SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সুন্নাহ বলতে সার্বিকভাবে কী বোঝায়?

সালাত ০৬ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
সুন্নাহ
File ID 119394564 | © Lucaar | Dreamstime.com

সুন্নাহ -এর আভিধানিক অর্থ হল পথ ও পদ্ধতি, আদর্শ ও রীতিনীতি। ইসলামি শরীয়তে যখন সাধারণভাবে সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন এর অর্থ দাঁড়ায় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ, নিষেধ, কথা, কাজ, সম্মতি ইত্যাদি। এছাড়া যে সব বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর কিতাবে কোনো প্রকার বর্ণনা দেননি; শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন সেগুলোকেই হাদিস বা সুন্নাহ বলা হয়ে থাকে। এ জন্যই শরীয়তের দলীল সমূহের ক্ষেত্রে বলা হয়, কুরআন-সুন্নাহর দলীল।

এ উম্মতের জন্য শরীয়তের উদ্দেশ্যে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যে সকল কথা, কাজ ও সম্মতি প্রকাশ পেয়েছে তাকেও সার্বিকভাবে সুন্নাহ বলা হয়। সুন্নাহ শব্দটি সাধারণত তিনটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনেকেই এই তিনটি বিষয়কে একই মনে করেন। নিম্নে সুন্নাহ-এর ভিন্ন ভিন্ন এই তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল।

১) বিধান হিসেবে সুন্নাহ

প্রথমত সুন্নাহ বলতে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ কিছু বিধি-বিধানকে নির্দেশ করা হয়। কখনো কখনো সুন্নাহ দ্বারা নির্দেশ করা হয় বিবিধ মুস্তাহাব বা ঐচ্ছিক কাজকে তথা এমন কাজ যা পালন করলে অশেষ কল্যাণ ও সওয়াব লাভ করা যায়, কিন্তু পালন না করলে কোনো প্রকার গুনাহ বা অবজ্ঞার কোনো প্রশ্ন থাকে না। যেমন, ওজুর পূর্বে মিসওয়াক করে নেওয়ার জন্য ইসলামী শরীয়তে উৎসাহিত করা হয়েছে, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামও নিয়মিত মিসওয়াক করতেন। তবে তিনি তাঁর উম্মতকে মিসওয়াক করতে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেননি। তাই কেউ যদি এটি পালন করে তবে তা তার জন্য খুবই উপকারী হবে, অন্যদিকে পালন না করলেও তার কোনো গোনাহ হবে না।

আবার কখনো কখনো সুন্নাহ দ্বারা কিছু ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্যকেও বোঝানো হয়, যা আবশ্যিকভাবে প্রত্যেককে পালন করতে হয়। এই কর্তব্য পালনকারীরা তাদের কর্তব্য পালনের জন্য পুরস্কৃত হবে, আবার কেউ যদি অবহেলা করে পালন না করে তবে তাকে এই কর্তব্য পালন না করার কারণে শাস্তিভোগ করতে হবে। যেমন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আগে বা পরে কিছু সুন্নাতে মুয়াকাদ্দা সালাত।

শরীয়তের বিধিনিষেধ পালনের ক্ষেত্রে ফরজ তথা বাধ্যতামূলক এবং ওয়াজিব তথা আবশ্যিক কর্তব্যের পরেই এটি তৃতীয় স্তরের কর্তব্য।

২) ইসলামী জ্ঞানের উৎস হিসেবে সুন্নাহ

সুন্নাহর ২য় অর্থ হিসেবে আবার ইলম চর্চার দিক থেকে ইসলামী জ্ঞানের অন্যতম প্রধান একটি উৎসকেও নির্দেশ করা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহ শব্দটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসকে নির্দেশ করে। এই অর্থে সুন্নাহকে সম্পূর্ণভাবে হাদীসের সমার্থক শব্দ বলা যেতে পারে। মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে কুরআন থেকে পৃথক রাখার এই জ্ঞানশাখার উদ্ভব হয়।

এখানে একটি বিষয় সম্পর্কে প্রত্যেকের ধারণা পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন। অনেকেই মনে করেন যে, প্রথম অর্থে কুরআনে বর্ণিত সুন্নাহর আদেশ অবশ্য পালনীয় তথা ফরজ বা ওয়াজিব এবং হাদীসে বর্ণিত সুন্নাহর আদেশ মুস্তাহাব। কিন্তু এ ধারণাটি ভুল। বাস্তবিক অর্থে কুরআনে যেমন ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাহ সকল প্রকার আদেশই রয়েছে, তেমনি হাদীসেও এই সকল প্রকার আদেশেরই অবস্থান রয়েছে।

৩) জীবন পরিচালনার পন্থা হিসেবে সুন্নাহ

সুন্নাহর ৩য় অর্থ হিসেবে যেটি ব্যবহার করা হয়, সেটি হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার যাবতীয় নিয়মনীতি। এই অর্থে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতিকে সুন্নাহর এই ভাগে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, কিন্তু তিনি করতে পারেননি এমন কাজের ইচ্ছাও সুন্নাহর এই অর্থের অর্ন্তভুক্ত।

সহজভাবে, সুন্নাহর তৃতীয় অর্থ রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবন পরিচালনার যাবতীয় দিক। প্রথম দুইটি অর্থের সাথে এটিকে একত্রে মিলিয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।

সুতরাং, প্রথম অর্থের সাথে তৃতীয় অর্থের বিশ্লেষণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ শুধু আদেশগত সুন্নাহই নয়, বরং পালনের দিক থেকে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাহ, মুস্তাহাব, মুবাহ এবং বর্জনের দিক থেকে মাকরুহ, হারাম এ সকল কিছুই সুন্নাহর অর্ন্তভুক্ত।

দ্বিতীয় অর্থের সাথে বিবেচনা করলে, শুধু হাদীসে লিপিবদ্ধ আদেশই রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ নয়, বরং কুরআন ও হাদীস উভয়ে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সিফতই তাঁর সুন্নাহ। সহীহ বুখারীতে উল্লেখিত আম্মাজান আয়েশা (রাযিঃ) এর মন্তব্যটি এখানে উল্লেখযোগ্য। তিনি একজনকে বলেছিলেন, “পবিত্র কুরআনই তো রাসূলের চরিত্র।”

অতএব, সুন্নাহর এই তিনটি অর্থ যদি স্মরণে রাখা যায়, তবে এ সম্পর্কিত আলোচনায় সকল প্রকার অস্পষ্ট ও অযৌক্তিক ধারণা মুক্ত থেকে যথার্থভাবে আলোচনা বোধগম্য করা সহজ হবে।