SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সূরা কাহাফ-এ বর্ণিত চারটি ঘটনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা

কুরআন ১৮ জানু. ২০২১
ফিচার
সূরা কাহাফ
© Md_khairil X | Dreamstime.com

সূরা কাহাফ পবিত্র কুরআনের ১৮ নম্বর সূরা; যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়। সূরাটির আয়াত সংখ্যা ১১০। এ সূরায় আল্লাহ তা’আলা সুদূর অতীতের চারটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা উল্লেখ করে আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। ঘটনাগুলি ও এগুলির থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় দিকগুলো পাঠকদের জন্যে সংক্ষেপে নিম্নে তুলে ধরা হলো-

সূরা কাহাফ-এ আসহাবে কাহাফের ঘটনা

আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীর ঘটনা আমরা সকলেই কমবেশি শুনেছি। কয়েকজন যুবক আল্লাহর তা’আলার উপর পূর্ণ ঈমান আনয়নের পর সেসময়কার জালেম বাদশাহ তাদেরকে দেশ থেকে বিতারিত করেছিল। বিতারিত হওয়ার পর জীবনের নিরাপত্তায় তারা যখন একটি গুহার ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।

যখন তারা জেগে উঠলো তখন পরস্পর বলাবলি করতে লাগল যে, তারা হয়ত একদিন কিংবা অর্ধদিনের মত ঘুমিয়েছে। এরপর তাদের একজনকে যখন খাদ্য ক্রয়ের জন্য শহরে পাঠানো হল তখন সে ভাবল লোকেরা হয়ত তাকে চিনে ফেলবে এবং বাদশাহকে বলে তার ক্ষতি করবে। কিন্তু সে সকলের মাঝে নিজেকে একজন অপরিচিত আগন্তুক হিসেবেই খুঁজে পেল। শহরের লোকেরা তাকে এবং তার ব্যবহৃত ৩০০ বছর পূর্বের মুদ্রা দেখে বিস্মিত হল। অর্থাৎ, তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা কুদরতীভাবে ৩০০ বছরের অধিক সময় ঘুমের ভিতর রেখেছিলেন।

মূলত এ ঘটনাতে দেখানো হয়েছে, আল্লাহ তার উপর ভরসাকারী বান্দাদেরকে কিভাবে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেন। এই ঘটনা থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে, আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আমাদেরকে সকল বিপদ থেকে হেফাজত করে থাকে।

দুটি বাগানের মালিকের সম্পদের ঘটনা

ঘটনাটি এমন এক ব্যক্তির যার দুটি সুন্দর বাগান ছিল, কিন্তু এ কারণে সে অহংকারী ও উদ্ধত হয়ে তার বন্ধুকে বলেছিল,

“আমি তোমার থেকে উত্তম কেননা তোমার থেকে আমার বেশি সম্পদ, কর্মচারী ও সন্তানাদি রয়েছে। (আল কুরআন-১৮:৩৪)

এই ঘটনা থেকে দেখা যায়, আল্লাহ সেই দুই বন্ধুর একজনকে এমন দু’টি বাগান দিয়েছিলেন যেগুলো ছিল খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত, সর্বদা ফলদানকারী এবং বাগান দুটির মাঝে ছিল শস্যক্ষেত্র ও জলাশয়।

অর্থাৎ সবদিক দিয়েই এই বাগান দুটি ছিল একজন কৃষকের জন্য স্বপ্নতুল্য। এই বিরাট নি’আমত পেয়ে অহংকারী বন্ধুটি নিজেকে অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ ভাবতে শুরু করল। প্রথমে সে দাবী করল তার এই সম্পদ অবিনশ্বর, এরপর সরাসরি আখিরাতকেই অস্বীকার করে বসল। এসকল কারণে আল্লাহ তার বাগান দুটিকে ধ্বংস করে দিলেন।

ঘটনাটির মধ্যে সেসকল লোকের জন্য শিক্ষা রয়েছে যারা দুনিয়ার মোহে পরে থাকে আর আল্লাহর নি’আমতের কথা ভুলে গিয়ে নাশোকরী করে। তাদেরকে আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আল্লাহ ইচ্ছা করলেই তাদের কাছ থেকে সব কিছু কেড়ে নিতে পারেন।

সূরা কাহাফ-এ মুসা(আঃ) ও খিজির(আঃ) এর ঘটনা

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একবার মুসা(আঃ) তাঁর কওমের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। এসময় একজন তার কাছে জানতে চাইল, “মানুষের ভিতর সবচেয়ে জ্ঞানী কে?” তখন তিনি জবাবে বললেন, “আমি।” এসময় আল্লাহ মূসা(আঃ)-কে জানিয়ে দিলেন, আল্লাহ তাকে সকল জ্ঞানের অধীকারী বানাননি। আল্লাহ তাকে বললেন, “দুই সাগরের সংযোগস্থলে আমার এমন এক বান্দা আছে যে তোমার চাইতেও অধিক জ্ঞানী।”

মুসা(আঃ) আরজ করলেন, “হে আল্লাহ! আমি কিভাবে তার দেখা পাব?” আল্লাহ মুসা(আঃ) কে তাঁর পরিচিয় ও সন্ধান জানিয়ে দিলেন, যিনি খিজির নামে পরিচিত ছিলেন।

মুসা(আঃ) খিজির(আঃ) এর সাথে সফর করলেন এবং বুঝতে পারলেন আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকেই জ্ঞান দান করেন। যেহেতু আল্লাহই সকল জ্ঞানের অধিকারী, তাই কারোও উচিত নয় নিজ জ্ঞান নিয়ে অহংকার করা। খিজির(আঃ) নিজেও তাঁকে বললেন, “আমি নিজের ইচ্ছায় কিছুই অর্জন করিনি।” (আল কুরআন-১৮:৮২)

ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ যুলকারনাইনের ঘটনা

যুলকারনাইন ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ও সৎ বাদশাহ, তিনি পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত সমস্ত পৃথিবী ভ্রমণ করেছিলেন। এ ভ্রমণের কথা সুরা কাহাফ-এ উল্লেখিত হয়েছে। জীবনের শেষ সফরে তিনি দুই পর্বতের মাঝে এক জনপদকে পেলেন যারা তারা তার কাছে ইয়াজুজ-মাজুজের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে একটি দেওয়াল নির্মাণের আবেদন করল। যুলকারনাইন এ কাজটি করে দিলেন।

যুলকারনাইন তার এ কাজ নিয়ে গর্ব করেননি; বরং আল্লাহর প্রশংসা করেছিলেন। দেওয়াল নির্মানের তিনি বলেছিলেন, “এগুলো আমার মালিকের অনুগ্রহ, কিন্তু যখন আমার মালিকের নির্ধারিত সময় আসবে তিনি এগুলো চূর্ণ বিচূর্ণ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিবেন, আর আমার রবের ওয়াদাই চূড়ান্ত সত্য।” (আল কুরআন-১৮:৯৮)

সুরা কাহাফ-এর ফযিলত বর্ণানায় অনেক হাদিস এসেছে। এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“যে ব্যক্তি জুম’আর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তা তার জন্য এই জুম’আ থেকে পরবর্তী জুম’আ পর্যন্ত নূর হবে।” (বায়হাকী)

সূরা কাহাফ-এর শিক্ষার আলোকে জীবন গঠনে আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমীন।