সর্বপ্রাচীন কুরআনের কপি সংরক্ষিত রয়েছে মক্কার রাসূল (সা.) যাদুঘরে

mecca museum

কুরআনে বলা হয়েছে, রাসূল মুহাম্মদ (সা.) কে সারাবিশ্বের মানুষের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। সূরা আম্বিয়ার ১০৭ আয়াতে এ বিষয়ে বলা হয়েছে,

“আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।”

রাসূল হজরত মুহাম্মদ সা. এর স্মৃতিধন্য ভূমি মক্কা মদিনা। সেই সময়ের অনেক স্মৃতিই ধারণ করে আছে এখনকার মক্কা মিউজিয়াম। এখানে অবস্থানকালে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের সঙ্গে মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখতে কেউ ভুল করেন না। যারা এখনো নবীজির স্মৃতিধন্য এই স্থানে যেতে পারেননি, দেখেননি তার আমলে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, তাদের জন্য প্রযুক্তি বড় সুযোগ করে দিয়েছে। এখন ঘরে বসেই দেখা যায় মক্কা মিউজিয়ামসহ আরবের দর্শনীয় স্থানগুলো।

পবিত্র কাবা শরিফের কাছে ওমরা মসজিদে যাবার পথেই মক্কা মিউজিয়াম। জাদুঘরটি দোতলা, নিচতলায় বেশ কয়েকটি আলাদা আলাদা কক্ষ। সৌদি আরবের প্রাচীন সংস্কৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ সব কিছুর নিদর্শন রাখা আছে নীচতলায়। পাশেই রয়েছে আরবি বর্ণমালা কিভাবে বিবর্তিত হয়ে আজকের রূপে এসেছে তার একটি তালিকা। দেয়ালে বড় করে বাঁধানো আছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের আরবি লেখা। সংরক্ষিত আছে প্রাচীন আরব পুরুষ-মহিলাদের ব্যবহৃত পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, আসাবাবপত্র ইত্যাদি।

মিউজিয়ামটির এক কোনায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী পানির কূপ। এছাড়াও রয়েছে কূপ থেকে পানি উত্তোলনের যন্ত্রপাতি। পাশের কক্ষে রয়েছে বিভিন্ন সময়ে আরবি আয়াত উৎকীর্ণ পাথর খন্ড, প্রাচীন ধাতব মুদ্রা ইত্যাদি। বেশ কিছু আরবি ক্যালিওগ্রাফি যা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।

দোতলার কক্ষগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন রকমের কোরআন শরীফ। সেখানেই দেখতে পাওয়া যায় হাতে লেখা কোরআন শরীফ। হযরত উসমান রা. আমলের কোরআন শরীফও রয়েছে এ জাদুঘরে। আরও আছে হযরত মুহাম্মদ সা. এর সম্পূর্ণ বংশ তালিকা। নিচ তলার অনুসন্ধান কক্ষে মক্কা জাদুঘর সম্পর্কে একটি বই বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ চিত্র থেকে শুরু করে নানা ঐতিহাসিক বস্তু সামগ্রীর সংগ্রহ রয়েছে। রয়েছে হরেক রকম ক্যালিওগ্রাফি।

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’- মক্কা নগরীর পবিত্র কাবা শরীফ বা আল্লাহর ঘর থেকে হেদায়েতের ডাক আসে প্রতিবছরই। লক্ষ লক্ষ মুসলিম হজ্ মৌসুমে এবং সারা বছর উমরাহ’র উদ্দেশ্যে একত্রিত হয় পবিত্র কাবা শরীফে। হজ্ এবং উমরাহর মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুসল্লিরা অনেকটা সময় পান। এসময় ইবাদতের সাথে সাথে ইসলামিক নানা ঐতিহাসিক স্থানগুলোও দর্শন করতে পারেন।

শুধুমাত্র ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নয় বরং ভ্রমণপিয়াসু যে কেউই ভ্রমণ করতে পারে পবিত্র মক্কা নগরী। হজ্বে বা ভ্রমণে গেলে ঘুরে দেখতে পারেন মক্কা জাদুঘর। কাবা শরিফের বেশ কাছেই মক্কা জাদুঘর। জাদুঘরটি সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট কাটা লাগে না। দুই তলা বিশিষ্ট মক্কা জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে সৌদি আরবের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পোশাক–পরিচ্ছদ, আসবাবপত্র, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি। মূলত মক্কা জাদুঘর কাবা শরীফ ও মসজিদে নববীর বর্তমান রূপের আগে বিশেষ করে তুর্কি আমলের ব্যবহৃত জিনিপত্রের সংরক্ষণাগার। বিশেষ করে কাবাকেন্দ্রীক প্রতিটা জিনিস এখানে সংরক্ষিত আছে।

এখানে রয়েছে সব প্রাচীন কোরআনের কপি। সবই হাতে লেখা যদিও আপনার দেখে তা মনে হবে না। সাথে এক দৃষ্টিতে থাকলেও আপনার মুগ্ধতার রেশ কাটবে না। এসব কোরানের কপিগুলো খুবই প্রাচীন কোনোটি ৩৮১ হিজরি সনের, আবার কোনোটি ৬৮৫ সনের। তবে মক্কা জাদুঘরের সবচেয়ে দামী সংগ্রহ হলো- কোরআন মাসহাফে উসমানির একটি কপি যা হজরত উসমান (রা.)-এর আমলের হাতে লেখা।

আরো আছে কাবার গিলাফ (যদিও প্রতি বছর কাবা শরীফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয় এখানে প্রাচীন একটি গিলাফ দেখতে পারবেন), হাতে কাবার গিলাফ বুননের যন্ত্র, কাবার ভেতরে ব্যবহৃত কাঠের খুঁটি যা ৬৫ হিজরি সনে ব্যবহৃত হয়েছিলো এবং নির্মাণ করেছিলেন আবুদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের।

আরো দেখতে পাবেন কাবার ছাদের পানি নিষ্কাসনের জন্য বিশেষ পাইপ। ১২৪০ সনে কাবায় ব্যবহৃত কারুকাজ সম্পন্ন বিশেষ সিঁড়ি যা কাঠ দিয়ে তৈরি।

অনেক দূর থেকে সময় দেখার প্রাচীন আমলের বিশাল ঘড়িও সংরক্ষণ করা আছে মক্কা জাদুঘরে। মক্কা জাদুঘরের পাশে উম্মুল জুদ নামক একটি জায়গা আছে যেখানে কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা স্থাপিত। স্থানীয় ভাষায় গিলাফ তৈরির কারখানাকে কিসওয়া কাবা বলা হয়। ১৩৯৭ হিজরি সনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গিলাফ তৈরির এই অসাধারণ কারখানাটি। যাদুঘরটির সাথেই বিশেষ একটি লাইব্রেরী রয়েছে, যাতে রাসূল (সা.) সম্পর্কে লিখিত বিভিন্ন গ্রন্থ, প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র এবং অন্যান্য প্রকাশনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

হজ্জ্ব ও উমরাহ করতে আগত দর্শনার্থী, স্কুল-কলেজ ছাত্র সহ অন্যান্য সাধারন মানুষ প্রতিদিনই মক্কার এই যাদুঘরটি পরিদর্শন করতে আসেন।