সূরা মরিয়াম কিভাবে আপনার পরিবারকে অনুপ্রাণিত করতে পারে

ID 178481248 © Yalcinsonat | Dreamstime.com

বিবাহ করা, সংসার করা, সন্তান প্রতিপালন করা ইত্যাদি সুন্দর এবং প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি আল্লাহ আমাদের মধ্যে রেখেছেন।

বিবাহ এবং সন্তান প্রতিপালনের পিছনে আপনার আসল উদ্দেশ্য কী?

আপনি কি আখিরাতের জীবনের জন্যও সন্তান কামনা করেন যেমনটি এই পার্থিব জীবনে কামনা করে থাকেন?

সূরা মরিয়ম আমাদেরকে শিখিয়েছে যে, সন্তান লালন-পালনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল তাদেরকে আল্লাহর ফরমাবরদার হিসেবে গড়ে তোলা।

পরিবার গঠনের উদ্দেশ্য

সূরাটি হযরত যাকারিয়া(আঃ)এর একটি প্রার্থনা দিয়ে শুরু হয়েছে যাতে তিনি বার্ধ্যকে উপনিত হয়ে সন্তানের জন্য দু’আ করেছেনঃ

“আমি ভয় করি আমার(মৃত্যুর) পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে একজন কর্তব্য পালনকারী(সন্তান) দান করুন। সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুবের বংশ থেকে এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক” (সূরা মরিয়াম:আয়াত ৫-৬)

আল্লাহ যাকারিয়া(আঃ) এর প্রার্থনার জবাব দিলেন এবং তাঁকে ইয়াহইয়া নামে একজন সন্তান দিয়ে ধন্য করলেন, যিনিও তাঁর পিতার মত বনী ইসরাঈলকে আলাহর দিকে আহ্বান করতে লাগলেনঃ

“হে ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ কর। আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি দান করেছি। এবং নিজের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও পবিত্রতা দিয়েছি। সে ছিল পরহেযগার। পিতা-মাতার অনুগত এবং সে উদ্ধত ও নাফরমান ছিল না” (সূরা মরিয়াম:আয়াত ১২-১৪)

এরপর এই সূরায় ঈসা(আঃ) এর জন্ম নিয়ে আলোচনা এসেছে।

মরিয়ম বললঃ “কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি কখনও ব্যভিচারিণীও ছিলাম না”  (সূরা মরিয়াম:আয়াত ২০)

প্রতিফলিত বার্তা

আল্লাহ কেন এই সুন্দর সূরাটির নামকরণে ‘মরিয়ম’ নামটি বেছে নিলেন?

সম্ভবত, আল্লাহ চান যে আমরা আমাদের মায়েদের মূল্য বুঝি। এটি সকল মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা।

মুসলিম মহিলা, দয়া করে বোঝার চেষ্টা করুন যে, ইসলাম কিভাবে আপনাকে মূল্যায়ন করেছে।

বিবাহিত মুসলিম পুরুষ, আপনার স্ত্রীকে সম্মান করুন এবং ভালোবাসুন, কারণ তিনি আপনার পরিবারের প্রধান চালিকাশক্তি।

অবিবাহিত মুসলিম পুরুষ, আপনার ভবিষ্যত জীবনসঙ্গিনী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম মানদণ্ড হল আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক কেমন।

ধার্মিক পুত্র এবং তাঁর অবাধ্য পিতা

সূরাটির আরেকটু সামনে আমরা ইব্রাহিম(আঃ) এর ঘটনা দেখতে পাই, যাকে আল্লাহ তাঁর পিতার পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি ভাগ্যবান যে, পিতার মতো তিনি প্রতিমা পূজারী ছিলেন না। তবুও তিনি তাঁর পিতার সাথে কথোপকথনের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করেছেনঃ

“হে আমার পিতা, শয়তানের ইবাদত করো না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য। হে আমার পিতা, আমি আশঙ্কা করি, দয়াময়ের কোনো আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে” (সূরা মরিয়ম:আয়াত ৪৪-৪৫)

এই গল্পটি তাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করে যারা কঠিন পরিবার নিয়ে বাস করছেন। এখানে তাদেরকে পরিবারের সাথে নম্র আচরণ করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

আরও কিছু ধার্মিক পরিবার

সূরা মরিয়ম এ মুসা(আঃ) এর কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, কীভাবে আল্লাহ হারুন(আঃ)কে তাঁর পরিবারের মধ্য থেকে তাঁর সহচর হিসেবে বাছাই করেছিলেন।

এরপর সূরাটিতে ইব্রাহিম(আঃ)এর পুত্র ইসমাইল(আঃ)এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ, ধৈর্যশীল নবী ইব্রাহিম(আঃ)এর জন্য উপহার। ইসমাইল(আঃ) তাঁর পরিবারকে নামায পড়ার ও সদকা করার আদেশ দিতেন।

“এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে ছিলেন সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রসূল ও নবী।তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন” (সূরা মরিয়ম:আয়াত ৫৪-৫৫)

সুরাটির একটি সুন্দর আয়াতে আদম, নূহ, ইয়াকুব(আঃ) সহ আরও অনেক ধার্মিক পরিবারের আলোচনা করা হয়েছে।

“তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তখন তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং ক্রন্দন করত” (সূরা মরিয়ম:আয়াত ৫৮)

আল্লাহর কোনো পরিবারের প্রয়োজন নেই

ঈসা(আঃ) বলেছেন, “আমি আল্লাহর দাস”

সূরাটির শেষ দিকে আলোচনা অন্য দিকে মোড় নিয়েছে এবং ইসলামী বিশ্বাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আক্বিদা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; তা হল মানুষের পরিবার প্রয়োজন, কিন্তু আল্লাহ এর মুখাপেক্ষী না। আল্লাহর কোন অংশীদার, স্ত্রী বা সন্তান নেই। এগলো থেকে আল্লাহ পবিত্র।

“তারা বলেঃ দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। নিশ্চয় তোমরা তো এক অদ্ভুত দাবি করেছ। হয় তো এর কারণে এখনই নভোমন্ডল ফেটে পড়বে, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে। এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে।  (সূরা মরিয়ম:৮৮-৯১)