সমাজ আঘাত দেবেই, আমরা বিশ্বাসে অটল থাকবো

kdwk-leung-InFd1nPqj1Y-unsplash (1)
Fotoğraf: Kdwk Leung-Unsplash

যখন আমি বড় হচ্ছিলাম আমি ভাবতাম পৃথিবী একটি নিখুঁত জায়গা। কিন্তু আসলে তা ছিল না। নিখুঁত বলতে আমার বিশ্বাস ছিল, কারও সাথে কখনও অন্যায় করা উচিত নয় এবং যদি করা হয় তবে অবশ্যই ন্যায়বিচার করা উচিত।

এই একটি জিনিসের জন্য আমি কঠোর লড়াই করেছি। তবে আমার সংগ্রামে আমি এই জীবন সম্পর্কে একটি মৌলিক সত্যকে উপেক্ষা করেছি। আমার বাল্য আদর্শবাদে, আমি বুঝতে পারিনি যে এই পৃথিবীটি সহজাতভাবে অসম্পূর্ণ। মানুষ হিসাবে আমরা সহজাতভাবে অসম্পূর্ণ। সুতরাং আমরা সর্বদা গণ্ডগোল করব।

এর অর্থ কি আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা বন্ধ করে দিব? অবশ্যই না। তবে এর অর্থ হল পৃথিবী সর্বদা সহজ নয়। এখানে লোকেরা আমাদের হতাশ করবে এমনকি নিজের পরিবারও আমাদের হৃদয় ভেঙে ফেলতে পারে। তখন আমরা কীভাবে ক্ষমা করতে শিখব? কীভাবে দুর্বল না হয়ে আরও শক্ত হয়ে উঠব?

এই উত্তরগুলি খুঁজতে শুরু করলে আমাদের প্রথমে আমার নিজেদের জীবনের বাইরে থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের আগে যারা এসেছিলেম তাদের দিকে নজর দিতে হবে, তাদের সংগ্রাম এবং তাদের বিজয় অধ্যয়ন করতে হবে।

আমাদের নবীদের উজ্জ্বল উদাহরণগুলি স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমাদের ব্যথা বিচ্ছিন্ন নয়। মনে রাখবেন যে নবী নূহকে তাঁর সম্প্রদায় ৯৫০ বছর ধরে নির্যাতন করেছিলেন। কুরআন আমাদের বলে: “তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও মিথ্যারোপ করেছিল। তারা মিথ্যারোপ করেছিল আমার বান্দা নূহের প্রতি এবং বলেছিলঃ এ তো উম্মাদ। তাঁরা তাকে হুমকি প্রদর্শন করেছিল।” (আল-কুরআন, ৫৪: ৯) নুহকে এত বেশি নির্যাতন করা হয়েছিল যে অবশেষে তিনি “অতঃপর সে তার পালনকর্তাকে ডেকে বললঃ আমি অক্ষম, অতএব, তুমি প্রতিবিধান কর।'” (আল- কোরআন, ৫৪:১০)

অথবা আমরা স্মরণ করতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কীভাবে পাথর ছুঁড়ে মারা হয়েছিল, যতক্ষণ না তিনি রক্তপাত করেছিলেন।  আল্লাহ আমাদের বলেছেন: “আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।’” (আল-কোরআন, ২:৩০)

আমরা কখনই সমস্ত ব্যথা এড়াতে পারি না, তবে আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের প্রতিক্রিয়া প্রচুর বিধ্বংসাকে এড়াতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অন্য ব্যক্তির প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা এবং আশা স্থাপন করা উচিত নয় বরং কেবল সরল বোকামি। আল্লাহ বলেছেন: “দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।“ (আল-কোরআন, ২: ২৫6)

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাহিনীতে হুবহু তার সুন্দর উদাহরণ রয়েছে। তাঁর কন্যা `আয়েশা (রাঃ) এর সম্পর্কে নিকৃষ্টতম নিন্দা ছড়িয়ে পড়ার পর আবু বকর (রাঃ) জানতে পারেন যে যে ব্যক্তি গুজব শুরু করেছিলেন তিনি হলেন মিস্তাহ, এক চাচাত ভাই, যাকে আবু বকর আর্থিকভাবে সহায়তা করছিলেন। স্বভাবতই আবু বকর অপবাদ দানকারীকে যে দাতব্য কাজ দিয়ে আসছিলেন তা বন্ধ রাখেন এর পর। এরপরেই আল্লাহ তা’আলা নিম্নলিখিত আয়াতটি নাজিল করেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা উচ্চমর্যাদা ও আর্থিক প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন কসম না খায় যে, তারা আত্নীয়-স্বজনকে, অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদেরকে কিছুই দেবে না। তাদের ক্ষমা করা উচিত এবং দোষক্রটি উপেক্ষা করা উচিত। তোমরা কি কামনা কর না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।” (আলাকোরআন, ২৪:২২) এই আয়াত শুনে আবু বকর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি আল্লাহর ক্ষমা চান, এবং তাই তিনি কেবল লোকটিকে অর্থ প্রদানই করেননি, তাকে আরও বেশি দান করেছিলেন।

এই ধরনের ক্ষমা করা বিশ্বাসী হওয়ার মূলে রয়েছে। এই বিশ্বাসীদের বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন: “যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে এবং ক্রোধাম্বিত হয়েও ক্ষমা করে।” (আল-কোরআন, ৪২:৩৭)

আল্লাহর রহমতের এই প্রত্যাশাটি ক্ষমা করার জন্য আমাদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষাকে উদ্বুদ্ধ করা উচিত এবং একদিন এমন এক বিশ্বে প্রবেশ করা উচিত যা সত্যই নিখুঁত।