সোশ্যাল মিডিয়া কি শিশুদের উপযোগী?

শিশু Contributor
সোশ্যাল মিডিয়া শিশু
ID 146541231 © Andranik Hakobyan | Dreamstime.com

বিশ্বব্যাপী মহামারীর এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা আজ প্রত্যেকেই কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। আমাদের রোজকার জীবনে, কাজ করার পদ্ধতিতে এসেছে নানা পরিবর্তন। এই পরিস্থিতিতে শিশুরাও এখন ঘরবন্দি। বাড়ি থেকেই তারা তাদের লেখাপড়া এবং অন্যান্য নানা বিষয়ে নিজেদেরকে যুক্ত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমাদের একটি বিষয় ভেবে দেখা প্রয়োজন। অনলাইন মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ধারাবাহিকতা বাড়ার ফলে শিশুরা একদিকে যেমন মোবাইল, ইন্টারনেট এবং কম্পিউটার ব্যবহারের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবের দিকে ঝুঁকছে, তেমনই অন্যদিকে তারা অনেকবেশি পরিমাণে সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর হয়ে পড়ছে। এইসব বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ভাল ফলাফলের মতোই কিন্তু এর খারাপ প্রভাব পড়ছে শিশুদের উপরে।

সোশ্যাল মিডিয়ার খারাপ প্রভাবঃ

এই ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরই জিজ্ঞাসা করা উচিত: বাচ্চাদের কি আদৌ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা উচিত? সহজভাবে বলতে গেলে না। ২০১৬ সালে সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে সেই বিষয়ে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অর্ধেক অভিভাবক মনে করেন যে, ফেসবুক, ট্যুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের নৈতিক উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করে। তাঁদের বেড়ে ওঠায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবার ১৫ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন যে, শিশুদের চরিত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে সোশ্যাল মিডিয়া। এই প্রসঙ্গে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে থেকে জানা গিয়েছে যে, শিশুদের চরিত্র, তাদের বেড়ে ওঠা এবং তাদের নৈতির উন্নতিতে অবশ্যই প্রভাব ফেলে সোশ্যাল মিডিয়া। এগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার

যে বন্ধুমহল তৈরি হচ্ছে ক্ষণিকের বিরতিতেই সে ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে একধরনের মানসিক সমস্যা। এই প্রভাবটি বর্ণনা করার জন্য মনোবিদেরা একটি নতুন শব্দ তৈরি করেছে, FOMO ( ফিয়ার অফ মিসিং আউট)। এই ধরণের উদ্বেগ কিন্তু আশঙ্কাজনক।

সোশ্যাল মিডিয়ার অবদানঃ

এই মিডিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান হল প্রতিটি মানুষ নিজের কথা বলার, নিজের মতামত, অনুভূতি উপলদ্ধি সবকিছু  ভাগ করে নেওয়ার সুজগ পায় অন্যের সঙ্গে৷ সে দিক থেকে দেখতে গেলে এটি একটা সামাজিক বিপ্লব এনে দিয়েছে মানুষের সমাজে৷ শুধু তাই নয় পৃথিবীর নানা জনজাতি, নানা সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-দর্শন -রাজনীতি সমাজনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক ভাবনার আদান-প্রদান হয়ে থাকে৷ এতো ভালোর মধ্যেও সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক দিকগুলোকে উপেক্ষা করা যায় না৷ বরং এ বিষয়ে আমাদের সকলের সচেতন থাকা উচিত ও অন্যকে সচেতন করা উচিত৷ সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বয়ঃসন্ধির ছেলে মেয়েরা অর্থাৎ যাদের বয়স ১৩-১৯ এর মধ্যে৷ তারা জেনে বা না জেনে সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে এমনভাবে জড়িয়ে পড়ছে যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের জীবন সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ৷

সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিঃ

এক ধরনের আসক্তির কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় তারা অতিবাহিত করছে স্মার্ট ফোনে, ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারে৷ যার ক্ষতিকর প্রভাব তাদের মানসিক, সামাজিক,শারীরিক বিকাশে প্রতিফলিত হচ্ছে৷ তাদের পড়াশোনার প্রতি তীব্র অনীহা, মনঃসংযোগের ঘাটতি, সমবয়সী বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সামাজিক মেলামেশা এসব কিছুই প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে এই আসক্তির দরুন ৷ ছাত্র-ছাত্রা ছাড়াও সমাজের সর্বস্তরের মানুষ কমবেশি স্যোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংক্রামিত হচ্ছেন৷ কাজেই অবসর সময়ে বইপড়া, ছবি আঁকার মতো বিষয়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের মধ্যে থেকে৷ চোখ ধাঁধানো পণ্য সামগ্রীর হাতছানি,উগ্র ও নীতি নৈতিকতাহীন স্বেচ্ছাচারী জীবন যাপনের প্রতিনিয়ত প্রেরণা জোগাচ্ছে আমাদের এই সাধের সোশ্যাল মিডিয়া৷

কঠিন এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শিশুরা ক্রমে একা হয়ে পড়ছে। মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে বেছে নিচ্ছে অন্য কোনও পথ। কাজেই এই ক্ষেত্রে বাবা মায়েরই মূলত দায়িত্ব থাকে যে শিশুকে সঠিক পথের নির্দেশ দেওয়া। কোনটি তাদের বয়েসের জন্য উপযুক্ত সেটা বিচার করার দায়িত্ব কিন্তু আপনারই। সোশ্যাল মিডিয়ার খারাপ প্রভাবগুলো সম্পর্কেও শিশুদের সচেতন করতে হবে( যেমন- রুচিহীন মন্তব্য, কোনও বিজ্ঞাপন, ধর্মীয় উসকানি, রাজনৈতিক দুর্নীতি সম্পর্কিত বিরবণ ইত্যাদি)।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.