স্নায়ু ও স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা রাখতে রোজ ভোরে উঠুন

ID 104738844 © Olena Hromova | Dreamstime.com

অনেক রাত অবধি জাগা আর বেলা করে ঘুমোনো, এখনকার জেনারেশনের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও এটা শরীরের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। তাছাড়া অনেকে আছেন যারা লেট রাইজার, দেরী করে ঘুমিয়েই থাকেন। এটাও খুব একটা ভালো অভ্যাস না। চটজলদি ওঠার অনেক উপকারিতা আমাদের শরীরে, যেগুলো অনেকেই মিস করে যায়। তাই সকালে তাড়াতাড়ি উঠতেই হবে। সকালে উঠুন আর তাজা বাতাসের ঘ্রাণ নিন, দেখবেন সকাল থেকে রাত সারাক্ষণই যেন বদলে গেছে, ক্লান্তির রেশ নিমেষে উধাও।

শুতে যাওয়ার আগে একবার নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করেই দেখুন পরের দিন ভোরে ওঠার। এই ভাবাটুকুই আপনাকে এগিয়ে দেবে আপনার লক্ষ্যে। আমরা কখন উঠতে চাই তা আমার বা আপনার মস্তিষ্ক কিন্তু নোট করে নেয়। আপনি ভেবে রেখেছেন ভোরের যে সময় ওঠার, পরের দিন সেই সময় আসার আগে থেকেই আপনার শরীরে অ্যালার্টনেস ড্রাইভিং স্ট্রেস হরমোন কাজ করতে শুরু করে দেবে যার ফলে আপনি সহজেই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়বেন।

আপনি উঠলেও আপনার চোখ থেকে ঘুম যাচ্ছে না ফলে ঝিমোচ্ছেন, এরকম ঘটনা অনেকের সাথেই হয়। তাই এক্ষেত্রে আপনি একেবারে উঠে পড়ুন, যতই ঘুম পেয়ে যাক আপনি আর শোবেন না, দেখবেন প্রথম প্রথম অসুবিধা হলেও পরে এটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যাবে।

প্রত্যেকটা দিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে আপনিও জেগে উঠুন, সূর্যের প্রথম আলোটা নেবার চেষ্টা করুন, দেখবেন মন সতেজ পরিতৃপ্তিতে ভরপুর হয়ে গেছে। দিনটাকে উপভোগ করার স্বাদটাই বদলে যাবে তৎক্ষণাৎ। তাছাড়া এর প্রভাবে অন্যদের তুলনায় আপনার স্নায়ু অনেক বেশি ভালো কাজ করতে তৎপর হয়ে উঠবে ব্রেনের কগনিটিভ অঞ্চল আরও কার্যক্ষম হবে।

সারাদিন নানা ব্যস্ততা আমাদের গ্রাস করতে থাকে, কত চিন্তা থাকে, কত কিছু মনে রাখতে হয়এসবের পর ঘুমানোটা অবশ্যই জরুরী। এতে মনে রাখার ক্ষমতা অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। তুলনায় কাজে অনেক বেশি সাফল্য আসে। ঘুম থেকে উঠে আবার কাজে লেগে যেতে হবে এই ভেবে বিছানায় বালিশ আঁকড়ে শুয়ে থাকা মোটেই ভালো না। সকালে উঠলে মন মস্তিষ্ক দুটোই সতেজ হয়ে উঠবে।

আর সকালে উঠে মন তাজা থাকলে আর কি চাই!!কথায় বলে, মন ভালো থাকলে শরীর যেন সবকিছুই ভালোলাগে। 

তবে হ্যাঁ প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন আর ওঠার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে তা অভ্যাস হয়ে গেলে আর সকালে উঠতে কষ্ট হবে না, ঝিমোনো ভাবও আসবে না।

সারারাত একটানা ঘুম এর ফলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায়। ফলে শরীর তখনই চাঙ্গা হয়ে ওঠে না। তাই তিন মিনিট মতো যোগা করে নিন। ফলে সহজেই রক্ত সঞ্চালন আবার বেড়ে যাবে। আপনার শরীর টাও ঝরঝরে হবে।

এছাড়া এক গ্লাস জল ঘুম ভাঙার পক্ষে যথেষ্ট। সারারাত ঘাম এর সাথে অনেক পরিমান জল দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে ভোরের দিকে জল তেষ্টা পায়। এই সময় এক গ্লাস জল পান করলে তেষ্টা মিটবে, সাথে সাথে শরীরের গ্লানি কেটে গিয়ে দেহ অনেকটা সজাগ হবে।

ঘুম ভাঙাতে সবাই কম বেশি অ্যালার্ম ব্যাবহার করেন। কিন্তু অ্যালার্ম বেজে বেজে বন্ধ হয়ে যায় তবু ঘুম আর ভাঙে না। অনেকে আবার অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার শুয়ে পড়ে। তাই এটা এড়াতে উচ্চ আওয়াজ অ্যালার্ম দেন। এটা মোটেই ঠিক না।ধীরে ধীরে আস্তে অ্যালার্ম বাজলে আপনি আস্তে আস্তে সময় নিয়ে জেগে উঠুন, কিন্তু তৎক্ষণাৎ উঠলে শরীর ম্যাচম্যাচ করবে ভালো লাগবে না।