শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

‘সব কাজই নিয়তের ওপর নির্ভরশীল

ID 88064335 © Tomert | Dreamstime.com

মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সন্তুষ্টি বিধানের ইচ্ছায় কোন কাজের দিকে গভীরভাবে মনোনিবেশ করাকে নিয়ত বলে। নিয়তে আভিধানিক অর্থ হচ্ছে স্পৃহা, মনের দৃঢ় সংকল্প। সকল কাজের মূল হচ্ছে এই নিয়ত। আর বিশেষ করে যদি আমরা সৎ কাজের বিষয়ে বলতে চাই তাহলে অবশ্যই সুচিন্তিতভাবে নিয়ত করতে হবে। কারণ নিয়ত মানুষের কাজকে নিয়ন্ত্রিত করে অর্থাৎ আপনি যে কাজের জন্য পরিপূর্ণ ভাবে, গভীরভাবে নিয়োগ করবেন সেই কাজের দিকে আপনি ধাবিত এবং কাজ সম্পন্ন করার দিকে খুব সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।

নিয়ত সম্পর্কে মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন মজীদে বলেন, ‘বলে দাও, প্রত্যেকেই নিজ নিজ নিয়ত অনুযায়ী কাজ করে।’ (বনী ইসরাইল ৮৪)

‘যে পরকালীন ফসল চায়, তার ফসল আমি বৃদ্ধি করি। আর যে দুনিয়ার ফসল চায়, তাকে দুনিয়া হতেই দান করি কিন্তু পরকালে তার কিছুই প্রাপ্য হবে না।’ (আল-শুরা ২০)

‘যে ব্যক্তি দুনিয়ার নিয়ত রাখবে। আমি তাকে ইহজগতে যতটুকু ইচ্ছা প্রদান করবো, অতঃপর তার জন্য দোযখ নির্ধারণ করবো, সে এতে দুর্দশাগ্রস্ত বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আখিরাতের নিয়ত রাখবে এবং এর জন্য যেমন চেষ্টার প্রয়োজন তেমন চেষ্টাও করবে। যদি সে মুমিন হয় এরূপ লোকদের চেষ্টা কবুল হবে।’ (বনী ইসরাইল ১৮-১৯)

বিশুদ্ধ নিয়ত সম্পর্কে হাদীস:

হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যাবতীয় কাজের ফলাফল নিয়তের উপরেই নির্ভর করে। আর প্রতিটি লোক (পরকালে) তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করে, তার হিজরত আল্লাহ ও রাসূলের উদ্দেশ্যেই হবে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার কোনও স্বার্থ উদ্ধারের নিয়তে হিজরত করে, মূলত তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে।’ (বুখারী, মুসলিম)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের সৌন্দর্য ও সম্পদের দিকে লক্ষ্য করেন না, বরং তোমাদের অন্তকরণ ও কাজের দিকে লক্ষ্য করেন।’ (মুসলিম)। এ আয়াতে আমরা সুস্পষ্টভাবেই দেখতে পাচ্ছি যে নবীজি আমাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ত ও কাজের দিকে লক্ষ্য করতে বলেছেন। কারণ কারো যদি কোন কাজের পূর্বে নিয়ত ঠিক না থাকে তাহলে সেই কাজের স্রষ্টার রহমত ও বরকত পাওয়া মুশকিল হয়ে যেতে পারে। আর যেসব কাজে বা ভাল কাজে গভীরভাবে আমরা নিয়ত করতে পারবো সেই কাজে মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত ও বরকত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক অনেক বেশি।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে, যিনি শহীদ হয়েছেন। তাকে আল্লাহর দরবারে হাজির করে তার প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত যাবতীয় নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হবে। সে ওইসব নিয়ামত প্রাপ্তি ও ভোগের কথা স্বীকার করবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে তুমি আমার এসব নিয়ামত পেয়ে কি করেছো? সে উত্তরে বলবে আমি আপনার পথে লড়াই করতে করতে শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়ে গেছি। আল্লাহ বলবেন তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি বীর খ্যাতি অর্জনের জন্য লড়াই করেছ এবং সে খ্যাতি তুমি দুনিয়াতেই পেয়ে গেছো। অতঃপর তাকে উপুড় করে পা ধরে টেনে হেঁচড়ে দোযখে নিক্ষেপ করার হুকুম দেয়া হবে এবং সে দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে। এভাবে হাজির করা হবে এমন ব্যক্তিকে যাকে আল্লাহ স্বচ্ছলতা ও নানা রকম ধন-সম্পদ দান করেছেন। তাকে তার প্রতি প্রদত্ত নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হবে। সে এসব নিয়ামত প্রাপ্তি ও ভোগের কথা স্বীকার করবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, এসব পেয়ে তুমি কি করেছো? সে বলবে আমি আপনার পছন্দনীয় সব খাতেই আমার সম্পদ খরচ করেছি। আল্লাহ বলবেন তুমি মিথ্যে বলছো। তুমি দাতারূপে খ্যাত হবার জন্যেই দান করেছো। সে খ্যাতি তুমি অর্জনও করেছো। তারপর ফায়সালা দেয়া হবে এবং উপুড় করে পা ধরে টেনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম)।

পরিশেষে আমরা এটা অনায়াসে বলতে পারি যে আমাদের সকল কাজের পূর্বে নিয়ত করতে হবে কারণ নিয়ত এমন একটি গাইডলাইন, এমন একটি স্বচালিত কার্যক্রম যা নিয়তকারীকে তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই প্রতিটি কাজের পূর্বে আমাদের মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে রহমত ও বরকতের জন্য দোয়া চাওয়া উচিত এবং সুন্দর নিয়ত করে কাজ শুরু করে দেওয়া উচিত। আলামিন আমাদের সকলকে কবুল করুক।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন