SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সর্বোত্তম কিছু দু’আ যেগুলি প্রত্যেক মুসলমানেরই পাঠ করা উচিত

আকীদাহ ০৮ জানু. ২০২১
মতামত
কিছু দু'আ
dreamstime_s_5025100

মানুষের জীবনে বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত আসতেই থাকে। মুসলিম হোক বা অমুসলিম প্রত্যেকের জীবনেই মুসিবত আসে। তবে বিপদ-আপদে মুমিনের মর্যাদায় আলাদা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“মুমিনের অবস্থা বড়ই বিস্ময়কর! তার প্রতিটা অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। আর এটি শুধু মুমিনদেরই বৈশিষ্ট্য। সুখ-সচ্ছলতায় মুমিন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তার কল্যাণ হয় (অর্থাৎ, সওয়াব হয়)। আবার দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদের সম্মুখীন হলে সে ধৈর্য্যধারণ করে। এটিও তার জন্য কল্যাণকর হয় (অর্থাৎ, গুনাহ মাফ হয়)” (মুসলিম)

সকল অবস্থাতেই মুমিন-মুসলিমদের জন্য অন্তরে এ বিশ্বাস রাখা জরুরী যে, সবকিছু একমাত্র আল্লাহর হুকুমেই হয়। যে কোনো মুসিবত থেকে একমাত্র তিনিই উদ্ধার করতে পারেন। শান্তি ও নিরাপত্তার একমাত্র মালিক তিনি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,

“পৃথিবীতে তোমাদের উপর যেসকল বিপর্যয় আসে তা সংঘটিত করার আগেই তা লিপিবদ্ধ থাকে। আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ। এটা এজন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য যেন বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্য বেশি উৎফুল্লও না হও। আল্লাহ উদ্ধত ও অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না।’ (আল কুরআন-৫৭:২২-২৩)

সুতরাং, জীবনের সকল অবস্থাতেই একজন মুসলিমের উচিত এ আমলগুলি করা

  • তাকদিরের বিশ্বাস মনে জাগ্রত রাখা এবং তাকদিরের ওপর দৃঢ় ঈমান রাখা।
  • আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা।
  • তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট ফিরে আসা।
  • কুরআন-সুন্নাহ বর্ণিত দু’আর প্রতি মনোযোগী হওয়া।

আজকের এই নিবন্ধে কুরআন-সুন্নাহ বর্ণিত এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ দু’আ সম্পর্কে আলোকপাত করা যা প্রতিটা মুসলমানকেই সর্বদা পাঠ করা উচিত।

সুস্থতা, অভাবমুক্তি ও কবরের আযাব থেকে মুক্তির দু’আ

আল্লাহুম্মা আ’ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ’ফিনি ফি সাম’ঈ, আল্লাহুম্মা আ’ফিনি ফি বাছারি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উজুবিকা মিনাল কুফরি, ওয়াল ফাকরি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উজুবিকা মিন আ’জাবিল ক্ববরি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে শারীরিক নিরাপত্তা দান করুন। হে আল্লাহ! আমার শ্রবণে নিরাপত্তা দান করুন। আমার দৃষ্টিতে নিরাপত্তা দান করুন। আপনি ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পানাহ চাই কুফরী ও দরিদ্র্যতা থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পানাহ চাই কবরের আজাব থেকে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য সর্বোত্তম দু’আ

‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায-য্বলিমিন।’

অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয় আমি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (আল কুরআন-২১:৮৭)

সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে হেফাজতের দু’আ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে-

‘বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস-সামায়ি, ওয়া হুয়াস-সামি’উল আ’লিম’

অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও যমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।

সকাল হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তির উপর আকস্মিক কোনো বিপদ আসবে না। আর যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এ দু’আ পড়বে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনো বিপদ আসবে না।’ (তিরমিযী, আবু দাউদ)

‘আ’উযু বিকালিমাতিল্লাহিত-তাম্মাতি মিন শাররি মা খলাক্ব’

অর্থঃ আল্লাহর নিকট তাঁর পূর্ণ কালিমা সমূহের মাধ্যমে সকল সৃষ্টির অকল্যাণ ও অনিষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি। (মুসলিম)

পেরেশানী থেকে মুক্তি লাভের দু’আ

‘হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া, আ’লাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুওয়া রব্বুল আরশিল আ’যীম।’

অর্থঃ আল্লাহই আামার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তাঁর উপরই আমি আস্থা করছি। তিনি মহান আরশের রব। (আবু দাউদ)

‘ইয়া হাইয়্যু, ইয়া ক্বইয়্যুম বিরহমাতিকা আসতাগিছ, আছলিহ লি সা’অনি কুল্লাহু, ওয়া লা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বরফাতা আ’ইন।’

অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সৃষ্টিকুলের নিয়ন্ত্রক, আপনার রহমতের দোহাই দিয়ে আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি, আপনি আমার সকল বিষয় শুদ্ধ করে দিন, এক মুহূর্তের জন্যও আপনি আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিয়েন না। (নাসাঈ)

নিরাপত্তা লাভের দু’আ

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আছআলুকাল আ’ফওয়া, ওয়াল আ’ফিয়াতা ফিদ-দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি।

‘আল্লাহুম্মা আছআলুকাল আ’ফওয়া ওয়াল আ’ফিয়াতা ফি দ্বীনি ওয়া দুনইয়া ওয়া আহলি ওয়া মালি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা জন্য প্রার্থনা করছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের মধ্যে।

যেকোনো হাজত পূরণের দু’আ

‘লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আ’লিয়্যিল আ’যীম’

অর্থ: আল্লাহর তৌফিক ছাড়া গুনাহ পরিহার করা এবং নেক কাজ করার সামর্থ্য আমার নেই। তিনি মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ।

ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দু’আ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই দু’আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতবাসী হবে।

‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খলাক্বতানি, ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাত’তু। আউ’যুবিকা মিন শাররি মা ছনা’তু। আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়া, ওয়া আবুউবিযাম্বি, ফাগফিরলি যুনুবি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই দাস। আমি আপনার কাছে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর সাধ্যমত দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মগুলোর অনিষ্টকারিতা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমার ওপর আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন। কেননা আপনি ছাড়া ক্ষমা আর করার কেউ নেই। (বুখারি)