সফল উদ্যোগী হওয়ার আগে কর্মী হওয়া দরকার 

Businessman waiting with patience for meeting.
© Studio Grand Web | Dreamstime.com

সফলতা জীবনে আসে ধৈর্য্য ও পরিশ্রমের ফল  হিসাবে। অনেক পরিশ্রম করে একজন মানুষ সফল উদ্যোগী হতে পারে কিন্তু অনেকেই আছেন যারা এক লাফেই সফল হবার চেষ্টা করে আর ব্যর্থ হয়।

একদল মানুষের কথা বলি  যাদের প্রতিমুর্তি আমাদের আশেপাশেই আছে। এরা নিজেকে সবসময় সেরা ভাবে,কারোর অধীনে তারা কাজ করতে চায়না, এরা চায় যে তারা সবার ওপর ছড়ি ঘোরাবে-এগুলো আদৌ কি সম্ভব? কখনোই না। একজন কর্মী হিসেবে কারোর তাঁবেদারি তাদের সহ্য হয় না। তাদের সামনে কেউ বসকে তৈলমর্দন করে সুযোগ গুলো হাতিয়ে নিচ্ছে অথচ তারা কিছু করতে পারছে  না। তখনই তারা ভাবে অন্য কিছু করার, কি লাভ কি সুবিধা সব দেখে অন্য ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বেশিরভাগই দেখে না যে অসুবিধাগুলো কি,ব্যর্থতার দিকগুলো কি হতে পারে। অফিসে বসের অধীনতা ছেড়ে উদ্যোক্তা হবার প্রয়াসে মোটা অঙ্কের মাইনেটা ছেড়ে দিয়ে একটা ছোটো ব্যবসা খুলতে যায় কিন্তু সেখানেও ক্লায়েন্টের সঙ্গে  মতের অমিল,ব্যাবসার পার্টনার এর মধ্যে নতুনত্ব  ভাবনার অভাব খেপিয়ে তোলে তাকে,ফলে প্রচুর লস হয় । মরীচিকার পিছনে ছুটতে ছুটতে তারা তলিয়ে যায়।সঞ্চিত অর্থ ও ব্যাঙ্কের লোন সমস্তকিছূ তখন বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ব্যর্থতা ধীরে ধীরে গ্রাস করে,তখন তারা ভাবে তাদের দ্বারা আর কিছু হবে না।

আবার কিছু মানুষ আছে যাদের ঘরেঘরে নামডাক।তারা কিন্তু কোনো কাল্পনিক হিরো না,এরা বাস্তব জগতের একজন সফল উদ্যোক্তা। এরা হাজার পরিশ্রম করে অনেক ধৈর্য্য ধরে এগিয়েছে।কখনো কোনো কাজকে ছোটো করেনি,দক্ষতার সাথে মন দিয়ে ভালো কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। কারোর কর্মী হিসেবে সে যা শিখেছে,উদ্যোক্তা হিসেবে সেই অভিজ্ঞতাকে সঠিক সময় কাজে লাগিয়েছে।কর্মী না হলে এই অভিজ্ঞতা পাবো কোথা থেকে তাইনা?আগেতো নিজেকে কারোর অধীনে কাজ করতেই হবে,সে কিভাবে সমস্ত কাজ একা হাতে সামলাচ্ছে দেখতে হবে।

একটা কথা মনে রাখতে হবে,ব্যর্থতা কোনো খারাপ জিনিস না,তা আসতেই পারে। ব্যর্থতা মানুষকে শেখায়, হাজারো পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে  কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়,কিভাবে মোকাবেলা করতে হয়।

উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার সামনে থাকবে একাধিক বস, আপনি কর্মী হিসেবে কারোর অধীনে থাকবেন না বলছেন অথচ উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার ক্লায়েন্ট,আপনার পার্টনার আপনার বসের মতোন। যেমন ধরুন আপনার মাথায় নতুন কিছু এসেছে কিন্তু তাদের সাথে মতবিরোধ হচ্ছে,ক্ষতির ভয়ে সেটাই মেনে নিতে হবে,আর ধরুন কোনো জিনিস যেটা আপনার পারফেক্ট লাগছে,কিন্তু আপনার ক্লায়েন্টরা কাজটা আরো ভালো হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে। এর থেকেও এক কাঠি ওপরে হল স্পন্সর যার কাছে টাকার জন্য ঘুরতেই হবে।

ঘড়ি ধরে কাজ করতে পারছেননা?  কর্মী হিসেবে নয়-পাঁচ ঘন্টা বেশি লাগছে?সময়ের দাস ছেড়ে মুক্তি পেতে উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করছেন?কিন্তু আপনার জানা নেই যে একজন উদ্যোক্তার কোনো বিশ্রাম এর সময় হয় না,তার 24 ঘন্টাই কাজ।কখনো ক্লায়েন্ট এর মিটিং,তো পার্টনারদের সাথে আলাপ আলোচনা,সবসময় তৈরী থাকতে হয়।

আচ্ছা ভাবুন তো আপনি উদ্যোক্তা হিসাবে ক্লায়েন্ট,পার্টনার বা স্পন্সর এর সাথে যে ব্যবহার করবেন,সেটা কেমন হওআ উচিত জানবেন কি করে?যদি আপনার অভিজ্ঞতা থাকে তবেই হবে।আপনি যখন কোনো  বসের অধীনে কাজ করছেন,বসের কিছু জিনিস ভালো আবার কিছু খারাপ লাগে।সেই খারাপ লাগাগুলো আপনি উদ্যোক্তা যখন হবেন করবেন না তাহলে আপনার সাথে আপনার অধীনে থাকা মানুষগুলোরও ভালো লাগবে।

এবার আপনার তো শুধু কর্মজীবনই না,ব্যক্তিজীবন ও আছে—সামলাবেন কি করে?এক্ষেত্রেও আপনার বসকে যদি দেখেন সে কিভাবে তার কর্মক্ষেত্রে কাজ সেরে ব্যক্তিজীবনেও সময় বার করছে। কিন্তু যদি আপনার এ অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে তো হিমশিম খাবেন।

ভেবে দেখুন, একজন সফল উদ্যোক্তা শুধু ইতিবাচক দিক ভাবেনা,তাকে নেতিবাচক দিকগুলোকে নিয়েও দিনের শেষে নাড়াচাড়া করতে হয়। তার কর্মজীবনে অভিজ্ঞতা তৈরী না হলে সে কিছুই করে উঠতে পারবেনা, কর্মী হিসাবে সফল হলে উদ্যোক্তা হিসাবেও সম্ভাবনা থাকে।