SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সবচেয়ে উত্তম সদকা ও আল্লাহকে ‘উত্তম ঋণ’ দেওয়ার উপায়

যাকাত ২৬ ডিসে. ২০২০
ফিচার
উত্তম সদকা
Kelse

আমরা কি জানি কোন সদকা আল্লাহ বেশি পছন্দ করেন? কোনটি উত্তম সদকা? আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদেরকে প্রতিযোগিতার সঙ্গে সৎ কাজ করার উপদেশ দিয়েছেন। দান-সদকা এসকল সৎ কাজসমূহের মধ্যে অন্যতম। আল্লাহর রাস্তায় দান-সদকার প্রতিযোগিতা দুনিয়া ও আখিরাতে প্রভূত কল্যাণ এনে দেয়।

সর্ব উত্তম সদকা

অভাব-অনটনের সময় এবং সম্পদের প্রতি নিজের প্রয়োজন থাকার সময় দান করার মাঝে রয়েছে সর্বাধিক সওয়াব লাভের ওয়াদা। এবং এরূপ অবস্থায় দান করাটাই মূলত সর্বোত্তম সদকা।

একবার একব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, “হে আল্লাহর রাসুল! দান-সদকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাওয়াব পাওয়া যাবে কোন সদকায়? তখন প্রিয়নবী বললেন,

“তুমি এমন অবস্থায় দান করবে যে, তুমি শারীরিকভাবে সুস্থ; ধন-সম্পদের প্রতি তোমার আগ্রহ আছে; অভাব-অনটনেরও আশংকা করছো এবং ধন-সম্পদের আশাও পোষণ করছো। এ অবস্থায় তুমি দান করার ব্যাপারে এমন কার্পণ্য করো না যে, শেষপর্যন্ত মৃত্যুর সময় এসে যায়। আর তখন তুমি এটা বলা শুরু কর যে, এই পরিমাণ অমুকের এবং সেই পরিমাণ অমুকের। অথচ সে মাল এরআগেই অমুকের (অর্থাৎ, (উত্তরাধিকারদের) জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে।” (বুখারি ও মুসলিম)

এই হাদিসের আলোকে বোঝা যায়- সম্পদের প্রয়োজন থাকা মুহুর্তে গরিব-দুঃখীর মাঝে অর্থ-সম্পদ দান করা সর্বোত্তম ইবাদত এবং সবচেয়ে বেশি সাওয়াবেরও কাজ। আবার সম্পদের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ থাকা অবস্থার দান করাটাও সর্বোত্তম দান। আর এ কারণেই হাদিসে এ ইবাদতকে সর্বোত্তম সাওয়াবের ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

সুতরাং, একজন ঈমানদারের অন্যতম গুণ হলো- আল্লাহর দেওয়া সম্পদ তাঁরই রাস্তায় ব্যয় করা। যারা এ গুণ অর্জন করতে পারবে তাদের জন্য সৎ পথ প্রাপ্তির পাশাপাশি সফলতার ঘোষণাও রয়েছে। আল্লাহ বলেন, “(সফলকাম তারাই) যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে তাঁরই পথে দান করে।”

এ সকল আয়াত ও হাদিস থেকে সর্বোত্তম সদকার বিষয়টি পরিষ্কার হল। বাকি রইল কিভাবে আল্লাহকে তাঁরই বান্দা ‘উত্তম ঋণ’ প্রদান করবে।

আল্লাহকে ‘উত্তম ঋণ’ দেওয়ার অর্থ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ উত্তম ঋণদাতা সম্পর্কে বলেন,

“কে এমন আছে, যে আল্লাহকে ‘উত্তম ঋণ’ দেবে? এরপর তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহিমান্বিত পুরস্কার।” (আল কুরআন-৫৭:১১)

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহকে ‘উত্তম ঋণ’ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, তার বান্দাদেরকে ঋণ দিয়ে তাদের অভাব মোচন করা। কেউ যদি মানুষের প্রতি করুণা করে তাহলে আল্লাহও তার প্রতি করুণা করবেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলিম অন্য মুসলিমকে একবার উত্তম ঋণ (করযে হাসানা) দিলে তা আল্লাহর রাস্তায় সে পরিমাণ সম্পদ দু’বার সদাকা করার সমতুল্য গণ্য হবে।’

তবে বিনা প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করা এবং পাওনা পরিশোধে টালবাহানা করা মারাত্মক অপরাধ এবং ঋণদাতার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের নামান্তর। এ বিষয়টি থেকে সকলকে বাঁচতে হবে।

এক হাদিসে ঋণ গ্রহণের নিন্দা করা হয়েছে এবং ঋণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই দুই রকম হাদিসের মর্মার্থ হলো, বিনা প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয়। সুতরাং এর থেকে বিরত থাকা উচিত।

সদকা নাকি ঋণ কোনটি উত্তম?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“আমি জান্নাতের দরজায় লেখা দেখেছি, সদকা দিলে দশ গুণ সওয়াব পাওয়া যায় আর কাউকে ঋণ প্রদান করলে আঠারো গুণ সওয়াব পাওয়া যায়।”

এর কারণ হল, সদকা প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও চাওয়া হয়, আর ঋণ চাওয়া হয় শুধু প্রয়োজনের কারণে। এটাই স্বাভাবিক অবস্থা। তাছাড়া কারও প্রয়োজন পূর্ণ করে দিলে সে ব্যক্তি যে পরিমাণ খুশি হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এ জন্য ঋণ দেওয়া অনেকক্ষেত্রে সদকা দেওয়ার থেকে বেশি সওয়াবের কাজ হয়ে যায়।

সুতরাং, এ থেকে বোঝা যায়, নিজের প্রয়োজনের মুহুর্তে সদকা করা যেমনিভাবে সর্বোত্তম, তেমনি কারও প্রয়োজন পুরণার্থে তাকে ঋণ দেওয়াটাও আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দনীয়। এই ঋণ যদিও কোনো মানুষকে দেওয়া হয় কিন্তু আল্লাহ এর সম্মানার্থে এটিকে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেওয়া বলে অভিহিত করেছেন।

আল্লাহ তা’আলা মুসলিম উম্মাহকে তার নির্দেশ ও উপদেশ মোতাবেক সম্পদসহ দুনিয়ার যাবতীয় খাহেশাত ও অভাব থাকা সত্ত্বেও তাঁর পথে স্থির থাকার তাওফিক দান করুন। এবং কারও প্রয়োজনার্থে তাকে ঋণ দেওয়ারও তাওফিক দান করুন। আমিন