স্ত্রীর আত্মমর্যাদায় আঘাত থেকে বিরত থাকতে বলে ইসলাম

Муфтий Чечни Салах Межиев временно приостановил проведение никахов
ID 168834425 © Евгений Вершинин | Dreamstime.com

একজন পুরষের দায়িত্ব স্ত্রীর দিকে নজর দেওয়া, তাকে দেখে শুনে রাখা এবং আগলে রাখা।  একজন পুরুষ মানুষ যা খাবে স্ত্রীকেও তাই খাওয়াবে। তার প্রতি বিশেষ যত্ন নেবে। দুনিয়া ও আখিরাতের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে নেককার স্ত্রী। স্ত্রী সারাজীবনের চলার সাথী। তার যত্ন নিতে হবে। ভালো আচরণ করতে হবে।
স্বামী স্ত্রীর খেয়াল রাখবে তার ভরণ পোষণের সব দায়িত্ব স্বামীর উপর। পরিবারের কর্তা একজন পুরুষ মানুষ। তার উপরেই যাবতীয় দায়িত্ব বর্তায়। স্বামী-স্ত্রীর কিছু শরয়ী হক তুলে ধরা হল।

স্বামীর ওপর স্ত্রীর হকসমূহ

১. স্ত্রীর সাথে সর্বদা ভালো আচরণ করা।
২. স্ত্রীর কোনো কথায় বা কাজে কষ্ট পেলে ধৈর্য্য ধারণ করা।
৩. উচ্ছৃঙ্খল, বেপর্দা চলাফেরা করতে থাকলে নম্র ভাষায় তাকে বোঝানো।
৪. সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা। কথায় কথায় ধমক না দেওয়া। রাগ না করা।
৫. স্ত্রীর আত্মমর্যাদায় আঘাত করে এমন বিষয়ে সংযত থাকা। শুধু শুধু স্ত্রীর প্রতি কুধারণা না করা। স্ত্রীর সম্পর্কে উদাসীন না থাকা।
৬. সামর্থ্যানুযায়ী স্ত্রীর খোরপোষ দেওয়া। অপচয় না করা।
৭. নামায পড়া এবং দ্বীনের আহকাম মেনে চলার জন্য উৎসাহ দিতে থাকা।
৮. একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে সমতা রক্ষা করা।
৯. চাহিদানুযায়ী তাদের সাথে মেলামেশা করা।
১০. অনুমতি ব্যতীত আযল অর্থাৎ মেলামেশার সময় শেষ মুহূর্তে স্বাভাবিক স্থান ত্যাগ না করা।
১২. প্রয়োজন মাফিক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।
১৩. মাঝে মাঝে স্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাত করার সুযোগ করে দেওয়া।
১৪. স্ত্রীর সাথে মেলামেশার চিত্র অন্যের কাছে বর্ণনা না করা।

স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য :

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর হাদিসে কোরান মাজিদের এসব নির্দেশনর প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। তা স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহারের প্রতিদান ও স্ত্রীদের প্রতি স্বামীদের সদয় ও সহানুভূতিশীল হওয়ার কথা বলে।
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীদের সাথে সদয় আচরণ করবে। তাদেরকে একটি পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পাঁজরের সবচেয়ে বাঁকা হাড় হল সবচেয়ে উপরের হাড়। যদি তুমি তাকে সোজা করতে চেষ্টা কর, তবে তুমি তাকে ভেঙে ফেলবে। আর যদি তুমি তাকে একা ছেড়ে দাও, তবে তা বাঁকাই থেকে যাবে। অতএব, নারীদেরকে তদনুসারে নসীহত করতে থাক। (বুখারি, মুসলিম)
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের বিচারে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে। (তিরমিযি)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আচরণ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন, তিনি নিজেও তার স্ত্রীদের প্রতি তেমনটি আচরণ করতেন। তিনি ছিলেন সবচেয়ে আদর্শ স্বামী। নিচে তাঁর স্ত্রীদের প্রতি ভালবাসা ও তাদের দেখাশুনা সংক্রান্ত কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হল:
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর শপথ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার কক্ষের দরজায় দাঁড়ানো দেখতে পেলাম। তখন হাবশীরা বর্শা নিয়ে খেলা করছিল। তিনি তাঁর চাদর দ্বারা আমাকে ঢেকে দিলেন, যাতে আমি খেলা দেখতে পারি। যতক্ষণ আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলাম ততক্ষণ তিনি আমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। (বুখারি, মুসলিম)
হজরত আয়েশা (রা.) আরও বর্ণনা করেন, আমি আমার বান্ধবীদের সাথে পুতুল নিয়ে খেলা করছিলাম। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন তারা আমার কাছ থেকে চলে গেল। তিনি তখন আমাকে তাদের কাছে ফেরত পাঠালেন এবং তারা পুনরায় আমার সাথে খেলা করতে লাগল। (বুখারি, মুসলিম)
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করেন এবং তাকে পুতুল নিয়ে খেলা করতে দেখেন। তার একটি ঘোড়াও ছিল, যার ছিল দুটি ডানা। যখন তিনি এটি দেখলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটির উপর এগুলি কি? আমি বললাম, ডানা। তিনি বিস্মিত হয়ে বললেন, দুই ডানাবিশিষ্ট ঘোড়া! আমি বললাম, আপনি কি শুনেন নি যে, সুলায়মান আ. এর একটি ঘোড়া ছিল, যার অনেক ডানা ছিল? তা শুনে তিনি তিনি এতই হাসলেন যে, আমি তাঁর পেছনের দাঁত পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিলাম। (আবু দাউদ)

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য

হজরত আবু ওমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর ভয়ের পর একজন ঈমানদার পূণ্যবতী স্ত্রীর চেয়ে উত্তম কিছু পেতে পারে না। যদি সে তাকে কোন আদেশ করে তবে সে তা পালন করে, যদি সে তার দিকে তাকায় তবে সে তাকে তৃপ্ত করে, যদি সে তার থেকে কোন প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে, সে তা পূর্ণ করে এবং যদি সে অনুপস্থিত থাকে তবে সে তার আচরণ ও তার (স্বামীর) সম্পদকে হেফাজত করে। (ইবনে মাজাহ)

স্বামীর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমি কাউকে অন্যের প্রতি সিজদা করার আদেশ দিতাম তবে আমি স্ত্রীদের আদেশ দিতাম তাদের তাদের স্বামীদের সেবা করতে। (তিরমিযি)

স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বিছানায় আহবান করে, অথচ সে তা প্রত্যাখ্যান করে। আর স্বামী রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রী যাপন করে, তখন ফেরেস্তারা সারা রাত্রী তার (স্ত্রীর) উপর অভিশাপ দিতে থাকে। ( বুখারি, মুসলিম)