স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া মানে পাতে কী কী থাকবে?

dreamstime_s_92674809

আসুন স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে কিছু টিপস শেয়ার করা যাকঃ

খাদ্য মানুষের জীবনের একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয়।

এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু তারপরও আমরা কেউই মেনে চলি না। যার দরুন অসুস্থতা হয়ে যায় আমদের জীবনসঙ্গী।

আপনি কি শুধু বেঁচে থাকার জন্য যা ইচ্ছে তাই খেয়ে থাকেন? নাকি সুস্থ এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থেকে জীবনকে উপভোগ করতে চান?

আমাদের আশপাশে থাকা বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূলে ছড়িয়ে রয়েছে এসব মাল্টিভিটামিন অথচ না জানা থাকার কারণে আমরা একদিকে যেমন সহজলভ্য এসব খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিতে বঞ্চিত হচ্ছি অন্যদিকে ঔষধের দোকান থেকে মাল্টিভিটামিন কিনতে গিয়ে অযথা নষ্ট করছি মুল্যবান টাকা পয়সা।

শরীরের জন্য প্রয়োজন সবকিছুই

প্রতিদিন একই ধরনের খাবার কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় বিভিন্ন রকমের ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখুন। তাছাড়া খাবারের গুণগত মানটাই বড়, খাবারের পরিমাণ নয়।

এই যেমন- প্রোটিন শরীরের ওজন না বাড়িয়ে মানসম্পন্নভাবে শক্তি সরবরাহ করে, যা কোষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আঁশযুক্ত খাবার

খাবারের তালিকায় যথেষ্ট পরিমাণে আঁশযুক্ত শষ্যদানা রাখুন। বিশেষ করে সকালের নাস্তায় বিভিন্ন শষ্যদানা, গম, ভুট্টা, ফল এবং দই থাকতে পারে। এতে ঝটপট পেট ভরে এবং পেট পরিষ্কারও থাকে। অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তবে ফল মানেই আপেল, আঙুর নয়। বরং যখন যে ফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মৌসুমি ফল খান। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

তাজা ফল এবং শাক-সবজি

প্রতিদিন খাবারের তালিকায় শিম, মটরশুটি, বরবটির মতো আঁশযুক্ত সবজি ও যথেষ্ট ফল থাকা প্রয়োজন। এ সব শরীরে চিনি নিয়ন্ত্রণে যেমন সাহায্য করে, তেমনি হৃদরোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। বাঁধাকপি, ফুলকপি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দিনে কয়েকবার শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিত। যারা ফলমূল এবং শাক-সবজি বেশি খান, তাদের হাঁপানি বা অ্যালার্জির ঝুঁকিও নাকি কম থাকে।

ফাস্টফুডকে ‘না’ বলুন

দোকানে তৈরি ‘ফাস্টফুড’ বা ‘রেডিমেড’ খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। এগুলোতে লুকিয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং নানা রকম ক্ষতিকারক জিনিস।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে ফাস্টফুড হাঁপানি হওয়ার শঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। তাই ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

ব্রেনের জন্য খাবার

মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজন শর্করা এবং গ্লুকোজ। এটা থাকে বিভিন্ন ফল, রুটি, মিষ্টি আলু, নুডলস, মাছ-মাংস, কাঠবাদাম প্রভৃতিতে। তাই অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের বাদাম নিয়মিত খাওয়া জরুরি। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদানগুলো রয়েছে। দেখা গেছে, সপ্তাহে দুই বা তিনদিন বিভিন্ন রকমের বাদাম খেলে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। ডিমের কুসুমও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।

দুধ বা দুধের তৈরি খাবার

প্রতিদিন খাবারের তালিকার দুধ রাখা উচিত। তবে আজকাল অ্যালার্জির কারণে অনেকেরই সরাসরি দুধ খেতে পারেন না। সেক্ষেত্রে দুধের তৈরি অন্যকিছু খাওয়া যেতে পারে। দুধে রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। তাই একে সুসম খাদ্যও বলে। 

পানীয় বেশি, লবণ-চিনি কম

প্রতিদিন কমপক্ষে এক থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত। তবে মিষ্টি মিশ্রিত পানীয় নয়, অর্থাৎ কোলা, ফান্টা বা এ জাতীয় কিছু নয়। উচ্চরক্তচাপ বা ডায়বেটিস এড়িয়ে নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে লবণ ও চিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখুন। লক্ষ্য রাখবেন, চিনির ক্ষেত্রে তা যেন হয় প্রকৃতিক উপায়ে তৈরি, অর্থাৎ ব্রাউন চিনি আর লবণ যেন হয় আয়োডিন এবং ফ্লোরাইড যুক্ত।

 ধীরে-সুস্থে চিবিয়ে খান

খাবার তাড়াহুড়ো করে খেলে বেশি খাওয়ার ভয় থাকে। এতে ওজন বাড়ে এবং তা হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়। তাই খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। এতে অর্ধেক হজম হয়ে যায়। তাছাড়া আপনি কী খাচ্ছেন, কেন খাচ্ছেন তা বুঝে শুনে খান, অর্থাৎ খাবার উপভোগ করুন। আপনি যা খাবেন, ঠিক সেরকমই ‘বোধ’ করবেন অর্থাৎ আপনার ‘পারফরমেন্স’ নির্ভর করবে আপনার খাওয়ার ওপর। আর চেহারাতেও তার প্রমাণ ফুটে উঠবে। 

সুস্থ থাকতে হলে হেলদী ফুড হেবিট অর্থাৎ স্বাস্হ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করতেই হবে। কারণ পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ ছাড়া সুস্থ ও সুন্দর থাকা সম্ভব না।

তাই খাদ্য গ্রহণের আগে যাচাই করে নিন যে, আপনি কি খাচ্ছেন। খাদ্যতালিকায় ক্ষতিকর কিছু থাকলে আজই তা বাদ দিয়ে দিন।