SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

স্তন ক্যানসার বুঝবেন কীভাবে? কী করণীয় তখন?

স্বাস্থ্য ২৭ জানু. ২০২১
ফোকাস
স্তন ক্যানসার
© Natee Srisuk | Dreamstime.com

মহিলাদের মধ্যে ব্যাপকহারে যে ক্যানসারটি দেখা যায়, সেটি হল স্তন ক্যানসার। ২০২০ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, সমগ্র পৃথিবী জুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যার হিসেবে স্তন ক্যানসারের স্থান প্রথম। পুরুষদের মধ্যে এই ক্যানসার খুব কম দেখা যায়। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা বেশি হলেও কমবয়সী মহিলাদেরও স্তন ক্যানসার হতে পারে। ৩০-এর পরে প্রথম সন্তানের জন্ম হলেও স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

স্তন ক্যানসার কী?

এই ক্যানসারের ক্ষেত্রে স্তনের কোষগুলি আচমকাই দ্রুতহারে ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে শুরু করে। স্তন ক্যানসার নানারকম হতে পারে এবং এটি বুকের নানা অংশে হতে পারে। স্থূলতা, নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব, মদ্যপান, মেনোপজের সময় হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি এবং পরিবারে কারওর মধ্যে স্তন ক্যানসার হয়ে থাকলে এর সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তবে স্তন ক্যানসার যদি প্রাথমিক স্টেজে ধরা পড়লে বেশিরভাগ সময়েই একে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়। তাই জন্য ডাক্তাররা বারবার স্তনের দিকে খেয়াল রাখতে বলেন। তবে স্তন ক্যানসারের উপসর্গ নিয়ে অনেক মহিলাদের মধ্যেই স্পষ্ট কোনও ধারণা নেই। এবিষয়ে আলোচনার সময়েও তাঁদের মনে দ্বিধা কাজ করে। আজ আমরা স্তন ক্যানসার হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন উপসর্গ দেখে, সেই নিয়ে আলোচনা করব।

স্তনে মাংসপিণ্ড বা লাম্প

এটি স্তন ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ। স্তনে বা বগলে মাংসপিণ্ডের উপস্থিতিই কিন্তু স্তন ক্যানসারের প্রথম চিহ্ন হতে পারে। শুরুতে বেশিরভাগ সময়েই এই মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি বোঝা যায় না। বাইরে থেকে দেখেও স্তনের মধ্যে কোনও পার্থক্য অনুভব করা যায় না। তবে বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ম্যামোগ্রামের (স্তন ক্যানসারের পরীক্ষা) সাহায্যে ডাক্তাররা বহু আগে থেকেই এই অবাঞ্ছিত মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি বুঝতে পারেন। সতর্ক থাকার জন্য নিয়ম করে নিজের স্তন ভাল করে হাত দিয়ে চেপে পরীক্ষা করুন, যাতে সামান্যতম লাম্পের উপস্থিতিও আপনার অনুভূতি না এড়িয়ে যায়।

ত্বকের পরিবর্তন

স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে বুকে জ্বালা, প্রদাহ ইত্যাদি হতে পারে। অনেকসময় স্তনের ত্বকের পরিবর্তন দেখা যায়। স্তনবৃন্ত এবং তার আশপাশের কালো অংশ খসখসে, শুষ্ক হয়ে যাওয়া স্তন ক্যানসারের চিহ্ন হতে পারে। আবার স্তনের কোনও অংশের চামড়া মোটা শক্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে স্তনে অস্বস্তি, জ্বালা, চুলকানি হতে পারে। তবে এটি অনেকসময় সাধারণ ত্বকের রোগ, চুলকানি ইত্যাদির কারণেও হতে পারে। তবে এরকম হলে ফেলে না রেখে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

স্তনবৃন্ত থেকে ক্ষরণ

এটি স্তন ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। স্তনবৃন্ত থেকে সাদা, হলদেটে, লাল ইত্যাদি যে-কোনওরকম ক্ষরণ বা রক্তপাত হলেই সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যদিও এই ক্ষরণ অনেকসময় স্তনে ইনফেকশন, জন্মনিরোধক বড়ি বা কোনও নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও হয়ে থাকে, তবে এধরনের উপসর্গ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন ও স্তনবৃন্তে ব্যথা

