স্ত্রীর ওপর স্বামীর কতটুকু অধিকার নিশ্চিত করেছে ইসলাম

© Nazriyaakub | Dreamstime.com

পবিত্র ধর্ম ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে কল্যাণকর দিকনির্দেশনা। একটি পরিবারে মূল সদস্য হচ্ছে স্বামী এবং স্ত্রী। ইসলামের বিধান অনুসারে স্বামী-স্ত্রীর কতগুলো আচরণবিধি রয়েছে অনুসরণ করলে স্বামী স্ত্রী সুখী হতে পারবে। এর ভেতরে স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার রয়েছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই যে তার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের নিকট তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম।’

স্বামীর অধিকারঃ

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যে নারী তার ওপর অর্পিত ফরজসমূহ আদায় করা অবস্থায় মারা যায় এবং সে অবস্থায় তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট থাকে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের সমস্ত দরজা খুলে দেন। যাতে সে হিসাব নিকাশ ছাড়াই সোজা জান্নাতে চলে যেতে পারে।

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে, কোনো স্ত্রীর ওপর যদি তার স্বামী যৌক্তিক কারণে অসন্তুষ্ট হয়, আর স্ত্রী জেদ করে থাকে, স্বামীর চাওয়া পুরো না করে এবং স্বামী সে অবস্থাতেই ঘুমিয়ে যায়, তাহলে আল্লাহর ফেরেশতারা সারা রাত ওই স্ত্রীর ওপর লানত বর্ষণ করতে থাকে।

উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে স্বামীর সন্তুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু স্বামী আপনজন তাই স্বামী খুশি থাকলে আল্লাহ তাআলা খুশি থাকেন।

এক স্ত্রীর সহ্যশক্তির কাহিনী

ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই স্বামীর আনুগত্যের ব্যাপারে নারী সাহাবীদের শিক্ষণীয় ঘটনা রয়েছে। এসব ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। এক নারী সাহাবীর স্বামী জিহাদে গেছেন। তার অবর্তমানে তার ঘরে আল্লাহ এক ছেলে সন্তান দান করেছেন। সাহাবি যেদিন জিহাদের ময়দান থেকে ফেরেন, ওইদিনই তার ফিরে আসার কিছুক্ষণ পূর্বে ছেলেটা মারা যায়। নারী সাহাবি ভাবলেন, স্বামী আমার কতদিন পর আসছেন। এসেই যদি ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শোনেন তাহলে কষ্ট পাবেন। তিনি ছেলেকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরিয়ে রাখেন।

এদিকে স্বামী ঘরে এসে জিজ্ঞাসা করে, জিহাদে যাওয়ার পর তো আমার ঘরে অতিথি আসার কথা, তার কী খবর?
বিবি শান্তস্বরে উত্তর দেন, আল্লাহ আপনাকে একটি ছেলে সন্তান দান করেছেন।
সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায়? আমার ছেলে কোথায়?
স্ত্রী উত্তর দেন, সে শান্তিতে আছে। স্বামীকে বোঝান যে, ছেলে ঘুমিয়ে আছে।
স্বামী খাবার খায়। বিশ্রাম নেয়। এদিকে রাত হয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী খোশ-গল্প করে, সফরের কারগুজারী শোনে, শোনায়। ভেবে দেখুন, সেই মায়ের অন্তর্জগতে কি ঝড়টাই না বয়ে যাচ্ছে। মাসুম বাচ্চার লাশ ঘরে, চৌকিতে শোয়া। কিন্তু স্বামীকে পেরেশান না করার জন্য কষ্টের পাথর কিভাবে বুকে ধারণ করে আছেন। তিনি জানেন, স্বামীকে প্রকৃত ঘটনা বললে সে খাবে না। পেরেশান হয়ে পড়বে। দীর্ঘ সফর শেষে তার আরামের প্রয়োজন। তাই তিনি সব কষ্ট বুকের মাঝে পাথরচাপা দিয়ে স্বামীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেছন। খোশ-গল্প করছেন। এভাবেই তাদের রাত সকাল হয়।

সকালে চারিদিক যখন দিনের আলো ছড়িয়ে পড়ল, স্ত্রী স্বামীর কাছে বসে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই।
বলো। স্বামী উত্তর দেয়।
স্ত্রী বললেন, কেউ যদি কাউকে কোনো আমানত দেয় এবং কয়েকদিন পর তা ফিরিয়ে নেয়, তখন কি সেই আমানত হাসিমুখে ফিরিয়ে দেয়া উচিত নাকি এর জন্য কষ্ট পাওয়া উচিত।
স্বামী বললেন, হাসি মুখে ফিরিয়ে দেয়া উচিত।
স্ত্রী বললেন, আল্লাহ তায়ালা আপনাকেও আমানত দিয়েছিলেন। আপনি বাড়ি পৌঁছার কিছুক্ষণ পূর্বে আল্লাহ তায়ালা সেই আমানত ফিরিয়ে নিয়েছেন। এখন উঠুন, হাসিমুখে আল্লাহকে তাঁর আমানত ফিরিয়ে দিয়ে আসুন। আল্লাহু আকবার!

এর থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

দেখুন! নারী কেমন অপূর্বভাবে তার ভদ্রতা দেখালেন। সামাজিক হক আদায় করলেন।
সকালে ওই সাহাবি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হলেন এবং বাড়ির সব ইতিবৃত্ত শোনালেন। তিনি বললেন, আমার স্ত্রী আমাকে খুশি রাখার জন্য এমন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। আল্লাহর নবী সব শুনে দোয়া করলেন। আল্লাহ ওই রাতে বরকত দান করলেন। ওই রাতের সহবাসের দরুণ নারী গর্ভবতী হলেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি ছেলে সন্তান দান করলেন। সেই ছেলে কোরআনেরও হাফেজ হয়েছিল। হাদিসেরও হাফেজ হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ!