SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সময়ের মূল্যায়ন কীভাবে করা হয়েছে কুরআনে?

শিক্ষা ১৩ জানু. ২০২১
ফোকাস
সময়ের

পার্থিব জীবন সামান্য কিছু সময়ের সমষ্টি। এই স্বল্প সময়কে যারা কল্যাণের পথে ব্যয় করে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে পুরষ্কারের সুসংবাদ। সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহারে শিথিলতা প্রদর্শন করা জীবনের মূল পুঁজি ধ্বংসের নামান্তর। সময়ের সঠিক ব্যবহার মুমিনকে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদার আসনে পৌঁছে দিতে পারে। অপরদিকে অবহেলায় সময় ব্যায় করা মানুষগুলো নিক্ষিপ্ত হতে পারে জাহান্নামে। প্রবাদ আছে, সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না।

কুরআন ও হাদিসে সময়ের পরিচর্যা সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সময় অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হওয়ার দরূণ আল্লাহ রাতকে দিনে রূপান্তর করেছেন এবং দিনকে রাতে রূপান্তরিত করেন। যাতে একটি সময় নষ্ট হয়ে গেলে অন্য সময় তার প্রতিকার করা যায়।

কুরআনে সময়ের কসম

সময়ের গুরুত্বারোপ বোঝাতে অনেক সূরার প্রারম্ভে আল্লাহ তা’আলা সময়ের কসম করেছেন। রাত্রি ও দিনের কসম করেছেন্ন। আল্লাহ বলেন,

“শপথ রাত্রির যখন তা আচ্ছাদিত হয়। শপথ দিনের যখন তা উদ্ভাসিত হয়।” (আল কুরআন-৯২:১-২)

ফজর ও দশ রাতের কসম করে অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শপথ ফজরের! শপথ দশ রাতের।’ (আল কুরআন-৮৯:১-২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শপথ সকাল ও পূবাহেৃর! শপথ রাত্রির যখন তা গভীর হয়।’ (আল কুরআন-৯৩:১-২)

এরপর সর্বশেষ সুরা আসরে সময়ের কসম করে আল্লাহ বলেন, “সময়ের শপথ! নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমর্জিত রয়েছে।” (আল কুরআন-১০৩:১-২)

এভাবে বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভে আল্লাহ তা’আলা সময়ের কসম করে বান্দাদেরকে কল্যাণের চিন্তা ও গবেষণা করার দিকে ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।

প্রসিদ্ধ তাফসিরবিদদের মতে, আল্লাহ যখন তার সৃষ্ট কোনোকিছুর শপথ করেন তখন তাঁর উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে সেই বিষয়ে স্ববিশেষ গুরুত্বারোপ করা। সুতরাং, এ সকল আয়াতে মানুষের দৃষ্টিকে সময়ের দিকে ফিরানো হয়েছে এবং মহান আল্লাহর কল্যাণমূলক কাজ ও নিদর্শনের প্রতি সতর্কতা আরোপ করাই হয়েছে।

ইসলামের বিভিন্ন বিধান সময়ের মালায় গাঁথা

ইসলাম প্রতিটি কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিধান যেমন নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত ছাড়াও অধিকাংশ বিষয়সমূহ সময়ের মালায় গাঁথা। আল্লাহ বলেন,

“নিশ্চয় মুসলমানদের জন্য সালাত একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফরজ করা হয়েছে। (আল কুরআন-৪:১০৩)

এখানে নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট সালাত আদায়ের তাকিদ দিয়ে সময়ের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। তেমনিভাবে ইসলামের প্রতিটি কাজই সময় মত পালন করতে হবে। অন্যথায় তা যথাযথভাবে আদায় হবে না।

হাশরের ময়দানে আল্লাহর সামনে মানুষ সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কঠিন এই দিবসে মৌলিক চারটি বিষয়ে মানুষকে প্রশ্ন করা হবে। বিশেষ করে সময় সম্পর্কে প্রধান দু’টি প্রশ্ন করা হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “চারটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বান্দা হাশরের ময়দানে তার দুই পা এক বিন্দু পরিমাণ নড়াতে পারবে না।” এই চারটির ভিতর প্রথম প্রশ্নটি করা হবে তার জীবন সম্পর্কে। অর্থাৎ, সে কিভাবে তার জীবন ব্যয় করেছে সেই সম্পর্কে? দ্বিতীয় প্রশ্ন করা হবে তার যৌবন সম্পর্কে। অর্থাৎ, তার যৌবনের মূল্যবান সময় সে কী কাজে ব্যয় করেছে সে সম্পর্কে।

সময় সম্পর্কে কুরআনে বিবৃত দুটি অবস্থান

প্রবাদে বলা হয় ‘সময় স্বর্ণের চেয়েও অধিক মূল্যবান।’ কথাটি প্রকৃতপক্ষেই সঠিক। সময় নিয়ে আফসোস বিষয়ে কুরআন দু’টি অবস্থানের কথা বর্ণনা করেছে।

প্রথম অবস্থান

জীবনের অন্তিম মুহূর্ত। এই সময় সে আফসোস করবে, যদি তাকে আর একটুখানি সময় দেওয়া হতো। যদি একটু সুযোগ দেয়া হত তবে সে তার মন্দ অবস্থাগুলি সংশোধন করে নিত এবং শয়তানের ধোকায় পড়ে ছুটে যাওয়া আমলগুলি সংশোধন করে নিতে পারত। এই বিষয়ে কুরআনে বলা হয়েছে,

“হে মুমিনগণ! তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল বা উদাসিন না করে ফেলে। যারা গাফিল হবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে; অন্যথায় তারা বলবে, হে আমার রব! আমাকে আর কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমিও সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।” (আল কুরআন-৬৩:৯-১০)

দ্বিতীয় অবস্থান

আখিরাতের মুহূর্ত। আল্লাহ বলেন, “সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের রব্ব! আমাদেরকে এ আযাব থেকে নিষ্কৃতি দিন, আমরা সৎকর্ম করব, পূর্বে যা করতাম (অর্থাৎ, গুনাহ) তা করব না। আল্লাহ বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এতটা দীর্ঘ জীবন দান করিনি যাতে কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারতে? তোমাদের নিকট তো সতর্ককারীরাও এসেছিল। সুতরাং শাস্তি আস্বাদন করো, জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই।” (আল কুরআন-৩৫:৩৭)

সুতরাং, মুসলমানের উচিত সময়ের প্রতি কর্তব্যনিষ্ঠা ও দায়িত্ববান হওয়া। সময় হলো একটি তলোয়ারের মত। তাকে নষ্ট না করলে সেও আমাদেরকে নষ্ট করবে না।

পরিশেষে মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেনো আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তৌফিক দান করেন। আমিন।