SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সীরাতের আলোকে সময়ের যথাযথ ব্যবহার শিখুন

আকীদাহ ১৭ জানু. ২০২১
মতামত
সীরাত
© Egor Novikov | Dreamstime.com

আমাদের অল্প পরিসরের জীবনে সময়ত খুবই সীমিত। তবে এই স্বল্প সময়ের জীবনেই আমাদের দায়িত্ব অনেক। এই ক্ষুদ্র পরিসরে আমরা যদি আমাদের রবকে সন্তুষ্ট করে যেতে পারি তবে তা আমাদের জন্য মহাসাফল্য বয়ে আনবে। কিভাবে আমরা সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারি সে সম্পর্কে রাসূল সাল্লল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পূণ্যময় জীবন (সীরাত) থেকে অনেক দিকনির্দেশনা খুঁজে বের করা সম্ভব। এই নিবন্ধে এমনই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনার দিলে আলোকপাত করা হল।

১) খুব সকালে ঘুম থেকে উঠা

রাসূল সাল্লল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য দু’আ করেছেন,

“হে আল্লাহ, দিনের অগ্রভাগকে আমার উম্মতের জন্য বরকতময় করে দিন।” (ইবনে মাজাহ)

যেহেতু দিনের শুরুর দিকে বরকত রয়েছে তাই দিনের শুরুতেই সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়সূচী নির্ধারণ করে ফেলুন। এরপর আল্লাহর বরকতের জাদু দেখুন। কিভাবে দিনের শুরুতেই জাগ্রত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রে আত্মনিয়োগ করবেন সে সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু পরামর্শ নিম্নে দেওয়া হলঃ

-রাতে তাড়াতাড়ি বিছানায় যান এবং ঘুমিয়ে পড়ুন

-ফজরের পূর্বে জাগ্রত হন

-ফজরের সালাতের পরে নির্ধারিত যিকিরসমূহ আদায় করুন

-ইশরাকের নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন

-যতটুকু সম্ভব কুরআন তেলাওয়াত করুন

-শরীর ফিট রাখতে কিছুক্ষণ ব্যায়াম করুন

-সারাদিনের কাজের জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করুন

২) পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে ঘিরে সারাদিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাযিঃ) বলেন, “আমি আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়?” তিনি বললেন, “সময় মতো সালাত আদায় করা, পিতা-মাতার খেদমত করা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।” (সুনানে নাসা’ঈ)

আসওয়াদ বিন ইয়াজিদ(রহঃ) বলেন, আমি আয়েশা(রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, “নবীজী বাড়িতে থাকাবস্থায় কি করতেন?” তিনি বললেন, “তিনি তার পরিবারকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতেন এবং যখন আযান শুনতেন, তখন সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে চলে যেতেন।” (বুখারী)

সালাতের সাথে কোনো আপস নেই। সালাতকে আপনার প্রাত্যাহিক রুটিনে স্থান করে নিতে আপনাকে মোটেও বেগ পেতে হবে না। বিষয়টি খুবই সহজ। আমাদের আশাপাশে এমন অনেক ব্যস্তময় কর্মজীবী বা শিক্ষার্থী আছেন যারা অনেক ব্যস্ততার মাঝেও সালাত ত্যাগ করেন না। তাদেরকে দেখে শিক্ষাগ্রহণ করুন। এবং আপনার দৈনন্দিন রুটিনকে সালাতকেন্দ্রিক করে তৈরী করুন। এবং এরপর আপনার কর্মে ও জীবনে বরকতের জাদুকে অনুভব করুন।

৩) সকল কাজে ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা

যখন আমরা সীরাত অধ্যয়ন করি, তখন নবীজীর দিনকে তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত দেখতে পাই।

আধ্যাত্মিক বিকাশঃ দিনের এই সময়টি তিনি একমাত্র আল্লাহর জন্যই উত্সর্গ করতেন। এটি সাধারণত রাতের শেষ অংশ হত যখন নবীজী পরের দিনের জন্য নিজেকে আধ্যাত্মিকভাবে প্রস্তুত করতেন। রাতের বেলা তিনি ক্বিয়াম (তাহাজ্জুদের সালাত), দু’আ এবং যিকিরের মাধ্যমে তাঁর রবের সাথে নিবিড় যোগাযোগে নিবদ্ধ হতেন।

পারিবারিক বিষয়ঃ নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম পারিবারিক বিষয়ে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রেও সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতেন।

আনাস ইবনে মালিক(রাযিঃ) থেকে বর্ণিত,

“নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি করুণাময় ছিলেন। তিনি তাঁর ছেলে ইবরাহীমকে চুম্বন করে কোলে নিতেন।” [আদাবুল মুফরাদ]

এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম যে তাঁর স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম।” (তিরমিযী)

ব্যক্তিগত / সামাজিক বিষয়সমূহঃ তিনি ধারাবাহিকভাবে তাঁর সাহাবীদের জন্য সময় দিতেন। তাদের সাথে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা করতেন, তাদের খোঁজখবর নিতেন, কোনো সমস্যা থাকলে সমাধান করতেন। তিনি সকলের সাথে এভাবে আচরণ করতেন যে, প্রত্যেকেই মনে করত নবীজী মনে হয় তাঁকেই বেশি গুরুত্ব প্রদান করছেন।

তাই আপনার ব্যক্তিগত জীবনকেও এরূপ সামঞ্জস্যতা দ্বারা সজ্জিত করুন।

৪) নেক কাজে দ্রুততার সাথে অগ্রসর হওয়া

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সৎকর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে তৎপর ছিলেন এবং অন্যদেরকেও সৎকাজে বিলম্ব করার কারণে সতর্ক করতেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, ছয়টি জিনিস প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে দ্রুততার সাথে সৎকর্ম করে নাওঃ পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, পশ্চিম আকাশে কালো ধোঁয়া, দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরদ এবং মৃত্যু।” (মুসলিম)

নবীজির জীবনে অলসতা বা অবসর বলে কোনোকিছু ছিল না। এ কারণে মাত্র ২৩ বছরের নবুওয়াতি জীবনে তিনি যা সম্পাদন করে গেছেন তা তাঁর উম্মত হাজার বছরেও সম্পাদন করতে পারে নি।

৫) অন্যের সময়কে সম্মান করা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত অধ্যয়ন করলে আপনি এটি খুব ভালোভাবে অনুধাবন করবেন যে, তিনি অন্যের সময়ের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন ছিলেন।

তিনি জামাতের নামাজ ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করতেন এবং কেউ এগুলি দীর্ঘায়িত করলে তাঁকেও নিষেধ করতেন; যাতে অতিরিক্ত সময় নেওয়া অন্যের জন্য কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি কখনও কারও সময় নষ্টের কারণ হয়েছেন এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। বরঞ্চ অন্যের কারণে তাঁর অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে, কিন্তু এরপরও তিনি সবর করেছেন।

তাই আপনিও অন্যের সময়কে সম্মান করুন। স্কুলে, মিটিং-এ সময়ের পূর্বে উপস্থিত হন; যাতে অন্তত আপনার কারণে কারও সময় নষ্ট না হয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত আমাদের জীবনের সকলক্ষেত্রে একটি উত্তম উদাহরণ। এই নিবন্ধে মাত্র গুটিকয়েক বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হল।