শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

সারা বিশ্বে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন ফুটবল দুনিয়ার ‘অ্যাসিস্ট কিং’

Footballer
ID 123110168 © Pressmaster | Dreamstime.com

যখন জয়ী হই তখন আমি জার্মান, যখন হেরে যাই তখন অভিবাসী।” 

জার্মানীর জার্সিতে শেষ কটা দিনে এই মন্তব্যই করেছিলেন মেসুট ওজিল। জার্মানীর জাতীয় ফুটবল দলে দশ বছর খেলা ওজিল পাঁচবার পেয়েছিলেন বর্ষসেরা জার্মান খেলোয়াড়ের খেতাব। কিন্তু যে দেশে জন্মালেন, বড় হলেন, নিজের সেরাটা দিলেন, সেখান থেকে ফিরে পেলেন শুধুই সমালোচনা। অতিসামান্য দরিদ্র প্রবাসী তুর্কি পরিবারে জন্মানো মেসুট ওজিলের বড় হওয়ার কাহিনী অবাক করে দিয়েছে সারা দুনিয়াকে। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে আমেরিকা রাশিয়ার আক্রমণে ধ্বংসস্তূপ জার্মানীকে পুনর্গঠন করতে বেশ কিছু দশক সময় লেগেছিল। এই সময় বহু দেশ থেকেই পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে এসেছিল জার্মানীতে। সেরকম এক তুর্কি পরিবারে জন্ম নেন মেসুট ওজিল।

ছোটোবেলা থেকেই ফুটবলে আগ্রহী ওজিল পায়ে বল নিয়েই বেড়ে ওঠেন, স্বপ্ন দেখেন জার্মান দলে খেলার। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে তুর্কির হয়েও খেলতে পারতেন কিন্তু জন্মভূমিকেই প্রাধান্য দেন তিনি। দেখতে দেখতে হয়ে ওঠেন জার্মানীর অন্যতম যুব খেলোয়াড়, সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে, সালটা ২০০৭। এর পর রাইন নদী দিয়ে বয়ে গেছে বহু পানি, ওজিল নামের তারাটি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়েছে। 

জাতীয় দলের পাশাপাশি প্রথমে খেলেন ওয়ার্ডেন ব্রেমেন ক্লাবে, তারপর রিয়াল মাদ্রিদ, এখন আর্সেনাল। ব্যক্তিগত জীবনে ভেঙ্গেছেন এবং গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড, আয় করেছেন বিশাল অঙ্কের টাকা। কিন্তু তিনি হৃদয় থেকে ইসলামকে গ্রহণ করেছেন জ্ঞান হওয়া থেকে তাই বিলাসযাপন বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁর হৃদয়কে অন্ধ করে দেয়নি। প্রতিটি খেলার আগে ড্রেসিংরুমে পবিত্র কোরাআন পড়ে তবেই মাঠে নামেন ওজিল। ফুটবল দর্শকদের কাছে একটি দৃশ্য স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবেভালো খেলতে না পারায় এক ক্ষুব্ধ দর্শক তাঁর দিকে এক টুকরো রুটি ছুঁড়ে দেন, খেলা থামিয়ে রুটির টুকরোটি কুড়িয়ে নিয়ে ওজিল চুম্বন করেন এবং রেখে দেন মাঠের এক কোণায়। 

ছোটোবেলা থেকে অভাবে বড় হওয়া ওজিল দেখেছেন খিদে কাকে বলে, তাই যখনই সুযোগ পেয়েছেন উজার করে দান করেছেন। পৃথিবীর অন্যতম ধনী ফুটবলার ওজিল প্রতি বছর ১০০০ টি বিভিন্ন মারণরোগে আক্রান্ত শিশুদের অপারেশনের খরচ বহন করেন। তুর্কি সিরিয়ার ১৬টি উদ্বাস্তু ক্যাম্পে ১০০,০০০ আশ্রয়হীন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয় ওজিলের চ্যারিটি। এছাড়াও ব্রাজিলের অসুস্থ শিশুদের জন্য তিনি বার্ষিক ২৪০,০০০ পাউন্ড অনুদান দেন। 

তাঁর ম্যানেজার এরকুট সোগুট প্রকাশ করার আগে অবধি এই বিশাল দানধ্যানের বেশীরভাগটাই চালাতেন গোপনে।

প্রতিবছর এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দিয়ে চলা ওজিল বলেন, “আমি যদি মানুষকে সাহায্য না করি তাহলে কবে করব? কার সাথে করব?” এতটাই মাটির সঙ্গে যুক্ত ওজিল। পারিবারিক জন্মভূমি তুরস্কের জন্যও উদ্যোগ নিয়েছেন ওজিল, সেখানে বানাচ্ছেন একটি পাঁচতলা ফুটবল অ্যাকাডেমি। 

ফুটবল জীবনে ওজিল নিজে গোল করার থেকে অপরকে দিয়ে করানোতেই বেশি পারদর্শী ছিলেন। এর জন্য ওজিলকে ফুটবল দুনিয়ারঅ্যাসিস্ট কিংনামে ডাকা হয়। জার্মান জাতীয় দলে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের জন্য ২০১৮ সালে তিনি জার্সি তুলে রাখেন। সমস্ত কিছুর পরেও ফুটবল দুনিয়ায় ওজিল এমন একটা নাম, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মনে রাখবে। 

 

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন