স্বাভাবিক জীবনের সকল কাজ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে করার চেষ্টা করুন

ID 51481794 © Rasoul Ali | Dreamstime.com

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা সব সময় কোন না কোন কাজ করে থাকি। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকি। রান্না, গোসল, আহার গ্রহণ, উপার্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করা থেকে শুরু করে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা নানা রকম কাজ করে থাকি। এই সমস্ত কাজ দিয়ে আমরা আল্লাহর ইবাদত করতে পারি।

এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই সমস্ত কাজ দিয়ে আমরা কিভাবে আল্লাহর ইবাদত করব? আমরা যখন আহার গ্রহণ করি , তখন যদি আমরা চিন্তা করি এই মুহূর্তে এই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ অভুক্ত অবস্থায় রয়েছে, বা আমি কারো না কারো থেকে ভালো খাবার খেতে যাচ্ছি। সুতরাং আল্লাহ আমার রিজিকে এইযে উত্তম খাবার দান করছেন এজন্য তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এই খাবার থেকে যে পুষ্টি সংগ্রহ হবে এবং তার দ্বারা আমার শারীরিক শক্তি অর্জন হবে সেই শক্তি দিয়ে আমি আল্লাহর ইবাদত করতে পারব। নিজের ও অন্যের উপকার করতে পারব। এবং স্রষ্টার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, শুকরিয়া সাথে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর এবাদত করতে পারি।

আমরা একটা বড় সময় ইবাদতের বাইরে কাটাই । এই বড় সময়টিকে আমরা ইবাদতের কাজে লাগাতে পারি। আমাদের স্বাভাবিক জীবনের সকল কাজ যদি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে করে থাকি তবে আমাদের প্রার্থনার সময় এর ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।

কেউ যদি সৎ ভাবে অর্থাৎ হালাল পন্থায় উপার্জন করেন এবং তা স্রষ্টার পথে ব্যয় করেন তবে সেই উপার্জন এবং এই বায় ইবাদত হয়ে উঠে। রাসূল (সা.) এর এক হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের জন্য হালাল উপার্জন প্রথম শর্ত।

রাসূল (সা.) এর অপর এক হাদীসে এসেছে, নিজের পরিবারের মুখে আহার্য তুলে দেওয়ার জন্য উপার্জন সদকার সমতুল্য। সুতরাং, এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত হতে পারে। কেউ যদি ঘুমাতে যাওয়ার সময় তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার নিয়ত করে ঘুমায়, তবে তার সম্পূর্ণ ঘুমটি আল্লাহর ইবাদতে পরিণত হবে। কেউ যদি চিন্তা করে, আমি আমার পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার গঠনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করবো, তবে তার পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার গঠনের জন্য যত কাজই সে করে, তা ইবাদতে পরিণত হয়।

এখানে মূল বিষয়টি হচ্ছে আপনি যে কাজটি করুন না কেন আপনাকে সব সময় স্রষ্টার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে। যে কাজ করতে নিষেধ করা রয়েছে এ কাজ বর্জন করা, আর যে কাজ করতে বলা হয়েছে বা উৎসাহিত করা হয়েছে শেখাচ্ছে শুকরিয়া সাথে মনোযোগ দিয়ে করাও এবাদত। অর্থাৎ জীবনের সকল কাজেই এবাদত হতে পারে যদি আমরা তা শুধুমাত্র স্রষ্টার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করতে পারি।

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে তোওফিক দান করুক যাতে আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি কাজকে আল্লাহর এবাদত এ পরিণত করতে পারি।