স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে আখরোটের ভূমিকা অনেক

প্রতিদিনের ব্যস্ততার দৌড়ে আমরা নিজেদের প্রতি দায়িত্ব নিতে ভুলে যাচ্ছি। যার ফলে হাজারও অসুখ এসে বাসা বাঁধছে আমাদের শরীরে। কিন্তু রোজকার জীবনে কয়েকটা সাধারণ জিনিস মেনে চললেই বোধহয় শারীরিক নানা সমস্যা থেকে আমরা নিজেদেরকে দূরে রাখতে পারব। এই ক্ষেত্রে আজ আমরা আলোচনা করব আখরোটের কিছু উপকারিতার কথা। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আমরা যদি একটা বা দুটো আখরোট বাদাম রাখতে পারি, তাহলে অনেকগুলো শারীরিক সমস্যারই উপশম সম্ভব হবে।

বিশ্বে এখন দশ লাখ হেক্টরের বেশি জায়গায় আখরোট গাছের চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে আনুমানিক তিন হাজার চারশ কিলোগ্রাম আখরোট উৎপন্ন হচ্ছে। ইরানের ইতিহাস এক্ষেত্রে ব্যাপক সমৃদ্ধ। অনেকেই মনে করেন আখরোট গাছের উৎপত্তিস্থল হল ইরান। পরবর্তীকালে ইরান থেকেই আশেপাশের অঞ্চলে বিস্তৃতি লাভ করেছে আখরোট গাছ। ইরানে এখন দেড় লাখ হেক্টর ভূমিতে আখরোট বাগান রয়েছে। বছরে দুই লাখ টনের বেশি আখরোট উৎপন্ন হয় ইরানে। যার বাজার মূল্য দেড়শ কোটি ডলারের বেশি। উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে ইরানের অবস্থান তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বহির্বিশ্বেও রপ্তানি করা হয় ইরানের আখরোট। গুণগত মান বিচারে ইরানের আখরোট বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। ইরানের আখরোট ইরাক, তুরস্ক, জার্মানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অন্তত ত্রিশটি দেশে রপ্তানি করা হয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি উৎপাদনগত এবং উৎকর্ষগত দুই দিক থেকেই এই আখরোটের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আখরোটের চাষ হয় জম্মু-কাশ্মির, অরুণাচল প্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাঞ্চলের মতো ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে। জম্মু-কাশ্মিরে আখরোটের উৎপাদন সবথেকে বেশি হয়। 

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে– বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে যে আখরোটে রয়েছে ওমেগা থ্রি, প্রোটিন এবং ফাইবার… আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন এই প্রত্যেকটি উপাদানই ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে থাকে। সুতরাং, রোজের খাদ্যতালিকাতে একে রাখা যেতে পারে।

চুল ভাল রাখতে– আখরোটের মধ্যে রয়েছে বায়োটিন যা আমাদের চুল ভাল রাখতে সাহায্য করে। চুলের পুষ্টি বাড়াতে এবং চুল মজবুত করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।

অনিদ্রা দূর করতে– আমরা এখন প্রত্যেকেই আমাদের জীবন নিয়ে বেশ ব্যস্ত… অতিরিক্ত শারীরিক এবং মানসিক শ্রমের কারণে আমরা অনেকেই অনিদ্রাজনিত সমস্যাতে ভুগে থাকি। এই সমস্যা থেকে বেরোতে চাইলে খাদ্য তালিকাতে অবশ্যই রাখতে পারেন আখরোট। আখরোটের মধ্যেকার মেলাটোনিন নামক পদার্থ অনিদ্রা জাতীয় সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে– বাদামজাতীয় যে কোনও শস্যই ডায়াবেটিস রোগটি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে আখরোট খাদ্য তালিকাতে থাকলে আমাদের টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে– যে-কোনও প্রকারে বাদামের মধ্যে আখরোটে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের ক্ষতিকারক পদার্থকে ধ্বংস করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। শরীর থেকে ক্ষতিকারক বর্জ্য বেরিয়ে যাওয়ার কারণে হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ-একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে আখরোটে থাকা ভিটামিন ই, মোলাটোনিন, ওমেগা ৩, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে, স্মৃতিশক্তির বিকাশে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।

আলঝাইমারস প্রতিরোধ: কাঠবাদাম, আখরোট এবং হেইজেল নাট খেলে মস্তিষ্কের কার্যকরিতা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা যায়, যে সব মানুষের শরীরে আলঝাইমারস নামক স্মৃতি লোপ পাওয়া রোগের জিন রয়েছে তারা যদি নিয়মিত বাদাম খান তবে এ রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আখরোটে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় অধিক সহায়তা করে।

সুতরাং, এতগুণাগুণ সমৃদ্ধ খাবারটি আমরা সহজেই নিজেদের খাদ্যতালিকাতে যুক্ত করতে পারি।