SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

স্বামীর দায়িত্ব কী সুখী দাম্পত্য জীবন গঠনে?

পরিবার ১৫ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
স্বামীর দায়িত্ব
Photo by Jasmine Carter from Pexels

মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সুস্থ সম্পর্কের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। সুখী পরিবার গঠনে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে পরিবারের কর্তা হিসেবে স্বামীর দায়িত্ব অনেকাংশেই বেশি। তাই আজকের নিবন্ধে আমরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সুখী দাম্পত্য জীবন গঠনে স্বামীর কিছু দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করব।

সুখী ও আদর্শ পরিবারের কর্তা হিসেবে একজন স্বামী নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি খেয়াল রাখবেনঃ

দ্বীনদার স্ত্রী গ্রহণ করা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে বিবাহ করার ইচ্ছা করে, সে যেন দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেয়।” অন্য হাদিসে এসেছে, “চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে তোমরা মেয়েদের বিয়ে করো। সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য্য ও দ্বীনদারি। আর তুমি দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (বুখারি)

মনের ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করা

খাদিজা(রাযিঃ) সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার মনে খাদিজার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হয়েছে।” (মুসলিম) এছাড়া তিনি আয়েশা(রাযিঃ) সম্পর্কে বলেছেন, “সকলের মধ্যে আয়েশা আমার কাছে এমন প্রিয়, যেমন সকল খাবারের মধ্যে ‘ছারীদ’ (আরবের এক ধরনের বিশেষ খাবার) আমার কাছে বেশি প্রিয়।” (বুখারি) তাই স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কথা তাঁর নিকট মুখে প্রকাশ করুন।

স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা

স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা পারিবারিক সুখের মূল চাবিকাঠি। তার অধিকারগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে হবে। তার ন্যায্য অধিকার তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। তার নিত্যদিনের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণ করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে তার পরিবারের নিকট উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের নিকট তোমাদের সকলের চেয়ে উত্তম।” (তিরমিযী)

সব সময় স্ত্রীর প্রতি আন্তরিক থাকা

স্ত্রীর সঙ্গে সবসময় আন্তরিকতার সাথে আচরণ করতে হবে। আয়েশা(রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন।” (ইবনে মাজাহ)

তিনি আরও বলেন, “পাত্রের যে অংশে মুখ লাগিয়ে আমি পানি পান করতাম, তিনিও সেখানে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে পছন্দ করতেন।” (মুসলিম)

স্বামীর দায়িত্ব নিজেকে পরিপাটি রাখা

সকল পুরুষই তাদের সঙ্গিনীকে সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করেন। ঠিক একইভাবে স্ত্রীরাও কিন্তু তাদের সঙ্গীকে সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি আমার স্ত্রীদের জন্য এমনভাবে পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন আমি তাদেরকে সাজগোজ করে থাকতে পছন্দ করি।” (বায়হাকী)

স্ত্রীর মনোরঞ্জন

পারিবারিক শান্তি লাভের জন্য স্ত্রীর মনোরঞ্জন অপরিহার্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে বিনোদনমূলক আচরণ করতেন। আয়েশা(রাযিঃ) এক সফরে নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি তার সঙ্গে দৌড়

প্রতিযোগিতা করে তার আগে চলে গেলাম। অতঃপর(অন্য আরেক সফরে) আমি বয়সের কারণে মোটা হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। কিন্তু এবার তিনি আমাকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন, এ বিজয় হল পূর্বের সেই বিজয়ের বদলা।” (আবু দাঊদ)

স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করা

জীবনের যে কোনো বিষয়ে জীবন সঙ্গিনীর মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। নবীজি শুধু তাঁর ঘরোয়া বিষয়েই নয়, বরং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর স্ত্রীদের নিকট হতে মতামত নিতেন। ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামক ইসলামি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে নবীজি তাঁর স্ত্রী উম্মে সালমা(রাযিঃ)-এর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় যা অতি কার্যকরী বলে বিবেচিত হয়েছিল।

একে অপরের কাজে সহযোগিতা

নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা(রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল যে, “নবীজি কি তাঁর পরিবারের লোকদেরকে ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করতেন?” তখন তিনি বললেন, “অবশ্যই। নবীজি ঘরের লোকদেরকে তাদের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য বেরিয়ে যেতেন।” (বুখারি) তাই সুখী জীবন গঠনের জন্য স্বামীর উচিত সুযোগ পেলেই পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করা।

পরিবারের সঙ্গে অধিক সময় কাটানো

উকবা বিন আমের(রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তির পথ কী, তা জানতে চাইলাম। উত্তরে তিনি তিনটি উপদেশ দিলেন। ১) কথাবার্তায় আত্মসংযমী হবে। ২) পরিবারের সঙ্গে তোমার অবস্থানকে দীর্ঘ করবে। ৩) নিজের ভুল কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হবে।” (তিরমিযী)

আল্লাহর কাছে দু’আ করা

পরিবারে সুখ-শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করতে হবে। কীভাবে দু’আ করতে হবে আল্লাহ আমাদেরকে তাও শিখিয়ে দিয়েছেন। “হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের জন্য আদর্শস্বরূপ করুন।” (আল কুরআন-২৫:৭)