সর্বশক্তিমানের কাছে কোন দোয়া করব আমরা?

Права и свободы в Исламе
Yüce Allah kullarını her türlü kötülükten korur.

সারা জাহানের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহতায়ালার দরবার তাঁর ইবাদতকারীদের জন্য সর্বদা খোলা থাকে। তাঁর দেখানো পথে তাঁকে ডাকলেই সারা দিতে তিনি সদাপ্রস্তুত। আল্লাহের ইবাদত করার পথ হল তাঁর কাছে দোয়া করা। আজকের এই নিবন্ধে আমরা জানব এমন তিনটি দোয়ার কথা যা আপনার প্রার্থনা আল্লাহর কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

আপনি নামাজ পড়ছেন, রোজা পালন করছেন, কোরআনও পড়ছেন, তাও কি আপনার অন্তরে এমন কিছু আছে যার জন্য পুরোপুরি শান্তি পাচ্ছেন না?

আপনার ভিতরে কি কোনো রকম অশান্তি আছে? কারও সাথে কি আপনার কোনোকারণে সমস্যা হয়েছে? আমরা অনেকেই ইংরেজি একটি কথায় বিশ্বাস করি, ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। কিন্তু সত্যিই কি আমরা ক্ষমা করতে পারি? সত্যিই কি আমরা ভুলে যাই?

“রব্বানা ইগফির লানা ওয়া লি ইখওয়ানি নাল-লাদিনা সাবকুনা বিল ইমামি ওয়া লা তাজ’আল ফি কুলুবিনা গিলাল-লিল লাদিনা আমানু রব্বানা ইন্নাকা র’উফুর রহিম”

এই দোয়ার উদ্দেশ্য আল্লাহের কাছে শান্তি প্রার্থনা করা হয়। শান্তি আসে হৃদয়ের সকল প্রকার ক্ষোভ, বিরক্তি ও প্রতিহিংসার অভিলাষকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিয়ে। আল্লাহই একমাত্র পারেন মানুষকে তার দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতে। ‘কালবুন সলিম’ অর্থাৎ মুক্ত হৃদয়ের প্রার্থনা করুন তাঁর কাছে।

উক্ত দোয়াটিতে দুজায়গায় আল্লাহের দুটো সুন্দর গুণের কথা উল্লেখ করা আছে।

আর র’উফ-এর অর্থ অনুগ্রহ ও সমবেদনা। আল্লাহপাক আমাদের ক্ষমা করেন এবং তিনিই আমাদের ক্ষতে প্রলেপ লাগান। আর র’উফের মধ্যে থাকা কৃপার অনুভবের মধ্যে তিনি আমাদের সতর্ক করেন এবং রক্ষা করেন সমস্ত খারাপ দিক থেকে।

আর রহিম মানে সেই ব্যক্তি যিনি ক্ষমা করেন। মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর সৃষ্ট মানবজাতিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। তাঁর নির্দেশ সঠিক ভাবে পালন করলে তিনি অবশ্যই তোমার দুঃখ যাতনা থেকে মুক্তি দেবেেন।

নবী ইউসুফ (সাঃ)-কে তাঁর ভাইয়েরাই খুন করার চেষ্টা করেছিল। এরপর তিনি ঘর ছেড়ে বহুদূরে ভৃত্যের মতো জীবন কাটালেন, বন্দি হয়ে রইলেন অবশেষে তিনি বসলেন রাজ সিংহাসনে। সেই সময় তাঁর কাছে সেই ভাইয়েরাই এসেছিল যারা তাঁকে একদিন খুন করতে চেয়েছিল।

সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখান নবী ইউসুফ (সাঃ) অনেক বেশী শক্তিশালী, তিনি তাঁর ভাইয়েদের ক্ষমা করে দিলেন। আল্লাহের কাছে ধন্যবাদ জানালেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। সেই ঘৃণ্য ঘটনার কথা মনে না রেখে ইউসুফ (সাঃ) বলেছিলেন সেসব ছিল শয়তানের কৃতকর্ম। তারপর তিনি পড়েন,

“ফতির আস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদি। আন্তা ওয়ালাই-ই ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাতি তাওয়াফ্ফানী মুসলিমাও ওয়া আলহিকনি বিসসলিহিন।”

কঠিন সময় যখন আল্লাহ আপনাকে পরীক্ষা করে তখন তাঁর ভিতরের মহৎ উদ্দেশ্যের কথা ভাবুন। তারপর যখন আপনি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন তখন আল্লাহকে ধন্যবাদ দিন, কখনই অহংবোধ করবেন না সে বিষয়ে। যখন কারও অসৎ উদ্দেশ্যের শিকার হবেন, দোষারোপ করবেন না, প্রতিহিংসার কথা তো ভাববেনই না।

হাজার হাজার বছর আগে এক নবী আপনার জন্য হাত তুলে আল্লাহের কাছে প্রার্থনা করেছিল। সেই নবী যিনি বহু অসাধারণ ও চমকপ্রদ কাজ করেছেন তাঁর জীবনে, তাও তিনি চেয়েছিলেন আল্লাহের কাছে বাধ্য হতে। তিনি ছিলেন নবী ইব্রাহিম (আঃ), তাঁর সেই দোয়া ছিল,

“রব্বানা ওয়াজ’আলনা মুসলিমায়নি লাকা ওয়া মিন ধুর্রিয়াতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাকা ওয়া আরিনা মানাসিকানা ওয়া তাব ‘আলায়না ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহিম।”

যত আল্লাহকে জানার চেষ্টা করবেন ততই জানবেন যে আপনি কত কম জানেন। আপনি ততটাও বিশ্বাসী ও বাধ্য নন যতটা হওয়া উচিত, তাই আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে তাঁর কাছে।

ইসলামের সৌন্দর্য্য হলো যে আমরা শুধু নিজের কথা ভাবি না। অন্যের সুখ-দুঃখও আমাদের মধ্যে সমান অনুভূতি জাগায়। আমাদের সন্তানরা যারা আমাদের সবচেয়ে প্রিয় তাদের জাগতিক বিষয়ে আমরা সবচেয়ে অনুভূতিপ্রবণ। তাদের আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহী করে তোলাটাও আপনারই দায়িত্ব। জীবনে বড় ডাক্তার বা উকিল হয়ে যদি আল্লাহকেই ভুলে যায় তবে তার শিক্ষা কি আদৌ সম্পন্ন হয়েছে!

আমরা সকলের কথা ভাবব, যেমন মহান নবী ইব্রাহিম (আঃ) ভেবেছিলেন। প্রত্যেক মুসলমানের সন্তানকে আল্লাহের পথে, সুখ ও সমৃদ্ধির পথে চালনা করা আমাদের কর্তব্য।