SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সেবাসিয়াস সিস্ট প্রতিকারের উপায়

শারীরিক স্বাস্থ্য ২২ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
সেবাসিয়াস সিস্ট
© Verbaska | Dreamstime.com

আপনার ত্বকে যদি ছোট, তরল পূর্ণ কোনও সিস্ট থাকে, তাহলে সেটি সেবাসিয়াস সিস্ট হতে পারে। এই সিস্ট কী, কীভাবে হয়, হলে কীভাবে তার চিকিৎসা করা উচিত বা অন্যান্য সিস্টের সঙ্গে এইধরনের সিস্টের কী পার্থক্য, তা নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। এই ধারণা না থাকার জন্যই সিস্ট হলে সেটি ক্যানসারাস কিনা, তাই নিয়ে আতঙ্কে ভুগতে থাকি। আজকের লেখায় আমরা সেবাসিয়াস সিস্ট নিয়ে আলোচনা করব।

সেবাসিয়াস সিস্ট কেন হয়?

ত্বকে ছোট, তরল পূর্ণ সিস্টকে সেবাসিয়াস সিস্ট বলে। এই সিস্ট দেখে অনেকসময় ভয় পেলেও বেশিরভাগ সময়েই এটি নিরীহ হয়। সেবাসিয়াস সিস্ট সাধারণত নন-ক্যানসারাস হয়। তবে আপাত-নিরীহ হলেও এই সিস্টে কখনও-কখনও ব্যথাও হয়। পুরুষ ও নারী, উভয়ের ক্ষেত্রেই সেবাসিয়াস সিস্ট হতে পারে। তবে নারীদের তুলনায় পুরুষদের দেহে রোমের সংখ্যা বেশি থাকে বলে এই সিস্ট হওয়ার প্রবণতা পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি থাকে। হাতের পাতা এবং পায়ের তলা বাদ দিয়ে আমাদের শরীরের সর্বত্র ত্বকের ডারমিস অংশে সেবাসিয়াস গ্রন্থি থাকে, যেগুলি রোমকূপের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং সেবাম বা তেলজাতীয় পদার্থ নিঃসরণ করে যা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চুল ও ত্বককে তেলতেলে রাখতে সাহায্য করে।

এই সেবামের মধ্যে থাকে গ্লিসারাইডস, ওয়্যাক্স এস্টার, ফ্যাটি অ্যাসিড, স্কোয়ালিন, কোলেস্টেরল এবং কোলেস্টেরলের এস্টার। কোনও কারণে এই গ্রন্থি থেকে সেবাম নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি হলে সেবাসিয়াস সিস্ট তৈরি হয়। অনেকসময় এই সিস্ট বারবার হতে থাকে। কোনও কারণে পূর্বের সিস্টের স্থানে চুলকে ফেলার ফলে, ব্রণ বা আঘাত এই সিস্টের কারণ হতে পারে। এছাড়া ফলিকল ভেঙে গেলেও এই সিস্ট হয়। এইধরনের সিস্ট আস্তে-আস্তে বড় হতে থাকে এবং কখনও-কখনও জ্বালা-যন্ত্রণা, প্রদাহ সৃষ্টি করে।

সেবাসিয়াস সিস্ট হলে কী করবেন?

আপনার যদি এই সিস্ট হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে বেশিদিন ফেলে না রাখাই ভাল। অনেকসময় সেবাসিয়াস সিস্টে ব্যথা থাকে না, ফলে আমরা ডাক্তার না দেখিয়ে সেটিকে ফেলে রাখি। এরকম না করাই ভাল। কারণ অসাবধানতা বশত চুলকে ফেললে বা সিস্টের জায়গায় ক্ষত তৈরি হলে, আঘাত লাগলে ইনফেকশন হতে পারে। তাই এইধরনের সিস্ট হলে প্রথম থেকে যত্নবান হন। তবে পুরোপুরি কমিয়ে ফেলতে না পারলেও ঘরোয়া কিছু ব্যবস্থার সাহায্যে আপনি সেবাসিয়াস সিস্টের যন্ত্রণা এবং এর আকার কমাতে পারবেন।

গরম সেঁক দিন

আপনার সেবাসিয়াস সিস্টে যদি জ্বালা করে, তাহলে এই টোটকা কাজে লাগাতে পারেন। দিনে তিন-চারবার জল হালকা গরম করে তুলো দিয়ে আলতো করে সিস্টের জায়গায় সেঁক দিতে পারেন, এর ফলে সিস্টের ভিতরে থাকা তরল বেরিয়ে যায়, জ্বালা খানিক কমে।

ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েলে থাকা রাইসিনোলেয়িক অ্যাসিডের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট এ ধরনের সিস্টের যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ২-৩ ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল সিস্টের স্থানে লাগিয়ে হালকা করে ম্যাসাজ করুন। তারপর হালকা গরম জলে তুলো ভিজিয়ে সেটি সিস্টের উপর ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। দিনে দু’বার এটি করলে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাগুণ সিস্টের প্রদাহ থেকে আপনাকে রক্ষা করে এবং ইনফেকশনের সম্ভাবনা রোধ করে। মিষ্টি আমন্ড তেলের সঙ্গে ২-৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার সিস্ট যদি খুব বড় আকারের হয়, তাহলে দিনে তিনবার এটি করুন। তবে টি ট্রি অয়েলে অ্যালার্জি থাকলে এটি না করাই ভাল।

হলুদ

হলুদে থাকে কারকিউমিন। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ প্রদাহ কমায় এবং এ ধরনের সিস্টে ইনফেকশনের সম্ভাবনা দূর করে। একচামচ হলুদগুঁড়ো বা কাঁচা হলুদবাটা জলে দিয়ে ঘন পেস্ট করে নিন। তারপর এটি আপনার সিস্টে লাগিয়ে রাখুন। দিনে দু’বার করে দেখতে পারেন।

আপনার সিস্টে জ্বালা হলে রসুন, নারকেল তেল, ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল, আলুর রস, মধু ইত্যাদিও কাজে লাগাতে পারেন।

তবে সিস্ট যদি খুব বড় হয়ে যায় এবং বেশি যন্ত্রণা করে তাহলে সেটি ফেলে না রেখে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়াই ভাল। সিস্ট ক্যানসারাস কিনা, তা জানার জন্য প্রথমে বায়োপ্সি করা হয়ে থাকে। ডাক্তাররা অনেকসময় সিস্ট কেটে ভিতরে থাকা রস বের করে দেন। যদিও এই পদ্ধতিতে সেই স্থানে আবার সিস্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এছাড়া ছোট অপারেশনের সাহায্যে গোটা সিস্টটিকে কেটে বাদ দেওয়াও হয়ে থাকে। তবে যেহেতু এই সিস্ট ক্ষতিগ্রস্ত নয়, তাই একে কেটে বাদ দেবেন কিনা, এটি সম্পূর্ণভাবে আপনার উপরেই নির্ভর করবে। এর ফলে পূর্বের সিস্টের স্থানে আর নতুন সিস্ট হয় না।

কী করে আটকাবেন সেবাসিয়াস সিস্ট হওয়া?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই  সিস্ট সেবাসিয়াস হবে কিনা তা আগে থেকে বোঝা যায় না। তবে কিছু ব্যবস্থা ও সতর্কতার সাহায্যে আপনি একে আটকানোর চেষ্টা করতে পারেন। সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবার নিঃসরণে বাধা পেলেই এইধরনের সিস্ট হয়। ফলে এর জন্য ত্বক সর্বদা পরিষ্কার রাখুন। তাহলে সেবাসিয়াস সিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমবে।