সুখী হওয়ার ৫টি ইসলামী দিকনির্দেশনা

dreamstime_s_156084997

আল্লাহ বলেন, “যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব।” (আল কুরআন-১৬:৯৭)

জীবনের পথচলায় কখনো কখনো এমন কিছু দুঃখজনক মুহুর্ত সামনে আসে, যা একজন মানুষের স্বচ্ছ মনকে বিষিয়ে তোলে। অবসাদে ভরে যায় স্রষ্টা প্রদত্ত এই ছোট্ট জীবন!

কিন্তু এতকিছুর পরেও মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহ তা’আলা এমন কিছু নি’আমত রেখেছেন যা তাকে সর্বদা সুখী হতে সাহায্য করে। আসুন জেনে নেই সুখী জীবনের পথে পাঁচটি কার্যকরী টিপস!

১) হতাশা ত্যাগ করে কৃতজ্ঞ থাকুন

কৃতজ্ঞতার ঘাটতি থেকেই হতাশার জন্ম। জীবন, জগতের দুর্বিষহ কিছু মুহুর্ত মাঝে মাঝে আমাদেরকে হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এতকিছুর একটু চিন্তা করলেই আমরা দেখতে পাব যে, আসলে কৃতজ্ঞ হওয়ার মতো অনেক বিষয়ই আমাদের সামনে আছে। বুদ্ধিমানদের জন্য পুরো দুনিয়া জুড়েই কৃতজ্ঞতার উপকরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই নেক কাজ করুন, কৃতজ্ঞতা আদায় করুন। আর সুখে থাকুন। এর সাথে আপনার রবের বাণী স্মরণ করুন-

“আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন।” (আল কুরআন-১৪:৭)

২) অলসতা ত্যাগ করে কাজে মনোযোগী হন

‘অকর্মণ্য মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’ প্রবাদটির প্রকৃত অর্থ হলো- আপনি যদি কোনোভাবে মস্তিষ্ককে খানিক ফাঁকা রাখতে চান, তবে সেই স্থানটি প্রকৃতপক্ষে কখনো ফাঁকা থাকবে না। বরং সেই জায়গাটি দখল করে নেবে স্বয়ং শয়তান। তাই সবসময় কাজে ব্যস্ত থাকাতেই প্রশান্তি! এছাড়া আপনাকে আমাকে অলসভাবে বসে থাকতেও সৃষ্টি করা হয়নি। মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। অলসভাবে বসে থেকে পৃথিবীর কাছে ঋণী হওয়াতে কোনো কৃতিত্ব নেই! আর এতে মনের অশান্তি আরও বৃদ্ধি পায়।

কর্মমুখী হওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ বলেন, “অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।” (আল কুরআন-৬২:১০)

৩) অপচয় ত্যাগ করে সদকা করুন

পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা আমাদেরকে অপচয় করতে আর ভোগবাদী হতে প্রলুব্ধ করে। সম্পদ অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা মৃত্য পর্যন্ত আমাদের মাতিয়ে রাখে। অথচ নশ্বর এ দুনিয়াতে মানুষ বেঁচে থাকে কর্মের মাধ্যমে, অর্থের মাধ্যমে নয়। ব্রিটেনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, ‘যারা দান করে, অন্যদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য ব্যয় করে, তারা নিজেকে অনেক বেশি সুখী মনে করে! অন্যদিকে যারা নিজের জন্য সঞ্চয় করে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুঃখবোধ আর অশান্তির সাথে মৃত্যুবরণ করেছে।’ তাই গোপনে দান করুন; সুখী হতে চাইলে প্রত্যহ দান করুন। দান অর্থ শুধু অর্থের কুরবানী নয়, বরং হাসিমুখে কথা বলাও সদকা! দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিই সুন্দর করতে চাইলে সদকার বিকল্প নেই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন আল্লাহর ছায়া ব্যতিত আর কোনো ছায়া থাকবে না, তখন আল্লাহ তা’আলা সাত শ্রেণির লোককে তাঁর আরশের নিচে ছায়া দান করবেন। (তাদের মধ্যে একজন হলো) যে ব্যক্তি এতো গোপনে সদকা করে যে, তার ডান হাত যা দান করে, বাম হাতও তা টের পায় না।”

৪) রাগ ত্যাগ করে ক্ষমাকারী হন

জীবনে তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো যত দ্রুত ভুলে যাওয়া যায় ততই কল্যাণ। পৃথিবীতে যা কিছু হয় তা ভালোর জন্যই হয়। ভালো মানুষ আমাদের জীবনে কল্যাণ নিয়ে আসে, আর খারাপ মানুষ দিয়ে যায় অভিজ্ঞতা। দুনিয়াতে কোনোকিছুর জন্য রেগে যাওয়া আসলে বোকামী। কারণ এতে নিজের সুখই নষ্ট হয়। চিন্তা করে দেখুন, আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা অনুশোচনার জন্য আমাদের বেখেয়ালী রাগটাই মূলত দায়ী। ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবাই ক্ষমা করতে পারে না। আর এ কারণে সুখীও হতে পারে না। তাই আসুন, সুখী হওয়ার জন্য হজরত আলী (রাযিঃ) এর মতো আমরাও শুধু আল্লাহর জন্যই সকলকে ক্ষমা করে যাই।

৫) নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করে ইতিবাচক হন

ভালো বিষয়ের চর্চা করুন, কল্যাণকামী হন। আপনি যখন কোনো নেতিবাচক বিষয় নিয়ে ভাবেন, তখন সর্বপ্রথম আপনার নিউরনই কিন্তু অবচেতন ভাবে নেতিবাচকতাকেই গ্রহণ করছে। আর আপনার মনকে বিষয়ে তুলছে। তাই ইতিবাচক হন। এতে আপনার জীবন কল্যাণে ভরে যাবে।