সহকর্মীর সঙ্গে সৌহার্দ্যময় সম্পর্ক গড়বেন কীভাবে?

dylan-gillis-KdeqA3aTnBY-unsplash
Fotoğraf: Dylan Gillis-Unsplash

জীবনের প্রত্যেকটা দিন চলার পথে মানুষের চাই অর্থ। আর এই অর্থের জন্যেই ছুটে বেড়াতে হয় কর্মক্ষেত্রে। নিজের সুখ শান্তি ও পরিবারের আয় উন্নতি করতেই দু বেলা দুমুঠো মুখে গুজে দাপিয়ে বেড়ানো। কর্মক্ষেত্রই যেন দ্বিতীয় আবাস। নিজের বাড়ির মতোই তো সবকিছু, সপ্তাহের পাঁচ থেকে ছটা দিন সাত আট ঘন্টা থাকা। সেখানে যাদের সাথে কাজ করছেন, তাদের সাথে করা আপনার ব্যবহার সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ব্যবহারটা কিরকম হবে? শুষ্ক রসকষহীন নাকি উষ্ণ সৌহার্দ্যময়!!

অফিস এর প্রতিটা মানুষের সাথে আপনি যেমন ব্যবহার করবেন, তার সাথে সেরকমই বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে। নারী হোক কিংবা পুরুষ, প্রত্যেকের সাথেই সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার করা। রোগে-শোকে, উৎসবে-আনন্দে, আইনি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় তাঁরাই তো জোট বেঁধে পাশে দাঁড়ান, এগিয়ে এসে হাতটা ধরেন। আসলে ২৪ঘন্টার বেশিরভাগ সময়ই অফিসে তাই পারিবারিক  সম্পর্ক গড়ে উঠবেই। তবে সমস্যা গড়ে ওঠে বিপরীত লিঙ্গের সম্পর্কের গভীরতায়। নারী পুরুষের বেশি মেলামেশা বা একসাথে বেশিক্ষণ থাকলে কেউই ভালো চোখে দেখে না। অনেক সময় দেখা যায় নারী পুরুষের মধ্যে বন্ধুত্বের পালা চলে, পরে মান অভিমান এর পালা চলে।

একজন বিবাহিত পুরুষ ও একজন বিবাহিত মহিলার সাথে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব থেকে অন্য সম্পর্কের দিকে গড়ালে সেটা দুজনের সংসারেই বাজে প্রভাব ফেলে। আর নারী -পুরুষ এর বেশি মেশা অফিসে কর্মরত কারোর চোখে পড়লে প্রথম প্রথম গুজব ছড়ায়, তারপর রটতে শুরু করে। এই নিয়ে অনেক টিস ও শুনতে হয়। ব্যাপারটা মোটেই ঠিক না। না জেনে বুঝে উল্টো পাল্টা প্রচার এ বেরিয়ে পড়া মোটেই বন্ধুর মতো কাজ না। মানুষ এর সাথে মানুষের যে সহৃদয়তা সেটা তখন লুপ্ত হয়ে যেতে বসে। বস একটি মেয়েকে তার কাজের জন্য বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, তাতে  অন্য কর্মরত দের তাকে নানা রকম টিস করা বা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলাটা মোটেই শোভা পায় না। যেকোনো রকম মন্তব্য কারোর দিকে ছুঁড়ে দেওয়ার আগে দেখুন সেটা সত্যিই ঠিক কিনা! অযথা বাজে কথা রটানোটা বন্ধ করুন। এতে আপনি তার কাছে ছোটো তো হচ্ছেন ই, এমনকি নিজের বিবেকের কাছেও নীচু হয়ে যাচ্ছেন।

বাড়ির কাজ বাড়িতে আর অফিসের কাজ অফিসেই সেরে ফেলুন।বাড়ির রেশ অফিসে যেমন আনবেন না তেমনি অফিসের রেশও যাতে বাড়ি অবধি না পৌঁছয় তা আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। অফিসে যেরকম সৌহার্দ্য ব্যবহার তেমনি পরিবারের লোকেদের ও সময় দিন, সুন্দর মুহূর্ত গুলো ভাগ করে নিন। জোড়েই তো বেশি মজা। অফিসে হাসি মুখ করে থেকে বাড়িতে এসে কড়া মেজাজ একদম দেখানো মোটেই সমীচীন না। অফিস শেষে সবারই ক্লান্তি আসে, তা বলে বাড়ির লোককে সবসময় খিটখিটে মেজাজ দেখিয়ে চলবেন এটা ঠিক না।

অফিসে বেশিক্ষণ থাকেন, গল্পগুজব ভালোই হয়। তা বলে বাড়ির ব্যক্তিগত কোনো কথা অফিসে বলবেন না, আর অফিসের কোনো কথা বাড়িতে না। গল্প করার সময়ও নিজের কাজটা সঠিক ভাবে শেষ করে তার পরেই করুন।

নিজের সংসারে আয় উন্নতির জন্যই অফিসে যাওয়া, সেখানে গিয়ে সবসময় কাজের দিকেই মন দিন। এতে আপনার পদেরও উন্নতি ঘটবে আর সবদিকে ভারসাম্যও বজায় থাকবে। মাত্রাতিরিক্ত কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই, বাড়ির ঘোরতর সমস্যা বা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। বন্ধুত্ব ছাড়া সম্পর্ক অন্য দিকে গড়াতে দেবেন না তবে দুটো অবিবাহিত মানুষ বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করতেই পারে সেটা দোষের নয়।

অফিসে মিলেমিশে কাজ করুন আর বাড়িতেও সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন, সম্পর্ক আরো  সুদৃঢ় হবে। পুরুষ বা মহিলা, উর্ধ্বতন বা অধস্তন সকলের সাথেই যথাযথ মর্যাদায় মিশুন যাতে কেউই অসম্মানিত বোধ না করে আবার কেউ যাতে আপনার সুযোগ নিতে না পারে সেটাও দেখবেন। দিনের শেষে আপনার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত একজন দক্ষ কর্মী হওয়ার সাথে সাথে খাঁটি মানুষ হওয়া।