকগুলি উদ্দেশ্য আছে। এর মধ্য থেকে যে উদ্দেশ্যটি আপনার লক্ষ্যের বেশি নিকটবর্তী মনে হয় সেটিকেই আপনি স্থির করুন।

যদি প্রকৃতপক্ষেই আপনি ব্যবসায় সফল হতে চান তবে মানুষকে উপকার করে আপনার রবকে সন্তুষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্য স্থির করুন।

-শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা

পরিপূর্ণ শিক্ষা ছাড়া কোনো কাজই ঠিকভাবে সম্পাদন করা যায় না। তাই আগে নিজের ব্যবসা সম্পর্কে পড়ালেখা করুন। এ সম্পর্কে খুটিনাটি জানুন। অন্য যারা এই ধরণের ব্যবসা করছে তাদের কাছ থেকেও শিখুন। এটি আপনার সফলতাকে নিকটবর্তী করবে এবং ব্যর্থতাকে দূরে সরিয়ে দেবে।

-ব্যায়াম ও স্বাস্থ্য

নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে যত্ন নেওয়াটাও খুব জরুরী। কারণ আপনি যদি অসুস্থ হয়ে যান বা দুর্বলতা অনুভর করেন তবে আপনি ঠিকভাবে ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে পারবেন না। তাই নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করুন এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন।