স্বাস্থ্যকর উপায়ে ‘বুড়ো’ হওয়ার কার্যকরী টিপস

ID 158959255 © Volodymyr Tverdokhlib | Dreamstime.com
ID 158959255 © Volodymyr Tverdokhlib | Dreamstime.com

সময় প্রবাহমান, এর গতি অপ্রতিরোধ্য কিন্তু সময়ের এই গতিকে আপনি আপনার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, মানুষের দীর্ঘ জীবনযাত্রা জেনেটিক্স এর উপর ৭০% নির্ভরশীল। নিউ ইয়র্ক সিটির আন্তর্জাতিক দীর্ঘ জীবনকাল গবেষণা কেন্দ্রের মতে, বেশ কিছু উপায়ে আমাদের সম্পূর্ণ জীবনকালে ঘটতে যাওয়া অনেক শারীরিক পরিবর্তন প্রতিরোধ করা যেতে পারে, যেমন হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস ধীর করা, পেশীর গঠন মজবুত এবং পেশীর শক্তি বৃদ্ধি করা।
নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি আপনাকে দীর্ঘ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে সহায়তা করতে পারে:

১। ভারোত্তলন চর্চা করুন – এটি পেশীর গঠন মজবুত করে এবং এর বিভিন্ন ত্রুটি দূর করে পেশি শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

২। ধূমপান ত্যাগ করুন – ধূমপান হৃদরোগ এবং অনেক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুসাস্থ্যের জন্য এখনি ধূমপান বর্জন করুন।

৩। প্রচুর ফলমূল এবং শাকসবজি খান – দিনে ৫ থেকে ৯ বার ফলমূল ও শাকসবজি খেলে তা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরি করে।

৪। ওজন বাড়ানো রোধ করতে সচেষ্ট হোন – টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সাথে অতিরিক্ত ওজন সরাসরি যুক্ত। তাই আপনার শরীরের ওজন যেন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৫। নিয়মিত হাঁটাচলা করুন – নিয়মিত হাঁটাচলা করলে হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচা যায়।  কেননা এর ফলে আমাদের হৃৎপিণ্ড সক্রিয় এবং মজবুত থাকে ।  তাই নিয়মিত হাঁটাচলা করুন।

৬। মানসিকভাবে সক্রিয় থাকুন – বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মানসিক সুসাস্থ্যকে সুন্দর এবং সতেজ করতে সহায়তা করে। তাই সামাজিক বিভিন্নত কাজে নিজেকে জড়িত রাখুন।

৭। দুশ্চিন্তা হ্রাস করুন – দুশ্চিন্তা হল সেই সব  অনুঘটকগুলোর মধ্যে একটি যেগুলো হরমোনাল চেইনকে বাধাগ্রস্ত করে এবং বার্ধক্যের প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। নিজেকে দুশ্চিন্তা  করা থেকে বিরত রাখুন।

৮। পর্যাপ্ত ঘুম দিন – সঠিক ঘুমের অভাব আপনার চাপ সহ্য করার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।  প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম দিন এবং ঘুমের সময় কে নির্দিষ্ট করুন।  সাস্থ্য বিজ্ঞানীদের অভিমত এই যে,  একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন 8 ঘন্টা ঘুমানো উচিত এবং রাতে কোনভাবেই  বেশিক্ষণ জেগে থাকা যাবে না।

৯। কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খান – আপনি যদি সুস্থ থাকতে এবং শরীরে বয়সের ছাপ রোধ করতে চান তাহলে আপনাকে কম ফ্যাট যুক্ত খাবার খেতে হবে। এটি ওজনকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার এবং হার্টের অসুখ থেকে বাঁচার সেরা একটি উপায়।

১০। অনেক সময় দেখা যায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না। এর ফলে তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই যখন শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তখন রোগীর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে হাসপাতালে থাকা রোগীকে বাসা থেকে তৈরি করা খাবার এনে খাওয়ান। এক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং তাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিন রোগীকে কি কি খাবার খাওয়ানো যাবে। রোগীর পুষ্টি নিশ্চিত করতে সে সকল খাবারই রোগীকে দিন।

১১। আপনার চিকিৎসা ব্যয়কে নিশ্চিত করার জন্য আপনি বিভিন্ন ধরনের বীমা করে রাখতে পারেন। এর সুবিধা হল যখন আপনার অর্থের প্রয়োজন হবে বীমা কোম্পানি আপনাকে সেই অর্থ প্রদান করবে। তাই ভবিষ্যতে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আমরা মানুষকে বীমা করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

১২। নতুন অস্ত্রোপচার কৌশলগুলি বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এমন বেশ কিছু আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে মূত্রাশয় সক্রিয় রাখা সম্ভব । অন্যদিকে, নার্ভ-স্পিয়ারিং প্রোস্টেটেক্টোমি প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

১৩। আপনার বয়স যত বাড়বে ঠিক ততই আপনাকে নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ এর ভিতর থাকতে হবে। এর ফলে আপনি বিভিন্ন রোগ থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন। যেমনঃ ক্যান্সারের জন্য বার্ষিক স্ক্রিনিং; এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য রক্তের গ্লুকোজ মনিটর এবং টেস্ট স্ট্রিপের মতো চিকিত্সা নিয়মিত করানো উচিত।

পরিশেষে বলা যায় যে আপনার সচেতনতাই পারে আপনাকে সুস্থ ও সবল রাখতে। শরীরের যত্ন নিন এবং সুস্থ থাকুন।