স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেহকোষের মধ্যে কিছু পরিবর্তন হয়, যার ফলে স্তনে বা স্তনবৃন্তে ব্যথা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময়েই স্তন ক্যানসার ব্যথাহীন হলেও স্তনে যন্ত্রণা হলে ফেলে না রেখে ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন।

খসখসে হয়ে যাওয়া

এক্ষেত্রে স্তনের ত্বক কমলালেবুর খোসার মতো খসখসে হয়ে যায়। ডাক্তাররা একে ‘peau d’orange’ বলে থাকেন। এটি স্তনের ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি করে। এই উপসর্গে ক্যানসার খুব দ্রুতহারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্তনবৃন্ত ভিতরে ঢুকে যাওয়া

এর ফলে স্তনবৃন্তের কোষগুলির মধ্যে পরিবর্তন দেখা যায়। এক্ষেত্রে স্তনবৃন্ত অনেকসময় ভিতরে ঢুকে যায়। স্তনবৃন্তের আকারেও নানারকম পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়, স্তনবৃন্তে জ্বালা, চুলকানি হতে পারে। পিরিয়ডসের সময় ছাড়া অন্য কোনও সময় স্তনবৃন্তে এরকম পরিবর্তন হলে অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।

স্তন লাল হয়ে যাওয়া এবং ফুলে যাওয়া

স্তন ক্যানসার ত্বকের কোষের পরিবর্তন ঘটায়। ফলে ত্বক অনেকসময় লাল বা গোলাপি হয়ে যেতে পারে। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে স্তন আবার বর্ণহীন হয়ে যায়। এছাড়া স্তনের আকারের পরিবর্তনও এক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি ঘটনা। স্তন ফুলে যেতে পারে এবং স্তনের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

লজ্জা কাটিয়ে সতর্ক হন?

উপরে উল্লেখিত উপসর্গগুলি বেশিরভাগ স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেখা গেলেও অনেকসময় স্তন ক্যানসার উপসর্গহীনও হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনও ব্যথা, অস্বাভাবিকতা বা মাংসপিণ্ড দেখতে পাওয়া না গেলেও ডাক্তাররা ম্যামোগ্রামের সাহায্যে স্তন ক্যানসারের অস্তিত্ব বুঝতে পারেন। মহিলাদের মধ্যে সাধারণভাবে স্তনের মতো শরীরের সংবেদনশীল অংশ নিয়ে লজ্জা কাজ করে, ফলে স্তনে কোনওরকম সমস্যা বা ব্যথা-বেদনা হলেও তাঁরা সেটিকে গোপন রাখাই বাঞ্ছনীয় মনে করেন। তাছাড়া এর পিছনে কাজ করে ক্যানসারের ভয়াবহতাজনিত আতঙ্ক।

কিন্তু জেনে রাখা ভাল যে, ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি খুব দ্রুতহারে হয়, তাই এক্ষেত্রে একসপ্তাহ দেরিও বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই রোগ নির্ণয় করে যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই ভাল। নিজে নিয়ম করে স্তনের খেয়াল রাখুন। বয়স মোটামুটি চল্লিশ পেরলে বা মেনোপজের পর রুটিন চেকআপের মধ্যে থাকাই বাঞ্ছনীয়। স্তন ক্যানসার কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জিনগত হয়। ফলে পরিবারে কারওর এই রোগ থেকে থাকলে সতর্ক হন।

নিজের ডাক্তারের সঙ্গে এবিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। তিনি নিশ্চয়ই আপনাকে পরামর্শ দেবেন। আজকাল আধুনিক চিকিৎসার সাহায্যে স্তন ক্যানসারকেও কিন্তু সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যাচ্ছে। তাই অসুখ হলেও ভেঙে পড়বেন না, মানসিকভাবে শক্ত থাকুন। আর মনে রাখবেন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কিন্তু শুধু স্তন ক্যানসার কেন, যে-কোনও ক্যানসারকেই দূরে সরিয়ে রাখতে সক্ষম।