সিদ্ধান্তহীনতা থাকলে বিচার করুন এই বিষয়গুলি

শিক্ষা Contributor
সিদ্ধান্তহীনতা ও অন্যান্য
ID 128232053 © Joerg Stoeber | Dreamstime.com

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সিদ্ধান্তহীনত মোটেই ভালো কোন বিষয় না। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে পরে অনেক বড় বিপদ হতে পারে। কথায় আছে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়। সময়ের কাজ সময়ে করাই ভালো। আর তাছাড়া পরামর্শ করে কাজ করলে ভুল কম হয়।
আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সা.) তার সাহাবিদের সব বিষয়ে ইস্তিখারা করার শিক্ষা দিতেন; যেভাবে তিনি তাদের কোরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের উদ্যোগ নেয়, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে। যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আল্লাহর সাহায্য পেতে এবং কল্যাণকর কাজ নির্বাচন করতে ইস্তিখারার নামাজ পড়তে হয়।
জাবের (রা.) বলেছেন: নবী (সা.) আমাদের সমস্ত বিষয়ে ‘ইস্তিখারা’ শিক্ষা দিতেন। আমাদের কোরআন কারীমের সুরা যেমন গুরুত্ব দিয়ে শেখাতেন, ইস্তিখারাও হুবহু একই গুরুত্ব দিয়ে শেখাতেন। নবীজী বলতেন, ‘তোমরা কোনো বিষয়ে উদ্বিগ্ন বা চিন্তিত হয়ে পড়লে, দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিবে। তারপর ইস্তিখারার দু’আ পড়বে (বুখারী)।’

কেন ভাল নয়?

মনে হতে পারে, বড় কোনো বিপদ বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ হলে, ইস্তিখারার নামাজ পড়তে হবে। এই চিন্তা সঠিক নয়। পাশাপাশি ইস্তিখারার পর, ঘুমের মধ্যে কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ স্বপ্ন দেখাও জরুরি নয়।
হাদীসের ভাষ্য মতে, ইস্তিখারাকারী ব্যক্তি নামাজ আদায় করে, দু’রাকাত নামাজ পড়ে, কাজে নেমে পড়বে। যদি দেখে কাজটা সহজেই করা যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আর পরিস্থিতি ভিন্ন হলে, নানা প্রতিবন্ধকতা আসতে থাকলে, ক্ষান্ত দিবে।

জীবনের প্রতিটি ধাপেই মানুষকে মুখোমুখি হতে হয় নানারকম সমস্যার আর নিতে হয় সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তের ভালো-খারাপের ওপরেই নির্ভর করে একজন মানুষের ভবিষ্যত। একজন সফল মানুষের জীবনে তাই সিদ্ধান্তের একটি বড় আর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে। আসুন তাই জেনে নিই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। পদ্ধতিগুলো যেগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই সফলদের মত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা যায়। সিদ্ধান্তহীনতা কোনও বিষয়ে সাহায্য করে না।

সিদ্ধান্তহীনতা থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে?

১। আপনার জীবনে পুরনো ও ভুল সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে অনুশোচনা করবেন না। প্রতিটা দিনই আপনাকে নতুনভাবে সবকিছু শুরু করার সুযোগ দেয়।

২। আপনার মধ্যে যদি অন্যদের খুশি করতে চাওয়ার প্রবণতা অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে, তাকে নিয়ন্ত্রণ করুন। জীবন আপনার, তাই আপনার অধিকাংশ সিদ্ধান্ত আপনাকে নিজের জন্যই নিতে হবে।

৩। নিজের বুদ্ধি ও বিবেকের প্রতি সবসময় আস্থা রাখুন। সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়াও জীবনের সব ক্ষেত্রে নিজেকে বিশ্বাস করা খুব জরুরি।

৪। চিন্তার চেয়ে কর্মে বেশি জোর দিন। সিদ্ধান্তহীনতা বিষয়ে ভুগলে দিনশেষে আপনার যতটা সময় সিদ্ধান্ত নিতে যাবে তা আপনি কাজে ব্যয় করলে অনেক উপকার হবে।

৫। যেকোন ব্যাপারে চট করে নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্তটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের আবেগের প্রকাশই হয়ে থাকে। আর তাই সেটা বাস্তবতাসম্পন্ন আর বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নাও হতে পারে। তাই কোন কিছু শোনার পরপরই যেটা মাথায় আসবে সেটা না করে নিজেকে একটু সময় দিন।

আরও কিছু উপদেশঃ

৬। দিনের সময়কে ভাগ করে নিন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। ছোট সিদ্ধান্তগুলো খাওয়ার পরের জন্যে রেখে দিন। সকালবেলা মস্তিষ্ক সবচাইতে বেশি সতেজ থাকে। বড় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার জন্যে এ সময়টাকে বেছে নিন। চেষ্টা করুন সকালেই নিজের সব বড় সিদ্ধান্তগুলোকে নিয়ে ফেলতে।

৭। কেবল বর্তমানকে ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন না। তাহলে বিপদে পরতে পারেন। বরং ভবিষ্যতের হিসাব করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন। এতে আপনার জন্যই ভালো হবে।

৮। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা মনস্থির করার জন্য প্রতিটি মানুষেরই নিজের একটা পদ্ধতি থাকে। কাজেই বেশি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে আগে আপনি আপনার নিজের চেনা পথটাই বেছে নিন। তাহলে সঠিক সিদ্ধান্তে আসা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে।

৯। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতা সংক্রান্ত বিষয়ে ভুগলে নিজেকে বারবার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। নিজের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।

১০। যার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে বা একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন এমন কারো সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। কেন না একই পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে প্রচণ্ড সহায়তা করবে। ফলে সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

১১। হুট করেই যে কোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং কঠিন সিদ্ধান্ত মনে হলে বিষয়টা নিয়ে ভাবা একেবারেই ছেড়ে দিন। মনকে মনের মত থাকতে দিন। তাহলে কিছুদিন পর আপনা থেকে বুঝতে পারবেন যে আপনাকে কী করতে হবে।

১২। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প উপায়গুলো আরও একটু ভেবে রাখুন। এতে পরবর্তীতে কোন সমস্যা হলে বিকল্প পথগুলো আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

১৩। প্রত্যেক সিদ্ধান্তেই একাধিক অপশন থাকে। সম্ভব হলে প্রতিটি অপশন ট্রাই করে দেখুন। যেটা ভালো লাগে সেটা বেছে নিন।
উপরের নিয়মগুলা মেনে চললে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে। আর মুসলিম হলে দু’রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিবেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন, এটাই প্রত্যাশা।

সিদ্ধান্তহীনতা বিষয়ে ভুগবেন না।