সময়ের পূর্ণ ব্যবহার করুন, রইল ১০টি টিপস

Smart watch with sleep tracker app, mask, pills and vintage alarm clock. Tips to beat insomnia, analyzing sleep quality.

সময় জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সময়ের অপব্যবহারের কারণে মানুষের জীবন অর্থহীন হয়ে যায় আবার এই সময়ের পরিপূর্ণ ব্যবহারের কেউ হয়ে ওঠে পরিচিত ও অপরিচিত সবার মাঝে সফল ও ঈষনীয় সাফল্যের অধিকারি। কথায় আছে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।

সময় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বঃ

সময় অত্যন্ত মূল্যবান। তবুও আমরা সেটা অবহেলায় নিয়মিত নষ্ট করে ফেলি। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সফলতা নিশ্চিত। সময় মানুষের সবচেয়ে সীমিত সম্পদ। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য সুন্দর পরিকল্পনার বিকল্প নেই। পরিকল্পনা হলো যে কোন কাজের দরজা। কোন কাজের পরিকল্পনাই কাজের অর্ধেক।
সাফল্যের স্বর্ণদুয়ারে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন সময়ের পরিকল্পিত ব্যবহার ও সুন্দর পরিকল্পনা। লক্ষ্য বা টার্গেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সময় ব্যবস্থাপনার সুন্দর পরিকল্পনা।
সময় ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলও পরিকল্পনামাফিক সময়ের ব্যবহার। সুষ্ঠু সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরো বেশী সাফল্যের সঙ্গে শেষ করা সম্ভব।

নিচে দশটি টিপস দেওয়া হল যার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার কর্মদক্ষতাকে বাড়াতে সক্ষম হবেন।

১। আপনার কাজের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ আপনার সাফল্যের জন্য একটি শক্তিশালী অস্ত্র। এর জন্য আপনার ইচ্ছেই যথেষ্ট।

২। কোনো কিছুতে না বলতে পারার ক্ষমতা সহজ কোনো কাজ নয়। কিন্তু আপনার সময় ব্যবস্থাপনার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক বিষয়ে ব্যস্ততা আপনার মূল কাজ থেকে আপনার মনোযোগের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তাই আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, আপনার সীমাবদ্ধ সময়কে আপনি কিভাবে কাজে লাগাবেন।

৩। একইসাথে একাধিক কাজ কখনোই আপনার কাজকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে না। আপনার সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে আপনার উচিত একটি কাজ সম্পন্নের পর অপর একটি কাজ সময়মত সম্পন্ন করা।

৪। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাটানো সময়কে সীমিত করুন। আপনার অনেক সময় বেঁচে যাবে।

৫। আপনার কার্যতালিকার সবগুলো কাজ করার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনার কার্যতালিকার জরুরি প্রয়োজনভিত্তিক কাজগুলো করার দিকে আপনি মনোযোগ দিন। এটি মনে রাখবেন, ‘জরুরি কাজ’ এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ দুইটি ধারণার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

৬। আপনার কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট দিন, তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে নিন। কখন, কবে কোন কাজটি করবেন, তা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখুন। অন্য কাউকে তাদের কাজ দ্বারা আপনার সময়কে পূর্ণ করার সুযোগ দেবেন না। আপনার নিজের কাজের পরিকল্পনা রাখুন এবং নিজের সময়কে পূর্ণভাবে কাজে লাগান।

৭। যদি কখনো কোনো কাজের জন্য আপনাকে লাইনে অপেক্ষা করতে হয়, তখন আপনি আপনার সময়কে কাজে লাগাতে পারেন কোনো কাজের নোট তৈরির মাধ্যমে বা বিভিন্ন সৃষ্টিশীল আইডিয়ার কথা চিন্তা করে। অযথা সকল কাজ হতে অবসর হয়ে নিজেকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় গ্রহণ করতে পারেন।

৮। যদি আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তবে আপনি কখনোই আপনার কাজ ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারবেননা। এটি আপনার কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। সুতরাং কাজের মাঝে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি নিন।

৯। কখনো কখনো কাজের পরিকল্পনা করার সময় আমরা বাস্তবতার দিকে লক্ষ্য না করে অবাস্তব ফলাফলের প্রত্যাশা করি। যার ফলে ব্যর্থতা আমাদেরকে আমাদের কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাশ করে তোলে। সুতরাং কোনো কাজ করার পরিকল্পনায় সময় নিয়ে কাজটি সম্পর্কে ভালোভা্বে বোঝা এবং এর বাস্তবতা সম্পর্কে হিসাব করে নেওয়া জরুরি।

১০। কাউকে কোন কাজের দায়িত্ব দিতে লজ্জিত হবেন না। যদি কেউ দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে কোনো কাজ করতে সক্ষম হয়, তবে তার উপর আপনার কাজটি অর্পণ করুন।
এর ফলে আপনার সময় বাঁচবে এবং আপনার সময়কে আপনি পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন। সময়ের কাজ সময়ে করলে আমরা আমাদের কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারব। তাই সময়কে অবহেলা না করে গুরুত্ব দেয়া উচিত।