সেহরি ও ইফতারে এই পাঁচ ভুল করবেন না

Правила поведения за столом
ID 123295574 © Rawpixelimages | Dreamstime.com

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য পবিত্র মাস। ইবাদতের মাস, লাইলাতুল কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাস।
সেহরি, ইফতার, নামাজ ও পবিত্রতার মধ্য দিয়ে পার হয়ে যায় রোজার মাস। রোজা রাখার জন্য এ মাসে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে। সেই নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়।

সেহরি

দিনের শুরু হয় সেহরি দিয়ে। সেহরির খাদ্য তালিকায় প্রোটিন সমৃদ্ধ, আঁশযুক্ত, সুষম, দ্রুত হজম হয়ে যায় এমন খাবার থাকা চাই। সেই সঙ্গে অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত। সেহরির আদর্শ কিছু খাবারের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আঁশযুক্ত খাবার– গম বা গম থেকে তৈরি খাবার, রুটি, শাকসবজি, ফল, বাদাম ইত্যাদি। লক্ষ রাখতে হবে সেহরির খাদ্য তালিকায় যেন সব ধরনের পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাবার থাকে। যেমন ফলমূল, শাকসবজি, কম চর্বিযুক্ত মাংস বা মাছ, ভাত বা রুটি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম ইত্যাদি।

সেহরি ও ইফতারে এই পাঁচটি ভুল করবেন না

১। সেহেরির সঠিক সময় না জানা

সেহেরির সঠিক সময় সম্পর্কে না জানা। আমাদের দেশে অনেক মানুষ শেষ সময় না খেয়ে মধ্যরাতে খেয়ে ফেলেন। আবার অনেকেই আজানের একটু আগে উঠে তাড়াহুড়া করে কোন মতে খেয়ে নেন। আবার অনেকের খেতে খেতে আজান শুরু হয়ে যায়। আপনি ভাবলেন কিছু হবে না। সারাদিন কষ্ট করে রোজা রাখলেন, দেখা গেলো সেই রোজাই হল না। এসময় একদম ঠিক না। এই ভুলটা কখনোই করবেন না।

২। একবারে বেশি খাবার থেকে বিরত থাকা

পেটের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশী খাওয়া একেবারে উচিত না। সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে এই চিন্তা করে অনেক বেশী খেয়ে ফেললেন। এভাবে খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ক্ষুধা নিবারণের জন্য যতটুকু খাবার দরকার ততটুকুই খান, বেশী খেলে সেটা উপকারের পরিবর্তে অপকার হবে।
ভাত বাঙ্গালীর প্রধান খাবার। তাই সেহেরীতে সাদা ভাত অবশ্যই রাখবেন। সঙ্গে রাখতে পারেন মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল। পরিমাণমতো খান, সুস্থ থাকুন।

৩। সেহরি না খেলে রোজা হবেনা এই ধারণা করা

সেহরি না খেলে রোজা হবেনা এমন ধারণা করা ভুল। যদি কেউ ফজরের পর জাগে ও সেহরি খাওয়ার সময় না পান, তাহলে তার জন্য জরুরী রোজা রেখে দেয়া। এতে তার রোজার ক্ষতি হবে না। বরং ক্ষতি হবে তখন, যখন সে কিছু খেতে হয় মনে করে তখনই (ফজরের পর) কিছু খেয়ে ফেলবে।
সেক্ষেত্রে যদি খেয়েই ফেলে তাহলে তাকে সারাদিন পানাহার, ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে। রমজানের পরে সেই কাযাও করতে হবে। সেহরি খাওয়া যে উত্তম মহানবী (সাঃ) উম্মতদের বিভিন্ন কথার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহেরীতে বরকত রয়েছে।”

৪। ইফতারিতে ইচ্ছাকৃত দেরী করা

ইফতারে সময় দেরী করে ইফতার করা মোটেই উচিত না। মহানবী সাঃ আমাদের তাড়াতাড়ি ইফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “লোকেরা ততক্ষন পর্যন্ত মঙ্গলে থাকবে, যতক্ষন তারা (সূর্য ডোবার পর নামাযের আগে) ইফতার করতে তাড়াতাড়ি করবে।” (সহিহ মুসলিম/১০৯৮)
অনেকে অন্য মসজিদে আজান হবার পরেও নিজের এলাকার মসজিদে আজানের অপেক্ষায় বিলম্ব করে। এসব মোটেই উচিত না, এসব ভুল করবেন না।

৫। রেডিও ও টেলিভিশনের আজানের জন্য অপেক্ষা না করা

অনেকেই আছেন যারা রেডিও ও টেলিভিশনের আজানের জন্য অপেক্ষা করেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সব টেলিভিশনের আজান হয় স্থানীয় সময় অনুযায়ী, আবার ভারতের কলকাতায় ও একি অবস্থা। আপনি যদি অন্য জেলায় থাকেন, যেখানে ঢাকার চাইতে ৫ মিনিট পূর্বে ইফতারের সময় হয়ে গেছে তাহলে আপনার এই ৫ মিনিট দেরী হয়ে গেল।
আবার এমনও হতে পারে, টেলিভিশনে আজান হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার জেলা শহরে এখনো সূর্য ডুবেনি। এখন আপনি যদি টিভিতে আজান দেখে ইফতার করে ফেলেন, আপনার মস্ত বড় ভুল হবে। কারণ এতে আপনার কষ্টের রোজা নষ্ট হয়ে গেল।

ইফতারের আগে আমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। ইফতার ও সেহরি ঠিক নিয়মমতো করুন, সিয়াম পালন করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।