SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সময়ের মূল্য কি কমল? কী বলছে বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার?

আবিষ্কার ০৫ ফেব্রু. ২০২১
জ্ঞান-বিজ্ঞান
সময়ের মূল্য

ছোটবেলায় আব্বার ঘড়ি দেখা শেখানো মনে পড়ে? আমরা শিখেছিলাম ১ দিন = ২৪ ঘন্টা, ১ ঘন্টা = ৬০ মিনিট এবং ১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ড। আব্বা আরও বলেছিলেন, জীবনের উন্নতিতে সময়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের মূল্য না বুঝলে সব বৃথা। কিন্তু এবার যেন সেই সময়ের মূল্যই কমতে বসেছে!

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন হিসেব কষে, যে দিনরাত্রির অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা কমছে এবং তার জন্য ১ মিনিটের হিসেব এখন ৬০ সেকেন্ডের পরিবর্তে ৫৯ সেকেন্ড হতে পারে।

সময়ের মূল্য: একদিনের ২৪ ঘন্টার হিসেব কীভাবে পাওয়া যায়?

আমরা স্কুলে পড়েছিলাম পৃথিবীর আহ্নিক এবং বার্ষিক গতি সম্পর্কে। পৃথিবী তার কক্ষপথে ১ বছর অর্থাৎ ৩৬৫ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে, যাকে পৃথিবীর বার্ষিক গতি বলা হয়। অন্যদিকে, সূর্যের চারিদিকে ঘুরতে ঘুরতেই পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর সুনির্দিষ্ট গতিতে লাট্টুর মত ঘুরপাক খায়। একে পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলা হয় এবং একবার পূর্ন ঘূর্ণনের সময় ধরা হয় ২৪ ঘন্টা। সেই হিসেবে ১ দিনের পরিমাপ করা হয় ২৪ ঘন্টায়।

এখন সময়ের মূল্য  কমছে কীভাবে?

পৃথিবী নির্দিষ্ট গতিতে একপাক ঘুরতে সময় নেয় ২৪ ঘন্টা। স্বভাবতঃই, এই গতিবেগের তারতম্য ঘটলে সময়ের তারতম্য ঘটে। ইংল্যান্ডের National Physical Laboratory এর বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী পিটার হুইবারলি জানিয়েছেন,” গত ৫০ বছরের তুলনায় পৃথিবী নিশ্চিতভাবে নিজ অক্ষে অধিক গতিতে ঘুরছে। ”

স্বাভাবিক ভাবেই গতিবেগ বাড়লে মোট সময় কমবে। বিজ্ঞানীরা হিসেব কষে দেখেছেন, ২০২০ সালের ক্ষুদ্রতম দিন ২০০৫ সালের ক্ষুদ্রতম দিনের থেকে ২৮ গুণ ছোট ছিল। তারা এটাও জানিয়েছেন যে, ২০২১ সাল গড়পড়তা বছরের তুলনায় ১৯ মিলিসেকেন্ড ছোট হবে। অর্থাৎ দিনের হিসেবে ২০২১ সালের প্রতিটি দিন গড়ে ০.৫ মিলিসেকেন্ড করে ছোট হবে। সেইদিকেই হিসেব করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে ১ মিনিটের হিসেবে ১ সেকেন্ড কমাতে হবে বা ১ “লীপ সেকেন্ড” বিয়োগ করতে হবে।

কী এই “লীপ সেকেন্ড” এবং তার প্রয়োগই বা কী?

আদতে ১ বছরের পরিমাপ ৩৬৫ দিনে হলেও আমরা জানি পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে আসলে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা। এই অতিরিক্ত ৬ ঘন্টা চার বছর পরপর যোগ করে একটি পূর্ণাঙ্গ দিন পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারী মাসের শেষে সেইদিন যোগ করে সেই বছরকে “লীপ ইয়ার” বলা হয়ে থাকে।

ষাটের দশকে পারমাণবিক ঘড়ির আবিষ্কারের সাথে সাথে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির তারতম্যের তাল রাখতে “লীপ সেকেন্ড” এর ধারণা আনা হয়। পৃথিবীর ধীর গতির ঘূর্ণনকে বাগে আনতে ২০১৬ সালে সাম্প্রতিক কালের শেষবার ধরলে সর্বমোট ২৭ বার “লীপ সেকেন্ড” যোগ হওয়ার কথা জানা যায়।

কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় “লীপ সেকেন্ড” বিয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিজ্ঞানী পিটার হুইবারলির কথায়,”পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে লীপ সেকেন্ড বিয়োগ করার সম্ভাবনা প্রবল, যদিও এটা নিশ্চিতভাবে এখনই বলাটা খুব তাড়াহুড়ো করা হবে। ”

এর ফলে কী প্রভাব পড়তে পারে?

ইন্টারনেটে সমস্ত ওয়েবসাইট সময়ের সাথে একটি নির্দিষ্ট টাইম স্ট্যাম্প দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। ২০১২ সালে “লীপ সেকেন্ড” যোগ করার সমস্যায় বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ওয়েবসাইট যেমন Reddit, LinkedIn, Yelp ইত্যাদির পরিষেবা ব্যাহত হয়, সাথে প্রচুর সফটওয়্যারেও সমস্যা দেখা দেয়। ঠিক একই কারণেই প্যারিসে অবস্থিত “লীপ সেকেন্ড” যোগ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা International Earth Rotation and References System Service এবং আরও অনেকে মনে করেন এই “লীপ সেকেন্ড” যোগ-বিয়োগ বিষয় দ্বন্দ্বই সৃষ্টি করে বেশি।

এই ঝামেলা এড়াতে বহু দেশের জাতীয় নেতৃত্ব ঠিক করেছেন “লীপ সেকেন্ড” এর বদলে পারমাণবিক ঘড়ির উপরেই আস্থা রাখবেন, যা কিনা খুব ছোট্ট তারতম্যের হিসেব রাখতে সক্ষম। যদিও সবকিছু নির্ধারিত হবে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত হতে চলা World Radiocommunication Conference এ নেওয়া সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে।