স্বাধীনতাকে মর্যাদা দেয় ইসলাম

ID 133762842 © Tinnakorn Jorruang | Dreamstime.com

স্বাধীনতা সর্বক্ষেত্রেই কাম্য, সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির বেঁচে থাকার লড়াইয়ের পরে যে লড়াইটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো স্বাধীনতার লড়াই। অন্য রাষ্ট্রের করা সমস্ত অত্যাচার, সংগ্রাম, নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা বন্ধ হয়ে বাংলাদেশের বুকে নেমে এসেছিল স্বাধীনতা। এটা এক অন্যরকম উৎসব,  সমস্ত উৎসবের থেকে আলাদা ও সর্বোচ্চ সীমায় এর অবস্থান। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের ফলে মিলেছিল এই স্বাধীনতা। মানুষের জীবনে এ এক আনন্দের দিন, পরাধীনতা থেকে মুক্তির স্বাদ মেলার দিন, নিজের নীতিতে পথ চলা। সবাই নিজের ধর্ম, নিজের কর্ম নিজের ইচ্ছামতো করবে এটাই আল্লাহর নির্দেশ। স্বাধীনতা পাওয়া মানুষের একটা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, যেটা একজন সন্তান মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীর মাটিতে পা রাখার সাথেই তাকে আল্লাহ দিয়ে থাকেন। তিনি সবার জন্য স্বাধীনতা চেয়েছেন, ভেবে দেখুন তিনি কতটা উদার, তিনি চাইলেই কিন্তু সবাইকে এক সাথে মুমিন বানাতে পারতেন কিন্তু তা করলেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ-তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমার প্রভু-প্রতিপালক ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই অবশ্যই এক সাথে ঈমান নিয়ে আসত। তবে কি তুমি মুমিন হওয়ার জন্য মানুষের ওপর বল প্রয়োগ করবে?’ (সুরা ইউনুস:আয়াত ৯৯)।

শুধু কি স্বাধীনতা! ইসলাম শুধু স্বাধীনতাকেই না তার সাথে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধকেও সম্মানও মর্যাদা দিয়েছে।

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) নিজে একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন, মাতৃভূমির প্রতি তার মোহাব্বত নীচের ঘটনা গুলিতে তুলে ধরা হলো।

মক্কার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন রাসুল (সাঃ) “হে মক্কা! তুমি আমার কাছে সমস্ত স্থান থেকে অধিক প্রিয়, আমি মক্কাকেই ভালোবাসি। আমার মন মানছে না। কিন্তু তোমার লোকেরা আমাকে এখানে থাকতে দিল না, সব কিছুর মালিক তুমি। মক্কার মানুষদের ঈমানের আলোয় উজ্জল করো। ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করো” (মুসনাদআহমদ ও তিরমিযি)। স্বদেশের প্রতি টানের জন্যই তার মুখ দিয়ে এই কথা গুলো বেরিয়ে এসেছে। স্বদেশকে তিনি গভীর ভাবে ভালোবাসতেন, তাইতো মক্কা থেকে মদিনার পথে যেতে যেতে তার চোখে অশ্রুর উদয় হয়েছিল।

নিজেকে নবী যতটা না ভালোবেসেছেন তার থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমি, তাঁর প্রিয় জন্মভূমি কে। একেই তো দেশ প্রেম বলে। দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা যার সেই তো একজন আদর্শ দেশপ্রেমিক।

মাতৃভূমির প্রতি মহানবীর (সা.) ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশটা লক্ষ্য করুন , হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘আমি খায়বর অভিযানে খাদেম হিসেবে মহানবীর (সা.) সাথে ছিলাম। অভিযান শেষে রসুল (সা.) যখন ফিরে এলেন, উহুদ পাহাড় তার চোখে পড়লে নবীজীর চেহারায় আনন্দের আভা ফুটে উঠল আর তখন মহানবী (সা.) বললেন, এই উহুদ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও একে ভালোবাসি” (বুখারি ও মুসলিম)।

মহান নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উদাহরণ থেকেই বোঝা যায় ইসলামে স্বাধীনতার গুরুত্ব কত। জন্মভূমির প্রতি প্রত্যেকটি মুসলমান চিরকাল ঋণী। আমরা আল্লাহতায়ালার কাছে চিরকৃতজ্ঞ যে তিনি আমাদের তওফিক দিয়েছেন স্বাধীন দেশে মাথা উঁচু করে বাঁচার।