SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সফল হতে চাইলে যেভাবে সাজাবেন নিজের রুটিন

শিক্ষা ০১ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
রুটিন
© Marek Uliasz | Dreamstime.com

রুটিনমাফিক জীবন পরিচালনাকারীরাই সফলতা লাভ করে থাকে। আমাদের মধ্যে সকলে সফলতা লাভ করতে চাইলেও দুর্ভাগ্যবশত আমরা অনেকেই রুটিন মাফিক জীবন পরিচালনার এই নেয়ামত থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখি। যার কারণে দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ কোনো কাজ করার পরেও মনে হয় যে কাজে বরকত হল না। এই অনুভূতি থেকে আমরা আরোও বেশি নির্জীব হয়ে পড়ি। আমাদের মন আমাদেরকে বলতে থাকে রুটিন মাফিক জীবন পরিচালনা না করার দরূণ দিনটি এমনভাবে গেল।

তাহলে চলুন, দেখে নেওয়া যাক কিভাবে সফল মানুষদের দিন শুরু হয় এবং সারাদিন কিভাবে কাটে।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করেছেন,

“হে আল্লাহ! আমার উম্মত কে তুমি দিনের অগ্রভাগে বরকত দান করো।”

এ হাদিস থেকে সুস্পষ্ট হয় যে, সফল হতে হলে অবশ্যই দিনের শুরু থেকে রুটিনকে সাজাতে হবে। যারা দিনের শুরুর এই বরকতময় অংশটি অলসতায় বা ঘুমের ভিতর কাটায় তাদের রুটিকে কখনই বরকত হবে না।

সময়কে নিয়ে আসুন হাতের মুঠোয়, রুটিন মানুন

জীবনযাত্রার এটা একদম প্রাথমিক দিক। আপনি যদি শিক্ষা, চাকরি বা কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত না হন তাহলে আপনার দিনের শুরুতে আহামরি কোন ব্যস্ততা থাকার কথা নয়। অন্যদিকে যারা কিছুদিন হল মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছেন তারা তাদের ছোট্ট সোনামনিটির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়েই হাঁপিয়ে উঠেন। জীবনকে সময়ের সাথে যুক্ত না করার এমন বিভিন্ন অজুহাত হয়ত আমরা দেখাতে পারব। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আপনি যদি প্রকৃতপক্ষেই সাফল্য পেতে চান, তাহলে এখনি ঘড়িতে এলার্ম সেট করুন। এবং সময়কে নিয়ে আসুন নিজের নিয়ন্ত্রণে।

সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা

আমরা মূলত এলার্ম সেট করি কেন? নিজেদের সারাদিনের কাজের শুরুটা যেন ঠিক সময়ে হয় সেজন্যই তো? তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র এলার্ম সেট করাটাই সমাধান নয়। সকালে উঠেই সারাদিন কি কি করবেন তা ঠিক করে ফেলুন। তাহলে সেই দিনটা কেমনভাবে কাটবে তা আপনি দিনের শুরু থেকেই জানতে পারবেন। এজন্য কোনোকিছু করতে গিয়ে হঠাত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবেন না বা অধৈর্য্য হয়ে যাবেন না। দিনের শুরুতে রুটিনের পিছনে প্রদেয় অল্প সময় আপনার সারাদিনকে করে তুলবে কর্মমুখর ও প্রশান্তিময়।

সালাত দিয়ে নির্মল দিনের সূচনা হোক

ফজরের সালাত আমাদের হৃদয়ে এক স্নিগ্ধ আবেশ এনে দেয়। আমাদের মত সাধারণ কোনো মুসলিমই যদি কোনো কারণে ফজর সালাত আদায় করতে না পারি তাহলে দেখা যায় সারাদিন বিবেকের দংশনে ছিন্ন-বিদ্ধ হতে থাকি। কেমন যেন এক ধরণের অপরাধবোধ হৃদয়ে অনুভূত হয়। এবং একারনে অন্য কোনো কাজেও ঠিকমত মন বসে না। অপরাধবোধের কারণে এরকম মানসিক অশান্তিতে থাকা কখনোই একজন সফল ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

সুতরাং, দিনের শুরু হতে হবে ফজরের সালাত আদায়ের মাধ্যমে। এবং যখনই অন্য সালাতের সময় হবে তখনই কাজ গুছিয়ে সালাতের জামাতে শরীক হতে হবে। যেন মানসিক প্রশান্তির মধ্য দিয়ে আমরা সারাটা দিন অতিবাহিত করতে পারি। দেখবেন সালাত কেন্দ্রিক রুটিন তৈরি করা আপনার দিনকে অনেক বেশি সুন্দর ও সাফল্যময় করে দিবে।

রুটিন-এ থাকুক শরীরচর্চা

সকাল বা বিকালের স্নিগ্ধ বাতাসের সাথে শরীরচর্চা আপনার সারাদিনকে করে তুলবে শক্তিতে ভরপুর। শরীরচর্চা বা ব্যায়াম আমাদের শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। তাই নিজেকে প্রাণবন্ত এবং সুস্থ রাখতে কিছু শরীরচর্চার কৌশল অবশ্যই অবলম্বন করা উচিত। শরীরচর্চার মাধ্যমে নিজেকে করে তুলুন প্রানশক্তিতে ভরপুর একজন মানুষ।

আজকের কাজ আজকেই সম্পাদন করি

আমাদের সারাটা দিন নানা কর্মব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কাটে। এবং মজার ব্যাপার হল আমরা মনে করে সেই কাজগুলো সম্পাদন করেও ফেলি। তবে এটা কি উত্তম নয় যে, আমরা কাজের একটি তালিকা তৈরি করে ফেলবো? যে কাজটি সবার আগে করা উচিত সেটা আগে থাকবে তালিকার সর্বাগ্রে। এতে করে জরুরী কাজগুলো আগে হয়ে সম্পন্ন যাবে এবং অন্য কাজগুলি নিশ্চিন্ত মনে আস্তে ধীরে করা যাবে। এতে দিনের কাজ দিনে সম্পাদন করা সহজ হয়ে যাবে। এবং আমাদের মানসিক চাপও হ্রাস পাবে।

তিক্ততাকে জয় করুন

দিনের শুরুতে বা কোনো অংশে কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। কিন্তু সেই তিক্ততাকে আমাদের সম্পুর্ন দিনটা নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। তিক্ততার এই আবেশকে পাশে ফেলে রেখে দিনটাকে যেন সুন্দরভাবে অতিবাহিত করা যায় সেই পরিকল্পনা আগে থেকে মাথায় রাখতে হবে।

উপরের উল্লেখিত কোনো অভ্যাসই একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়। তবে একজন সফল ব্যক্তি হতে হলে এক একটি অভ্যাস অনেক যত্ন সহকরে আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। এতে করে আমাদের জীবনটা হয়ে উঠবে আরোও বেশি আনন্দময়।